বাঙ্গালী
Sunday 17th of October 2021
157
0
نفر 0
0% این مطلب را پسندیده اند

আকল তথা বুদ্ধিবৃত্তি



আকল হলো অজ্ঞতা এবং নাফসের একটি বাঁধন। নাফস (প্রবৃত্তি) জঘন্যতম জন্তুর ন্যায়। যদি এ বাঁধন না থাকে, তা হলে তা পাগলা কুকুর হয়ে যায়। সুতরাং আকল হলো অজ্ঞতার বাঁধন। আল্লাহ্ আকলকে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁকে বললেন : সামনে ফেরো। সে ফিরলো। তাকে বললেন : পেছনে ফেরো। সেও পেছনে ফিরলো। আল্লাহ্ বললেন : আমার মহিমা ও মর্যাদার শপথ, তোমার চেয়ে বড় এবং অধিক অনুগত কোনো সৃষ্টিকে আমি সৃষ্টি করি নি। তোমাকে দিয়েই শুরু করবো এবং তোমাকেই নিজ দরগাহে ফিরিয়ে আনব। পারিশ্রমিক এবং সওয়াব তোমার জন্যই। শাস্তিও তোমার ভিত্তিতেই হবে। আকল থেকে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা নির্গত হলো। আর ধৈর্য থেকে জ্ঞান। আর জ্ঞান থেকে চিন্তার পরিপক্কতা, আর চিন্তার পরিপক্কতা থেকে চারিত্রিক পবিত্রতা। আর চারিত্রিক পবিত্রতা থেকে আত্মসংযম। আর আত্মসংযম থেকে লজ্জা। আর লজ্জা থেকে ব্যক্তিত্ব ও স্থিরচিত্ততা, আর ব্যক্তিত্ব ও স্থিরচিত্ততা থেকে অব্যাহতভাবে সৎ কাজে প্রবৃত্ত হওয়া। আর অব্যাহতভাবে সৎ কাজে প্রবৃত্ত হওয়া থেকে মন্দ কাজকে ঘৃণা করা। আর মন্দ কাজকে ঘৃণা করা থেকে উপদেশ দাতার উপদেশ মেনে চলা। এ হলো কল্যাণের দশটি শ্রেণী। এ প্রত্যেক শ্রেণীর আবার দশটি করে প্রকার রয়েছে।

বিশ্বনবী (সা.) আরো বলছিলেন, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা থেকে (আসে) : ১. সুন্দর বৈশিষ্ট্যে সজ্জিত হওয়া ২. পুণ্যবানদের সাথে ওঠাবসা ৩. লাঞ্ছনা দূরীকরণ ৪. নিচতা থেকে নির্গমন, ৫। কল্যাণের প্রতি ঝোঁক, ৬. উচ্চতর মর্যাদার নিকটবর্তী হওয়া, ৭. মার্জনা ৮. অবকাশ প্রদান, ৯. সদাচার, ১০. নীরবতা। বুদ্ধিমান ব্যক্তির সহিষ্ণুতা থেকে এসব নির্গত হয়।

আর জ্ঞান থেকে নির্গত হয় : ১. অভাবহীনতা, এমনকি যদি নিঃস্বও হয়ে থাকে। ২. দানশীলতা, যদিও সে কৃপণ থাকে। ৩. ব্যক্তিত্ব ও ভাবমূর্তি, যদিও সে বিনয়ী থাকে, ৪। সুস্থতা, যদিও সে রুগ্ন থাকে, ৫. নৈকট্য, যদিও সে দূরে থাকে, ৬. লজ্জাশীলতা, যদিও সে মুখরা থাকে, ৭. মর্যাদাশীলতা, যদিও সে অধীনস্থ হয়, ৮. আভিজাত্য, যদিও সে নীচ (বংশের হয়ে) থাকে, ৯. প্রজ্ঞা এবং ১০. (যোগ্যতা, সুযোগ-সুবিধা ও সময়ের) সদ্ব্যবহার। এগুলো হলো আকল-সমৃদ্ধ বা বিবেকবান ব্যক্তির জ্ঞানের ফল। সুতরাং ধন্য হোক সে ব্যক্তি যে আকলকে প্রয়োগ করেছে এবং জ্ঞান লাভ করেছে।

বিশ্বনবী (সা.) আরো বলছিলেন,আর চিন্তার পরিপক্কতা থেকে নির্গত হয় : ১. অবিচলতা, ২. হেদায়েত, ৩. সৎকর্মশীলতা ৪. সংযমশীলতা, ৫. সফলতা, ৬. মধ্যপন্থা, ৭. মিতাচার, ৮. পারিশ্রমিক ও সওয়াব ৯. মর্যাদা ১০. আল্লাহর দীনকে অনুধাবন। এগুলো বিবেকবান ব্যক্তি তার চিন্তার পরিপক্কতা থেকে লাভ করে। ধন্য হোক সেই ব্যক্তি যে সঠিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে চলে।

আর চারিত্রিক পবিত্রতা থেকে যা যা উৎসারিত হয় সেগুলো হল : ১. সন্তুষ্টি, ২. প্রশান্তি৩. উপকার লাভ, ৪. শান্তি, ৫. যাচাই (সতর্ক অনুসন্ধান), ৬. বিনয়, ৭. (আল্লাহর) স্মরণ, ৮, চিন্তা-গবেষণা, ৯, বদান্যতা, ১০. উদারতা।

এগুলো বিবেকবান ব্যক্তির চারিত্রিক পবিত্রতা থেকে উৎসারিত হয় আর সে আল্লাহর প্রতি ও নিজের ভাগ্যের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে।

