বাঙ্গালী
Friday 19th of April 2019
  479
  0
  0

ইমাম রেজা (আ.) যেভাবে ধূর্ত মামুনের উত্তরাধিকারী ঘোষণা সংক্রান্ত চাল বানচাল করেন

৪ জুলাই (রেডিও তেহরান): আজ হতে ১২৩৪ বছর আগে ২০১ হিজরির এই দিনে খোরাসানের মার্ভ শহরে (বর্তমানে তুর্কমেনিস্তানের একটি শহর) বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য ও অষ্টম ইমাম হিসেবে খ্যাত হযরত ইমাম রেজা (আ.)-কে যুবরাজ তথা নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করে আব্বাসীয় খলিফা মামুন।


এক জটিল ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ উপলক্ষে ব্যাপক উতসবের আয়োজন করেছিল ধূর্ত খলিফা মামুন। আসলে তার এই কাজের উদ্দেশ্য ছিল মহানবীর (দ.) পবিত্র বংশধারা বা আহলে বাইতের অনুসারীদের মন জয় করে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা এবং আহলে বাইতের পবিত্র ভাবমর্যাদাকে কালিমালিপ্ত করা।
উতসব অনুষ্ঠানে দরবারের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং মামুনের নিজ পুত্র আব্বাস ও সাধারণ জনতা ভবিষ্যত খলিফা হিসেবে হযরত ইমাম রেজা (আ.)'র প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন। এই মহান ইমামের নাম-খচিত মুদ্রা চালু করা হয়। এ ছাড়াও আব্বাসীয়দের রাষ্ট্রীয় রঙ্গ কালো থেকে বদলে সবুজ করা হয়েছিল।


ধূর্ত খলিফা মামুনুর রশিদ মুসলমানদের মধ্যে বিশ্বনবী (সা.)'র আহলে বাইতের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত ছিল এবং এর ফলে আব্বাসীয়দের খিলাফত বৈধতা হারাতে পারে বলে তার আশঙ্কা বাড়ছিল। কারণ, নবী(সা.)- বংশের কাছে খিলাফত ফিরিয়ে দেয়ার শ্লোগান তুলে জনপ্রিয় গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে উমাইয়াদেরকে খিলাফতের ক্ষমতা থেকে উতখাত করা হয়েছিল। অথচ আব্বাসীয়রা নবী(সা.)- বংশের কাছে ক্ষমতা না দিয়ে নিজেরাই ক্ষমতা দখল করে। (আব্বাসীয়রা ছিল বিশ্বনবী (সা.)'র চাচা হযরত আব্বাস (রা.)'র বংশধর।) জনগণ আব্বাসীয়দের এই প্রতারণার কথা কখনও ভুলতে পারেনি।


এই প্রেক্ষাপটে খলিফা মামুন মদীনা থেকে হযরত ইমাম রেজা (আ.)-কে তার রাজধানী তথা সুদূর খোরাসানের মার্ভে আসতে বাধ্য করেন। মামুন ইমামের কাছে খেলাফত হস্তান্তর করতে চায় বলেও ঘোষণা করে। কিন্তু ইমামের প্রজ্ঞাপূর্ণ তাতক্ষণিক উত্তর মামুনের চক্রান্ত বানচাল করে দেয়। হযরত ইমাম রেজা (আ.) মামুনকে বললেন: "যদি খিলাফত সত্যিই তোমার অধিকার হয়ে থাকে এবং আল্লাহ তোমাকে তা আমানত হিসেবে দান করে থাকেন তাহলে তা অন্যের কাছে ত্যাগ করা তোমার উচিত হবে না; আর এই খিলাফত যদি তোমার না হয়ে থাকে তাহলে তা তুমি অন্যকে কিভাবে দান করবে যা তোমার নিজের নয়?"


কিন্তু মামুন দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমামের ওপর নানা পন্থায় চাপ দেয়া অব্যাহত রাখে এবং এমনকি গোপনে ইমামকে হত্যারও হুমকি দেয়। খিলাফতের পদ গ্রহণ না করলেও ইমাম যেন অন্ততঃ যুবরাজের পদ তথা পরবর্তী খলিফা হওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেন সে জন্য চাপ দিতে থাকে মামুন। ফলে মামুন(৩১) ইমামের(৫৩) চেয়ে ২২ বছরের ছোট হওয়া সত্ত্বেও শর্ত-সাপেক্ষে ওই প্রস্তাব মেনে নেন ইমাম রেজা (আ.)। যেমন, একটি শর্ত ছিল এটা যে, রাজকীয় পদে কারো নিয়োগ বা পদচ্যুতির কাজে ইমামের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। ইমামের এ ধরনের সতর্ক পদক্ষেপের ফলে মামুনের অসত উদ্দেশ্যগুলো বানচাল হয়ে যায় এবং জনগণের মধ্যে ইমামের প্রভাব দিনকে দিন বাড়তেই থাকে। ফলে দুই বছর পর ২০৩ হিজরিতে মামুন খাদ্যে বিষ প্রয়োগ করে এই মহান ইমামকে শহীদ করে এবং তার রাজধানী মার্ভ থেকে বাগদাদে ফিরিয়ে আনে। #

  479
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article

      ‘১০ বছরের মধ্যে ব্রিটেন হবে মুসলিম ...
      প্রাচীন ইসলামি নিদর্শন ধ্বংস করার ...
      ব্রাসেলসে ইহুদি জাদুঘরে হত্যাকাণ্ড ...
      রজব মাসের ফজিলত ও আমল
      সাড়ে ৫ হাজার ইরাকি বিজ্ঞানীকে হত্যা ...
      ইরান পরমাণু বোমা বানাতে চাইলে কেউই ...
      অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি আফজাল গুরুর ...
      ধর্ম নিয়ে তসলিমার আবারো কটাক্ষ
      ব্রিটিশ ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছিল ...
      মিয়ানমারের সর্বত্র সাম্প্রদায়িক ...

 
user comment