বাঙ্গালী
Sunday 26th of May 2019
  1468
  0
  0

নামাযে সন্দেহসমূহ

নামাযে সন্দেহের প্রকারভেদ
১- নামাযের অংশসমূহে সন্দেহ:
ক)- নামাযের পরবর্তি অংশে প্রবেশের পূর্বে (১)
খ)- নামাযের পরবর্তি অংশে প্রবেশের পরে (২)
২- নামাযের রাকায়া'তে সন্দেহ:
ক)- যে সন্দেহ নামাযকে বাতিল করে দেয় (৩)
খ)- যে সন্দেহ নামাযকে বাতিল করে না (৪)
গ)- যে সকল সন্দেহকে গুরুত্ব দিতে হয় না (৫)
৩- নামাযেই সন্দেহ:
ক)- নামায আঞ্জাম দেয়ার ক্ষেত্রে সন্দেহ (৬)
খ)- নামায সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ (৭)
নামাযের অংশে সন্দেহ
(১)যদি নামাযের অংশসমূহের আংশিক কোন একটি আঞ্জাম দেয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করে, অর্থাৎ জানা নেই যে, ওই অংশটি আঞ্জাম দিয়েছে কি না সেক্ষেত্রে যদি পরবর্তি অংশ শুরু না করে থাকে অর্থাৎ ওই অংশটি আঞ্জাম দেয়ার স্থান থেকে তখনও বের না হয়ে থাকে; অবশ্যই তা আঞ্জাম দিতে হবে। তবে যদি তার পরবর্তি অংশে প্রবেশ করার পর সন্দেহ হয় যে, পূর্ববর্তি অংশটি আঞ্জাম দিয়েছে কি না, অর্থাৎ পূর্ব অংশটি আঞ্জাম দেয়ার স্থান থেকে বের হয়ে এসেছে সেক্ষেত্রে তেমন সন্দেহের প্রতি গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই এবং নামায চালিয়ে যেতে হবে ও তা সঠিক। উদাহরণ স্বরূপ: যদি সিজদাহ্‌ দেয়ার পর এবং তাশাহ্‌হুদ শুরু করার পূর্বে সন্দেহ করে যে, একটি সিজদাহ্‌ আঞ্জাম দিয়েছে না দু'টি, সেক্ষেত্রে অবশ্যই পুনরায় একটি সিজদাহ্‌ করতে হবে। তবে যদি তাশাহ্‌হুদ শুরু করে থাকে তাহলে পুনরায় একটি সিজদাহ্‌ করার প্রয়োজন নেই এবং নামায চালিয়ে যেতে হবে ও তা সাঠিক (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৬৮)।
(২)যদি নামাযের কোন একটি আংশিক বিষয় সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করে থাকে; অর্থাৎ জানা নেই যে অংশটি আঞ্জাম দিয়েছে তা কি সঠিক না সঠিক নয়। সেক্ষেত্রে তা সঠিক হয়েছে ধরে নিতে হবে এবং নামায চালিয়ে যেতে হবে ও তা সঠিক। উদাহরণ স্বরূপ: সূরা অথবা কোন শব্দ পড়েছে কিন্তু তা সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করছে সেক্ষেত্রে ওই সন্দেহের উপর কোন গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই এবং নামায চালিয়ে যেতে হবে ও তা সঠিক।
রাকায়া'তের ব্যাপারে সন্দেহ
(৩) যে সকল সন্দেহ নামাযকে বাতিল করে থাকে:
ক)- দু'রাকায়া'ত সম্পন্ন নামাযের রাকায়া'তের পরিমাণের উপর সন্দেহ। যেমন; ফজর ও সফরের নামায।
খ)- মগরেবের নামাযের রাকায়া'তের পরিমাণের উপর সন্দেহ।
গ)- এক ও একের অধিকের মধ্যে সন্দেহ।
ঘ)- দু'য়ের মধ্যে এবং তার অধিকের উপর সন্দেহ, দু'সিজদাহ্‌ শেষ হওয়ার পূর্বে।
ঙ)- জানা নেই কত রাকায়া'ত নামায পড়েছে।
চ)- এছাড়াও (২ ও ৫), (৩ ও ৬), (৪ ও ৬) এর মধ্যে সন্দেহ হলে নামাযকে বাতিল করে দেয় (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৬৫)।
মাসয়ালা: নামায বাতিল করে এমন কোন সন্দেহ যদি নামাযির হয়ে থাকে তবে সে নামায ভঙ্গ করতে পারবে না। তবে যদি একটু চিন্তার ফলে সন্দেহ পরিপক্ক হয় সেক্ষেত্রে নামায ভঙ্গ করায় কোন অসুবিধা নেই (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৬)।
(৪)যে সকল সন্দেহ নামাযকে বাতিল করে না:
