বাঙ্গালী
Tuesday 17th of May 2022
1192
0
نفر 0

আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ কি অদৃশ্যের জ্ঞান (ইলমে গায়েব) রাখেন ?



প্রশ্ন : কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে সকল বর্ণনাতে বলা হয়েছে,আল্লাহ্ ব্যতীত কেউই অদৃশ্যের জ্ঞান (ইলমে গায়েব) রাখে না এবং যে সকল বর্ণনাতে বলা হয়েছে নবী-রাসূলগণ তাঁর অনুমতিক্রমে গায়েবের জ্ঞান রাখতেন-কিভাবে এ দু’ধরনের বর্ণনাকে সমন্বয় সাধন করব?

উত্তর দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ্ নাসের মাকারেম সিরাজী

 

উত্তর : বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমরা এ দু’ধরনের বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারি।
ক) প্রসিদ্ধতম যে পদ্ধতির মাধ্যমে এর সমন্বয়ের ব্যাখ্যা করা হয় তা হলো ‘গায়েবের জ্ঞান’ সত্তাগত ও স্বাধীনভাবে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। অন্য কেউ স্বাধীনভাবে এ জ্ঞান রাখে না;বরং তাদের এ জ্ঞান আল্লাহ্প্রদত্ত। যেমন সূরা জ্বীনের ২৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে,আল্লাহ্ কাউকেই গায়েবের রহস্য সম্পর্কে অবহিত করেন না,তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত।
নাহজুল বালাগাতেও এরূপ অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। যখন হযরত আলী মুসলিম দেশগুলোতে মোঙ্গলদের আক্রমণের বিষয়ে খবর দেন তখন তাঁর এক সঙ্গী তাঁকে প্রশ্ন করেন,“হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি কি’ইলমে গায়েব’ জানেন?” তিনি মুচকি হেসে বলেন,“এটি’ইলমে গায়েব’ নয়,এটি এমন এক ইলম যা ইলমের অধিকারীর (রাসূলের) নিকট শিক্ষা লাভ করেছি।”৩ এ সমন্বয় পদ্ধতিকে অনেক মনীষীই গ্রহণ করেছেন।
খ) ‘গায়েব’-এর রহস্য দু প্রকারের। এক ধরনের গায়েব মহান আল্লাহর জন্য নিদিষ্ট এবং অন্য কেউ সে সম্পর্কে জানে না,যেমন কখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। অন্য প্রকার গায়েব আল্লাহ্ তাঁর নবী ও আউলিয়াদের জানিয়ে থাকেন। নাহজুল বালাগায় উপরোক্ত খুতবাতেই হযরত আলী (আ.) বলেছেন,‘ইলমে গায়েব’ হলো কিয়ামতের জ্ঞান এবং এই আয়াতে (সূরা লোকমানের ৩৪ নং আয়াত) যে বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো,যেমন কিয়ামতের সময় কেবল তিনিই জানেন। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে সে সম্পর্কে অবহিত। (যদিও) কেউ জানে না আগামীকাল কি করবে এবং কোন্ ভূমিতে সে মৃত্যুবরণ করবে কিন্তু আল্লাহ্ তা জানেন। অতঃপর ইমাম এর ব্যাখ্যা করে বলেন,“মহান আল্লাহ্ যা কিছু মাতৃগর্ভসমূহে রয়েছে (কোন যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই) সে সম্পর্কে সার্বিক অবগত। পুত্র সন্তান না কন্যা? সুন্দর না অসুন্দর? দানশীল হবে না কৃপণ? সৌভাগ্যবান হবে না দুর্ভাগা? বেহেশ্তবাসী হবে না দোযখবাসী?... এ বিষয়গুলো হলো ‘ইলমে গায়েব’ যা তিনি ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। এগুলো সেই জ্ঞানের অন্তর্গত নয় যা তিনি তাঁর রাসূলকে শিখিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।”
কোন কোন মানুষ হয়তো মাতৃগর্ভে শিশুর আকৃতিগত কিছু বৈশিষ্ট্য,বৃষ্টি পতনের সময় ও প্রকৃতি সম্পর্কে বেশ কিছু ধারণা দিতে সক্ষম। কিন্তু এর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিটি বিষয়ের বিশ্লেষণ দান তাদের পক্ষে সম্ভব নয়,অথচ মহান আল্লাহ্ এ সকল বিষয়ের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সকল কিছু সম্পর্কে অবগত। মৃত্যুবরণের বিষয়টিও অনুরূপ।
গ) এ বিপরীতধর্মী আয়াত ও হাদীসসমূহকে ব্যাখ্যা করার তৃতীয় পথ : ‘গায়েব’-এর রহস্য বিভিন্ন বর্ণনা মতে দু’টি স্থানে লিখিত রয়েছে। প্রথমটি হলো ‘লাওহে মাহফুয’ যা আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়। এ সম্পর্কে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ অবহিত নয়। দ্বিতীয়টি হলো ‘লাওহে মাহু ওয়া ইসবাত’ যা অবস্থার কারণে পরিবর্তনশীল। অন্যদের তিনি এ বিষয়ে অবহিত করেন।
ইমাম সাদেক (আ.) হতে হাদীস বর্ণিত হয়েছে,তিনি বলেন,“আল্লাহর এক ধরনের জ্ঞান রয়েছে যে সম্পর্কে কেউই অবহিত নয়। অন্য প্রকার জ্ঞান সম্পর্কে তিনি তাঁর নবী ও ফেরেশতাদের অবহিত করেন। যে জ্ঞান তিনি নবী ও ফেরেশতাদের দিয়েছেন সে সম্পর্কে আমরা অবহিত।”
ইমাম আলী ইবনুল হুসাইন (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে,তিনি বলেন,“যদি কোরআনের একটি আয়াত না থাকত তবে অতীতে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে সে সম্পর্কে আমি খবর দিতাম।” প্রশ্ন করা হলো : কোন্ আয়াতটি? তিনি বলেন,“যে আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন : يَمْحُو اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ আল্লাহ্ যা ইচ্ছা মুছে দেন ও বহাল রাখেন এবং মূল গ্রন্থ তাঁর নিকটেই।” (সূরা আর রা’দ:৩৯)
( জ্যোতি ১ম বর্ষ, ৪র্থ সংখ্যা)

1192
0
0% (نفر 0)
 
نظر شما در مورد این مطلب ؟
 
امتیاز شما به این مطلب ؟
اشتراک گذاری در شبکه های اجتماعی:
لینک کوتاه

latest article

হযরত মুসা (আ.)'র মু'জিজার কাছে ...
ইমাম মাহদী (আ.)এর আগমন একটি অকাট্য ...
ইরানে পবিত্র মাহে রমজান শুরু আজ
হযরত আলী (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী ...
ইয়াযিদের দরবারে বন্দীনি হযরত ...
সূরা আত তাওবা; (২৩তম পর্ব)
১০ ই মহররমের স্মরণীয় কিছু ঘটনা ও ...
ইমাম জাওয়াদ (আ.)-এর কিছু মূল্যবান ...
আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ কি ...
বিশ্বনবী মুহাম্মদ মুস্তাফা ...

 
user comment