যদি চার রাকায়া'ত সম্পন্ন নামাযে কোন একটি সন্দেহ নামাযির হয়ে থাকে অবশ্যই যেরূপে নিম্নে বর্ণনা করা হচ্ছে সেরূপে আমল করবে তাহলে তার নামায সঠিক হবে।
কয়েকটি মূল নির্দেশনা
১-যদি সঠিক সন্দেহের কোন একটি সামনে আসে তবুও নামায ভঙ্গ করা যাবে না। বরং অবশ্যই যে দায়িত্বসমূহ বলা হয়েছে সে অনুযায়ী আঞ্জাম দিতে হবে। আর যদি নামায ভঙ্গ করে তবে গোনাহ্‌ করল (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-২০০০)।
২-যদি সঠিক সন্দেহের কোন একটি সামনে আসে সেক্ষেত্রে অবশ্যই অল্প সময় চিন্তা করতে হবে, তখন যদি ওই সন্দেহের কোন এক পক্ষে বিশ্বাস বা অনুমান স্থির হয় তবে ওই পক্ষকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং নামায সম্পন্ন করতে হবে। আর তা না করা হয় তবে যেভাবে এর পূর্বে নির্দেশাবলী দেয়া হয়েছে সে মোতাবেক আমল করতে হবে।
৩-সঠিক সন্দেহসমূহের ক্ষেত্রে অবশ্যই বেশী পরিমাণটি ধরতে হবে। তবে যদি সন্দেহের কোন এক পক্ষে বিশ্বাস স্থাপন হয় তবে সেটাই করতে হবে।
৪-নামাযে সম্ভাব্য ঘাটতি পূরণ করার জন্যই শতর্কতামূলক নামায পড়তে হয়। সুতরাং ৩ ও ৪ রাকায়া'ত নামাযে সম্ভাব্য হচ্ছে এক রাকায়া'ত। সে জন্যে এক রাকায়া'ত শতর্কতামূলক নামায পড়া প্রয়োজন। কিন্তু ২ ও ৪ রাকায়া'ত নামাযের মধ্যে সন্দেহে দু'রাকায়া' শতর্কতামূলক নামায পড়া প্রয়োজন।
৫-সিজদায়ে সাহব, অধিক সম্ভাব্য ভুলের ক্ষেত্রে আঞ্জাম দিতে হয়। সুতরাং দু'টি সিজদাহ্‌ শেষে ৪ ও ৫ রাকায়া'ত নামাযের মধ্যে সন্দেহ এবং কিয়াম অবস্থায় ৫ ও ৬ রাকায়া'ত নামাযের মধ্যে সন্দেহের ক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহব আঞ্জাম দেয়া প্রয়োজন।
৬-যে সকল ক্ষেত্রে এক রাকায়া'ত শতর্কতামূলক নামায ওয়াজিব হবে সেক্ষেত্রে তদস্থলে বসে দু'রাকায়া'ত নামায আদায় করা যাবে।
৭-যে সকল ক্ষেত্রে দু'রাকায়া'ত শতর্কতামূলক নামায ওয়াজিব হবে সেক্ষেত্রে তদস্থলে বসে চার রাকায়া'ত নামায আদায় করা যাবে না।
৮-কিয়াম অবস্থায় নামাযির যদি সঠিক সন্দেহের কোন একটি সামনে আসে শুধুমাত্র ৩ ও ৪ রাকায়া'ত নামাযের মধ্যে ব্যতীত, সেক্ষেত্রে অবশ্যই রুকু ছাড়াই বসতে হবে। আর এই বসার মাধ্যমে সন্দেহের প্রতিটি পক্ষ থেকে একটি সংখ্যা কম হয়ে যাবে; অর্থাৎ ৪ ও ৫ রাকায়া'ত নামাযের মধ্যে সন্দেহ হলে বসে পড়ার সাথে সাথে তা ৩ ও ৪ রাকায়া'তের মধ্যে চলে আসবে আর তখন এ ক্ষেত্রে অবশ্যই যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা আঞ্জামা দিতে হবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৯৯)।
অনুশিলনী
১-নামাযি যদি তাশাহ্‌হুদ পড়ার সময় সন্দেহ করে যে, একটি সিজদাহ্‌ দিয়েছে না কি দু'টি সিজদাহ্‌ সেক্ষেত্রে দায়িত্ব কি?
২-কোন একটি শব্দ উচ্চারণের পর ওই শব্দের কোন একটি অক্ষরের সঠিক উচ্চারণের ব্যাপারে সন্দেহ করে তবে সে ক্ষেত্রে দায়িত্ব কি?
৩-যদি কোন মুসাফিরের যোহ্‌রের নামাযে ২ ও ৩ রাকায়া'তে মধ্যে সন্দেহ করে সেক্ষেতে তার দায়িত্ব কি?
৪-কিয়াম অবস্থায় ৪ ও ৫ রাকায়া'তের মধ্যে সন্দেহের ব্যাপারে নির্দেশ কি?
৫-চার রাকায়া'ত নামাযের ২ ও ৩ রাকায়া'তের মাধ্যে রুকুর পরে কিয়াম অবস্থায় সন্দেহের ব্যাপারে নির্দেশ কি?
৬-সন্দেহের কোন পর্যায়ে দু'রাকায়া'ত শতর্কতামূলক নামায পড়া ওয়াজিব হয়?
নামাযে সন্দেহসমূহ (২)
(৫) যে সকল সন্দেহের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে না
ঙ স্থান পার হয়ে যাওয়ার পর সন্দেহ (এ ব্যাপারে ুনামাযের অংশে সন্দেহ" প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে)।
ঙ সালাম দেবার পর সন্দেহ।
ঙ নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পর সন্দেহ।
ঙ অধিক সন্দেহকারীর সন্দেহ।
ঙ জামায়া'তের নামাযে ইমাম ও মামুমের সন্দেহ।
ঙ মুস্তাহাব নামাযে সন্দেহ (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৬৭)।
ব্যাখ্যা
সালাম দেবার পর সন্দেহ
১-নামাযে সালাম দেবার পর যদি নামাযি সন্দেহ করে যে, তার নামায সঠিক হয়েছে না হয় নি যেমন; সন্দেহ করছে দ্বিতীয় রাকায়া'তে একটি সিজদাহ্‌ দিয়েছে না দু'টি, অথবা চার রাকায়া'ত সম্পন্ন নামাযে সালাম দেবার পরে সন্দেহ করছে যে, চার রাকায়া'ত পড়ছে না পাঁচ রাকায়া'ত। এ সকল ক্ষেত্রে উক্ত সন্দেহের উপর গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন নেই এবং ওই নামাযটি পুনরায় পড়ারও প্রয়োজন নেই (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৭৯)।
২-যদি নামাযে সালাম দেবার পর সন্দেহ করে এবং উক্ত সন্দেহের দু'পক্ষই গ্রহণযোগ্য না হয়, যেমন; সন্দেহ করছে যে, চার রাকায়া'ত সম্পন্ন নামাযকে তিন রাকায়া'ত অথাব পাঁচ রাকায়া'ত পড়েছে। এ ক্ষেত্রে তার নামায হচ্ছে বাতিল (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৭৯)।
নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পর সন্দেহ
১-নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবার পরে যদি নামাযি সন্দেহ করে যে, ওই ওয়াক্তের নামায পড়েছে কি না যেমন; রাতে সন্দেহ করে যে, যোহ্‌র আছরের নামায পড়েছে কি না। তবে এক্ষেত্রে উক্ত সন্দেহের প্রতি গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন নেই।
২-নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবার পরে যদি নামাযি সন্দেহ করে যে, সে যে নামায পড়েছে তা সঠিক ছিল কি না। তবে এক্ষেত্রে উক্ত সন্দেহের প্রতি গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন নেই (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৮০ ও ১১৮১)।
অধিক সন্দেহকারীর সন্দেহ
অধিক সন্দেহকারী তাকেই বলা হয় যে ব্যক্তি এক নামাযে তিনবার অথাব পর পর তিন নামাযে সন্দেহ করে থাকে। যেমন; ফজর, যোহ্‌র ও আছরের নামাযে সন্দেহ করে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৮৪)।
অধিক সন্দেহকারী ব্যক্তির করণীয় বা দায়িত্ব নিম্নে বর্ণিত হল যথা:
১-নামাযের রাকায়া'তে সন্দেহ:
ক)- বেশী পরিমাণের পক্ষে সন্দেহ করলে নামায বাতিল হবে না। যেমন; চার রাকায়া'ত সম্পন্ন নামাযে ৩ ও ৪ রাকায়া'তের মধ্যে সন্দেহ করে তবে সেক্ষেত্রে ৪ রাকায়া'ত নামায পড়া হয়েছে ধরে নিবে।
খ)- বেশী পরিমাণের পক্ষে সন্দেহ করলে নামায বাতিল হয়ে যায়। যেমন; চার রাকায়া'ত সম্পন্ন নামাযে ৪ ও ৫ রাকায়া'তের মধ্যে সন্দেহ করে তবে সেক্ষেত্রে কম পড়া হয়েছে অর্থাৎ ৪ রাকায়া'ত পড়া হয়েছে ধরে নিতে হবে।
২-নামাযের অংশসমূহে সন্দেহ:
ক)- তা আঞ্জাম দেয়াতে নামায বাতিল হবে না। এক্ষেত্রে অবশ্যই ধরে নিবে যে, সে তা আঞ্জাম দিয়েছে, যেমন; সন্দেহ করছে যে, সে দু'টি সিজদাহ্‌ দিয়েছে না একটি: এক্ষেত্রে ধরে নিবে যে, সে দু'টি সিজদাহ্‌ আঞ্জাম দিয়েছে।
খ)- তা আঞ্জাম দিলে নামায বাতিল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে অবশ্যই ধরে নিবে যে, সে তা আঞ্জাম দেয় নি, যেমন; সন্দেহ্‌ করে যে, সে কি একটি রুকু আঞ্জাম দিয়েছে না দু'টি: এক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যে, সে একটি রুকু আঞ্জাম দিয়েছে (তাহ্‌রিরুল ওয়াসায়েল, খণ্ড-১, কিতাবুস্‌ সালাত, আলকাউলু ফিস্‌ সাকুকিল্লাতি লা ই'তিবারিবিহা, পৃ.-২০৭ এবং তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৮৫)।
ইমাম ও মামুমের সন্দেহ
জামায়া'তের নামাযে যদি জামায়া'তের ইমাম সন্দেহ করে কিন্তু মামুম সন্দেহ না করে এবং মামুম "আল্লাহু আকবার" বলার মাধ্যমে ইমামকে বুঝিয়ে দেয় সেক্ষেত্রে ইমাম নিজের সন্দেহের প্রতি গুরুত্ব দিবে না। অনুরূপ যদি মামুম সন্দেহ করে কিন্তু ইমাম সন্দেহ না করে সেক্ষেত্রে ইমাম যেরূপে নামায আদায় করবে মামুমও তার অনুসরণ করবে এবং তার নামায সঠিক (তাহ্‌রিরুল ওয়াসায়েল, খণ্ড-১, কিতাবুস্‌ সালাত, আলকাউলু ফিস্‌ সাকুকিল্লাতি লা ই'তিবারিবিহা, পৃ.-২০৭ এবং তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৮৫)।
মুস্তাহাব নামাযে সন্দেহ
(তাহ্‌রিরুল ওয়াসায়েল, খণ্ড-১, কিতাবুস্‌ সালাত, আলকাউলু ফিস্‌ সাকুকিল্লাতি লা ই'তিবারিবিহা, পৃ.-২০৭ এবং তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১১৯৩ ও ১১৯৫)
নামাযির দায়িত্ব বা করণীয়
১- মুস্তাহাব নামাযের রাকায়া'তসমূহের মধ্যে সন্দেহ করে তবে সেক্ষেত্রে অধিক সন্দেহকারীর জন্য যেরূপে বলা হয়েছে সেভাবেই আমল করবে।
২- নফল নামাযের অংশসমূহে সন্দেহ করে, তা রুকন অথবা অরুকন হোক না কেন:
ক)- যদি আঞ্জাম দেবার স্থান পার না হয়ে থাকে তবে অবশ্যই তা আঞ্জাম দিবে।
খ)- যদি আঞ্জাম দেবার স্থান পার হয়ে যেয়ে থাকে তবে ওই সন্দেহের উপর গুরুত্ব দিবে না।
নামাযে সন্দেহ
তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, কিতাবুস্‌ সালাত, আলকাউলু ফিশ্‌ শাক, পৃ.-১৯৮ থেকে ২০৬
(৬) নামায আঞ্জাম দেয়ার ক্ষেত্রে সন্দেহ:
ক)- ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পূর্বে এক্ষেত্রে অবশ্যই পুনরায় নামায পড়তে হবে।
খ)- ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেক্ষেত্রে তা পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই।

(৭) নামায সঠিক হবার ব্যাপারে সন্দেহ:
মাসয়ালা: যে ব্যক্তি নামায আদায়ের ক্ষেত্রে অধিকা সন্দেহের অধিকারী সে অনুরূপ সাধারণ মানুষের মতই তবে স্বীয় দ্বিধাগ্রস্ত সন্দেহের প্রতি গুরুত্ব দিবে না, যদিও সে নামাযের ওয়াক্তে সন্দেহ কওে (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, কিতাবুস্‌ সালাত, আলকাউলু ফিশ্‌ শাক, পৃ.-২০০, মাসয়ালা নং-৮)।
নামাযে অনুমান বা ধারণা করার নির্দেশ
ক)- প্রকৃত নামাযে: সন্দেহের নির্দেশ (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, কিতাবুস্‌ সালাত, আলকাউলু ফিশ্‌ শাক, পৃ.-১৯৮, মাসয়ালা নং-১)।
খ)- নামাযের রাকায়া'তে: বিশ্বাসের নির্দেশ (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, কিতাবুস্‌ সালাত, আলকাউলু ফিশ্‌ শাক, পৃ.-২০৯, মাসয়ালা নং-১)।
গ)- নামাযের অংশ বা করণীয়তায়: যে সকল ক্ষেত্রে সন্দেহের ব্যাপারে যে দায়িত্ব রয়েছে তার বিপারীত হবে সেক্ষেত্রে শতর্কতামূলক ওয়াজিব হচ্ছে অবশ্যই শতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেমন; যদি সিজদায় যাওয়ার পূর্বে কিয়াম অবস্থায় রুকু করার ব্যাপারে অনুমান বা ধারণা করে কিন্তু বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছে না সেক্ষেত্রে রুকু আঞ্জাম দিয়ে নামায চালিয়ে যেতে হবে (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, কিতাবুস্‌ সালাত, আলকাউলু ফিশ্‌ শাক, পৃ.-২০৯, মাসয়ালা নং-১)।
শতর্কতামূলক নামায
১-যে সকল ক্ষেত্রে শতর্কতামূলক নামায ওয়াজিব হবে, যেমন; ৩ ও ৪ রাকায়া'ত নামাযে সেক্ষেত্রে অবশ্যই সালাম পাঠের পরে নামাযের অবস্থার পরিবর্তন না ঘটিয়ে অথবা নামায ভঙ্গ হয় এক কোন কাজ আঞ্জাম না দিয়ে দাড়াতে হবে এবং আযান ও ইকামাহ্‌ ছাড়াই তাকবিরাতুল ইহ্‌রাম দিয়ে শতর্কতামূলক নামায পড়তে হবে (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, কিতাবুস্‌ সালাত, আলকাউলু ফিশ্‌ শাক, পৃ.-২০৯, মাসয়ালা নং-১, আলকাউলু ফি রাকায়া'তিল ইহ্‌তিয়াত, পৃ.-২১০, মাসয়ালা নং-১ ও ২)।
শতর্কতামূলক নামায ও অন্যান্য নামাযের মধ্যে যে পার্থক্য বিদ্যমান তা হচ্ছে যথা:
ক)- শতর্কতামূলক নামাযের নিয়্যাত মুখে উচ্চারণ করা যাবে না।
খ)- অন্য সূরা ও কুনুত পড়তে হবে না (যদিও তা দু'রাকায়া'ত হয়ে থাকে)।
গ)- সূরা হাম্‌দ অবশ্যই নিরবে পড়তে হবে (শকর্তামূলক ওয়াজিব)।
২-যদি এক রাকায়া'ত শতর্কতামূলক নামায ওয়াজিব হয়ে থাকে তবে দু'টি সিজদাহ্‌ দেয়ার পর তাশাহ্‌হুদ ও সালাম পড়বে। আয যদি দু'রাকায়া'ত শতর্কতামূলক নামায ওয়াজিব হয়ে থাকে তবে অবশ্যই প্রথম রাকায়া'ত শেষে তাশাহ্‌হুদ ও সালাম পড়বে না বরং অবশ্যই আরো এক রাকায়া'ত (তাকবিরাতুল ইহ্‌রাম ব্যতীত) পড়বে এবং দ্বিতীয় রাকায়া'ত শেষে তাশাহ্‌হুদ ও সালাম পড়বে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১২১৫ ও ১২১৬)।
৩-সালাম দেয়ার পর যদি ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে শতর্কতামূলক নামায না পড়ে তবে সেক্ষেত্রে শতর্কতামূলক ওয়াজিব হচ্ছে উক্ত শতর্কতামূলক নামায তো পড়বেই উপরন্ত ওই ওয়াক্তের নামাযও পুনরায় পড়বে (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, পৃ.-২১০, মাসয়ালা নং-১)।
ইসতিফতায়া
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি শুয়ে নামায পড়তে হয় সে যদি ৩ ও ৪ রাকায়া'তের মধ্যে সন্দেহ করে তবে সে অবশ্যই শতর্কতামূলক নামায এক রাকায়া'ত পড়বে, না দু'রাকায়া'ত? তা কি নিয়্যাতের সাথে সম্পৃক্ত?
উত্তর: এক রাকায়া' শুয়ে পড়া ও এক রাকায়া'ত দাড়িয়ে পড়া অথবা দু'রাকায়া'ত শুয়ে পড়া ও দু'রাকায়া'ত বসে পড়ার ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি স্বাধীন (ইসতিফতায়াত, খণ্ড-১, পৃ.-১৬৮, প্রশ্ন নং-১৫৫)।
সিজদায়ে সাহব
১-যে সকল ক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহব ওয়াজিব হয় যেমন; বসা অবস্থায় ৪ ও ৫ রাকায়া'তের মধ্যে সন্দেহ হলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই সালাম দেয়ার পর সিজদায় যেতে হবে এবং সিজদায় গিয়ে বলতে হবে:
بِسْمِ اللهِ وَ بِاللهِ الَّلهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ
"বিস্‌মিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি আল্লাহুম্মা ছল্লি আ'লা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন"
তবে এটা বলা উত্তম:
بِسْمِ اللهِ وَ بِاللهِ اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ اَيُّها النَّبِىُّ وَ رَحْمَةُ اللهِ وَ بَرَكاتُهُ
"বিস্‌মিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি আস্‌ সালামু আ'লাইকা আইয়্যূহান্‌ নাবী ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্‌"
এর পর বসতে হবে এবং পুনরায় সিজদায় যেতে হবে, আর সিজদায় গিয়ে উল্লিখিত যে কোন একটি যিকির বললেই যথেষ্ট হবে। যিকির শেষে বসতে হবে এবং তাশাহ্‌হুদ ও সালাম দিতে হবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১২৫০)।
২-সিজদায়ে সাহবে তাকবিরাতুল ইহ্‌রাম নেই।
৩-সিজদায়ে সাহবের বিভিন্ন ক্ষেত্র যথা:
ক)- ওয়াজিব:
১- নামাযের মধ্যে ভুলবশত: কথা বললে।
২- দু'সিজদার একটি সিজদাহ্‌ দিতে ভুলে গেলে এবং তা পরবর্তি রাকায়া'তের রুকু অবস্থায় স্মরণে আসলে।
৩- চার রাকায়া' সম্পন্ন নামাযে বসা অবস্থায় ৪ ও ৫ রাকায়া'তের মধ্যে অথবা দাড়ানো অবস্থায় ৫ ও ৬ রাকায়া'তের মধ্যে সন্দেহ করা। (পূর্বের পাঠসমূহের এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে)
খ)- শতর্কতামূলক ওয়াজিব:
১- নির্দিষ্ট পর্যায়ে সালাম না দেয়া, যেমন; চার রাকায়া' সম্পন্ন নামাযের তৃতীয় রাকায়া'তে ভুলবশত: সালাম দেয়া।
২- তাশাহ্‌হুদ পড়তে ভুলে যাওয়া।
গ)- শতর্কতামূলক মুস্তাহাব: ওয়জিব সালামের কিছু অংশ নির্দিষ্ট স্থানে না পড়ে অন্য স্থানে পড়া (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং- ১২৩৬ ও ১২৪২)।
৪-যদি কিছু ভুল পড়ে এবং ততক্ষণাৎ পূনরায় তা শুদ্ধ করে পড়ে তবে সে জন্য সিজদায়ে সাহব দেয়ার প্রয়োজন নেই (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং- ১২৩৯)।
৫-যদি নামাযে ভুলবশত: অল্প কিছু সময় ধরে কথা বলে এবং তা একবার হিসেব হয় তবে সেক্ষেত্রে দু'টি সিজাদয়ে সাহ্‌ব দিলেই যথেষ্ট (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং- ১২৪০)।
নামাযের যে সকল অংশ ভুলে গেছে
১-নামাযের যে সকল অংশ আঞ্জাম দিতে ভুলে গেছে তার কোনটিরই কাযা নেই, শুধুমাত্র তাশাহ্‌হুদ ও একটি সিজদাহ ব্যতীত যা ভুলবশত: আঞ্জাম দেয়া হয় নি। তবে নামাযের অন্যান্য ওয়াজিব অংশগুলো যদি ইচ্ছাকৃত আঞ্জাম না দেয়া হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে নামায বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি নামাযের রুকন নয় এমন ওয়াজিব অংশ ভুলবশত: আঞ্জাম না দেয়া হয়ে থাকে তবে সেক্ষেত্রে নামায বাতিল হবে না এবং তা কাযা আঞ্জাম দেয়ারও প্রয়োজন নেই (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, পৃ.- ২১২, মাসয়ালা নং-১)।
২-যদি নামাযি সিজদা অথবা তাশাহুদ ভুলে গিয়ে থাকে তবে শতর্কতামূলক ওয়াজিব হচ্ছে যে, নামাযে সালাম শেষ করার পর নামাযের অবস্থার বিচ্যূতি না ঘটিয়ে অবশ্যই উল্লিখিত ভুলে যাওয়া অংশের কাযা আদায় করতে হবে এবং তারপর সিজদায়ে সাহ্‌ব যেহেতু প্রয়োজন হয়েছে তা আঞ্জাম দিতে হবে (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড-১, পৃ.- ২১২, মাসয়ালা নং-১)।
৩-যদি নামায ও কাযা তাশাহুদ অথবা সিজদা আঞ্জাম দেয়ার মধ্যে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন কোন কাজ করে যা নামাযকে বাতিল করে দেয়, যেমন; কিবলাকে পিছনে রেখে বসা, সেক্ষেত্রে অবশ্যই কাযা সিজদা আঞ্জাম দিতে হবে এবং নামায সঠিক (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, মাসয়ালা নং- ১২৫৫)।
৪-যে ব্যক্তির সিজদা অথবা তাশাহুদ কাযা করা অপরিহার্য্য যদি অন্য কোন কারণে তার উপর সিজদায়ে সাহ্‌ব দেয়াও ওয়জিব হয়ে থাকে তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই নামায শেষে সিজদা অথবা তাশাহুদ কাযা করার পর সিজদায়ে সাহ্‌ব দিতে হবে (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, মাসয়ালা নং- ১২৬১)।
অনুশীলনী:
১- ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবার পরে সন্দেহের সাথে সালাম দেবার পরে সন্দেহের কি সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মধ্যে অনুরূপ বিষয়গুলো কি?
২- অধিক সন্দেহকারী ব্যক্তি যদি প্রথম রাকায়া'তে সিজদা দেবার পর সন্দেহ করে তবে সেক্ষেত্রে তাকে একটি সিজদায়ে সাহ্‌ব আঞ্জাম দিতে হবে না দু'টি?
৩- যদি মুস্তাহাব নামাযে প্রথম ও দ্বিতীয় রাকায়া'তের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয় তবে সেক্ষেত্রে নামাযির দায়িত্ব কি?
৪- যদি বিকাল চারটার পর সন্দেহ করে যে, আছরের নামায পড়েছে না পড়েনি সেক্ষেত্রে দায়িত্ব কি?
৫- যদি নামায শেষ করার পর শতর্কতামূলক নামায অথবা সিজদায়ে সাহ্‌ব অনিচ্ছাকৃতভাবে আঞ্জাম না দেয় তবে সেক্ষেত্রে দায়িত্ব কি?
৬- কোন ক্ষেত্রে শতর্কতামূলক নামায ও সিজদায়ে সাহ্‌ব একসঙ্গে ওয়াজিব হওয়া সম্ভব উদাহরণ দাও।
৭- যদি শতর্কতামূলক নামায ও সিজদায়ে সাহ্‌ব একসঙ্গে ওয়াজিব হয় তবে সেক্ষেত্রে কোনটিকে অবশ্যই প্রথম আঞ্জাম দিতে হবে, কেন?
৮- নামাযে করণীয় কর্মসমূহের ক্ষেত্রে সন্দেহ করার ব্যাপারে নির্দেশ কি দু'টি উদাহরণ দাও।
মুসাফিরের নামায
নিম্নলিখিত স্থানসমূহে নামায সম্পূর্ণ পড়তে হবে:
১- নিজ এলাকা।
২- যে স্থানে দশ দিন অবস্থান করবে তা জানা আছে অথবা অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩- যে স্থানে ত্রিশ দিন দ্বিধা-সংকোচের মধ্যে অতিবাহীত করেছে; অর্থাৎ তার জানা ছিল না যে, সে থাকবে না চলে যাবে এরূপে ত্রিশ দিন অতিবাহীত হয়ে গেছে এবং সেখান থেকে অন্য কোথাও জায়নি এক্ষেত্রে অবশ্যই ত্রিশ দিন পর থেকে নামায সম্পূর্ণ পড়বে (তৌযিহুল মাসায়েল, চতুর্থ শর্ত, মাসয়ালা নং- ১৩২৮-১৩৩৫-১৩৫৩)।
নিজ এলাকা (ওয়াতান) কোনটি?
১- নিজ এলাকা হচ্ছে সেই স্থান যে স্থানটি জীবন অতিবাহীত করার নিমিত্তে স্থীর করেছে, যেমন; কোন শহর অথবা গ্রাম, সেখানে সে জন্মগ্রহণ করেছে এবং তার পিতা-মাতার এলাকা অথবা নিজে ওই এলাকাটিকে জীবন অতিবাহীত করার নিমিত্তে স্থীর করেছে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং- ১৩২৯)।
২- যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তার আসল এলাকা ব্যতীত অন্য কোন স্থানে স্থায়ীভাবে অবস্থানের নিমিত্তে নিয়্যত না করছে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোন স্থান তার নিজ এলাকা হিসেবে গণ্য হবে না (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১৩৩১)।
৩- যে এলাকাটি তার নয় এমন স্থানে কিছু দিন অবস্থান করার পর অন্যত্র কোথাও চলে যাবার ইচ্ছা পোষণ করে এই এলাকাটি তার নিজ এলাকা হিসেবে গণ্য হবে না, যেমন; শিক্ষার্থী শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে কিছু দিন কোন এলাকায় অবস্থান কওে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১৩৩০)।
৪- যে ব্যক্তি দু'টি এলাকায় জীবন-যাপন করে, যেমন; ছয় মাস এক এলাকায় এবং ছয় মাস অন্য এলাকায় এক্ষেত্রে উক্ত দু'টি এলাকাই তার নিজ এলাকা হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি দু'টি এলাকার বেশী কোন স্থান জীবন-যাপনের জন্য স্থীর করে থাকে তবে তা ত্রুটিযুক্ত এবং সেক্ষেত্রে অবশ্যই শতর্কতা অবলম্বন করতে হবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং- ১৩৩২)।
৫- কোন ব্যক্তি চির জীবন কোথাও অবস্থান করার নিয়্যত না করেই সেই স্থানে এতটা সময় অবস্থান করে যে, সে এলাকার সকলেই তাকে ওই এলাকার বাসিন্দা বলে মনে করে এক্ষেত্রে ওই এলাকা তার জন্য নিজ এলাকা হিসেবে গণ্য হবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং- ১৩৩১)।
৬- কোন ব্যক্তি এমন এক স্থানে গিয়েছে যেখানে পূর্বে তার নিজ এলাকা ছিল কিন্তু বর্তমানে সে ওই এলাকায় আর থাকে না এমতাবস্থায় সে যেন নামায সম্পূর্ণ না পড়ে, যদিও সে এখনো অন্য কোন এলাকায় স্থায়ী জীবন-যাপন করার জন্য স্থীর না করেও থাকে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং- ১৩৩৪)।
ইসতিফতায়া
প্রশ্ন: যে বাড়ীতে স্ত্রী অথবা বালেগ হয়ে যাওয়া সন্তান, স্বামী অথবা পিতাকে অনুসরণ করে থাকে তারা কি নিজ এলাকা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে স্বামী অথবা পিতাকে অনুসরণ করতে বাধ্য এবং যদি স্বামী অথবা পিতা নিজ এলাকা পরিবর্তন করে তবে সেক্ষেত্রে তাদের ক্ষেত্রেও কি একই নিয়ম বর্তাবে নাকি অবশ্যই তারা স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে?
উত্তর: স্ত্রী এবং যে সন্তান নাবালেগ হওয়ার কারণে পিতার অধিনস্ত থেকে তার অনুসরণ করা থেকে বেরীয়ে এসেছে ও সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা রাখে তারা নিজ এলাকা স্থীর করণ এবং তার আনুসঙ্গিক কার্যাদি ও অবস্থান করার ব্যাপারে কারো অধিনস্ত নয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন (ইসতিফতায়াত, খণ্ড-১, পৃ.-২৬৪, প্রশ্ন নং-৪২৮)।
দশ দিনের নিয়্যত:
১- যে মুসাফির নিয়্যত করেছে যে, সে কোন স্থানে দশ দিন অবস্থান করবে। যদি দশ দিনের বেশী সেখানে অবস্থান করে সেক্ষেত্রে যতক্ষণ পর্যন্ত সে সেখান থেকে যাত্রা শুরু না করছে ততক্ষণ পর্যন্ত তার নামায অবশ্যই সম্পূর্ণ পড়তে হবে এবং সে জন্য নতুন করে দশ দিন অবস্থানের নিয়্যত করার প্রয়োজন নেই (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১৩৪৭)।
২- মুসাফির যদি দশ দিন কোন স্থানে অবস্থান করার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করে সেক্ষেত্রে:
ক)- যদি চার রাকায়া'ত সম্পন্ন নামায আয়াদ করার পূর্বে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন ঘটায় তবে অবশ্যই নামায কসর পড়বে।
খ)- আর যদি কোন একটি চার রাকায়া'ত সম্পন্ন নামায আদায় করার পরে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন ঘটায় তবে সেক্ষেত্রে যতক্ষণ উক্ত স্থানে অবস্থান করছে ততক্ষণ অবশ্যই নামায সম্পূর্ণ পড়বে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১৩৪২)।
ইসতিফতায়া
প্রশ্ন: সরকারী চারকী করার কারণে যারা দীর্ঘ দিন ধরে একটি এলাকায় সরকারী ফ্লাটে বসবাস করছে তাদের মধ্যে এমনটি গুজব আছে যে, যেহেতু তারা জানে না যে তারা কতদিন সেখানে অবস্থান করবে তাই তাদের নামায ও রোযা হচ্ছে কসর। আবার বর্তমানে অনেকে নিজের বাড়ীতেও নামায কসর পড়ছে, এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ ব্যাপারে ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর কি কোন ফতোয়া আছে?
উত্তর: যদি নিজ এলাকা না হয়ে থাকে এবং সেখানে চির দিনের জন্য অবস্থান করার নিয়্যত না করে থাকে এবং দশ দিন থাকারও নিয়্যত না করে থাকে তবে তারা মুসাফিরের নির্দেশে পড়বে (ইসতিফতায়াত, খণ্ড-১, পৃ.-২৬০, প্রশ্ন নং-৪১৭)।
যে মুসাফির তার নামায সম্পূর্ণ পড়েছে, যদি:
ক)- তার জানা না থাকে যে, মুসাফির অবশ্যই কসর নামায পড়বে তবে যে নামাযগুলো পড়েছে তা সঠিক (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১৩৫৯)।
খ)- সফরের নির্দেশনা জানতো কিন্তু ব্যাপকারে জানতো না অথবা জানতোই না যে, সে হচ্ছে মুসাফির সেক্ষেত্রে যত নামায পড়েছে অবশ্যই তা পূনরায় পড়বে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১৩৬০, ১৩৬১, ১৩৬২)।
যে মুসাফির নয় কিন্তু নামায কসর পড়েছে:
যে ব্যক্তির অবশ্যই নামায সম্পূর্ণ পড়তে হবে, যদি সে কসর পড়ে থাকে সেক্ষেত্রে সব দিক দিয়েই তার নামায হচ্ছে বাতিল (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং- ১৩৬৩)।
তাখির স্থানসমূহ
(তাখির = যে স্থানসমূহে মুসাফির উভর প্রক্রিয়ায় (সম্পূর্ণ বা কসর) নামায পড়তে পারে)
নিম্নলিখিত স্থানসমূহে মুসাফির তার নামায সম্পূর্ণ অথবা কসর পড়তে পারবে, যথা:
১- মাসজিদুল হারাম (মক্কা)।
২- মাসজিদুন্‌নাবী (সা.) মদিনা মনোওয়ারা।
৩- কুফা মসজিদ।
৪- ইমাম হুসাইন (আ.)-এর হারাম শরিফ (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসয়ালা নং-১৩৫৬)।

 

  1468
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article

      বিভিন্ন ফিকাহর দৃষ্টিতে যাকাতুল ফিতর
      একমাত্র অবিকৃত ঐশী গ্রন্থ : আল কোরআন
      হাজিদের উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ...
      হজ্বঃ মানব সভ্যতার সর্বশ্রেষ্ঠ ...
      লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক
      পবিত্র হেরেম শরিফের মর্যাদা
      সফরে কসর ওয়াজিব
      বায়তুল্লাহ জিয়ারত ও হজ
      হজ্ব: বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের সোপ
      হজ্ব: খোদার প্রেমে দগ্ধ হবার সফর

latest article

      বিভিন্ন ফিকাহর দৃষ্টিতে যাকাতুল ফিতর
      একমাত্র অবিকৃত ঐশী গ্রন্থ : আল কোরআন
      হাজিদের উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ...
      হজ্বঃ মানব সভ্যতার সর্বশ্রেষ্ঠ ...
      লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক
      পবিত্র হেরেম শরিফের মর্যাদা
      সফরে কসর ওয়াজিব
      বায়তুল্লাহ জিয়ারত ও হজ
      হজ্ব: বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের সোপ
      হজ্ব: খোদার প্রেমে দগ্ধ হবার সফর

 
user comment