আর আত্মসংযম থেকে যা যা উৎসারিত হয় সেগুলো হল : ১. কল্যাণ চিন্তা, ২. বিনয়, ৩. সংযম ৪. তওবা, ৫. বোধশক্তি, ৬. শিষ্টাচার, ৭. সদাচার ৮. বন্ধুত্ব, ৯. কল্যাণকর এবং ১০. সুআচার-ব্যবহার। এগুলো বিবেকবান ব্যক্তি তার সম্ভ্রম থেকে লাভ করে। ধন্য সেই ব্যক্তি যার প্রভু তাকে আত্মসংযমের বৈশিষ্ট্য দিয়ে সম্মানিত করেন।

বিশ্বনবী (সা.) আরো বলছিলেন, আর লজ্জা থেকে উৎসারিত হয় : ১. নমনীয়তা, ২. দয়াশীলতা, ৩ ও ৪. প্রকাশ্যে এবং গোপনে আল্লাহর পাহারার প্রতি মনোযোগ, ৫. (দৈহিক ও মানসিক) সুস্থতা, ৬, মন্দ থেকে দূরে থাকা, ৭. সমৃদ্ধি, ৮. দানশীলতা, ৯. বিজয় এবং ১০. মানুষের মাঝে সুনামের সাথে স্মরণ। এগুলো বিবেকবান ব্যক্তি তার লজ্জা থেকে অর্জন করে। সুতরাং ধন্য সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর নসিহত গ্রহণ করে এবং তাঁর অপমানকে ভয় করে।

আর ব্যক্তিত্ব ও স্থিরচিত্ততা থেকে উৎসারিত হয় : ১. দয়া, ২. পরিণামদর্শিতা, ৩. আমানত রক্ষা, ৪. খেয়ানত বর্জন, ৫. সত্যবাদিতা, ৬. লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা, ৭. সম্পদের পরিশুদ্ধি, ৮. শত্রুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি, ৯. অসঙ্গত কাজ থেকে নিষেধ, ১০. বোকামি বর্জন। বিবেকবানরা এসব বিষয় ব্যক্তিত্ব ও স্থিরচিত্ততা থেকে পেয়ে থাকেন। সুতরাং ধন্য সেই ব্যক্তি যে ব্যক্তিত্ব ও স্থিরচিত্তের অধিকারী হয় এবং যার মধ্যে লঘুচিত্ততা আর মূর্খতা থাকে না এবং যে ক্ষমাশীল হয় ও মার্জনা করে।

বিশ্বনবী (সা.) আরো বলছিলেন,

"বুদ্ধিবৃত্তি বা আকলের অন্যতম কল্যাণ হল লজ্জা। আর লজ্জা থেকে উৎসারিত হয় : নমনীয়তা, দয়াশীলতা, প্রকাশ্যে এবং গোপনে আল্লাহর পাহারার প্রতি মনোযোগ, (দৈহিক ও মানসিক) সুস্থতা, মন্দ থেকে দূরে থাকা, সমৃদ্ধি, দানশীলতা, বিজয় এবং মানুষের মাঝে সুনামের সাথে স্মরণ। এগুলো বিবেকবান ব্যক্তি তার লজ্জা থেকে অর্জন করে। সুতরাং ধন্য সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর নসিহত গ্রহণ করে এবং তাঁর অপমানকে ভয় করে।"

আর বুদ্ধিবৃত্তি বা আকলের অন্যতম কল্যাণ ব্যক্তিত্ব ও স্থিরচিত্ততা থেকে উৎসারিত হয় (সংখ্যাগুলো কথায় বলুন) : ১. দয়া, ২. পরিণামদর্শিতা, ৩. আমানত রক্ষা, ৪. খেয়ানত বর্জন, ৫. সত্যবাদিতা, ৬. লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা, ৭. সম্পদের পরিশুদ্ধি, ৮. শত্রুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি, ৯. অসঙ্গত কাজ করতে নিষেধ করা, ১০. বোকামি বর্জন। বিবেকবানরা এসব বিষয় ব্যক্তিত্ব ও স্থিরচিত্ততা থেকে পেয়ে থাকেন। সুতরাং ধন্য সেই ব্যক্তি যে ব্যক্তিত্ব ও স্থিরচিত্তের অধিকারী হয় এবং যার মধ্যে লঘুচিত্ততা আর মূর্খতা থাকে না এবং যে ক্ষমাশীল হয় ও মার্জনা করে।

বিশ্বনবী (সা.) আরো বলছিলেন, আর বুদ্ধিবৃত্তি বা আকলের অন্যতম কল্যাণ অব্যাহতভাবে সৎ কাজে প্রবৃত্ত হওয়া থেকে লাভ হয় : ১. অশ্লীল কথাবার্তা বর্জন, ২. মনের উৎকণ্ঠা থেকে দূরে থাকা, ৩. সতর্কতা অবলম্বন ৪. ইয়াকীন তথা অবিচল বিশ্বাস, ৫. মুক্তি-প্রিয়তা, ৬. আল্লাহর আনুগত্য, ৭. কুরআনের প্রতি সম্মান, ৮. শয়তান থেকে দূরে সরে যাওয়া, ৯. ন্যায়কে মেনে নেয়া এবং ১০. হক ও ন্যায্য কথা। এগুলো বিবেকবান ব্যক্তি ভালো কাজে অবিচ্ছিন্নভাবে সৎ কাজে প্রবৃত্ত হওয়ার ফলে লাভ করে থাকে। ধন্য সেই ব্যক্তি যে নিজ ভবিষ্যতের চিন্তায় এবং নিজ পরকালের চিন্তায় থাকে। আর দুনিয়ার ধ্বংস থেকে শিক্ষা নেয়।

আর বুদ্ধিবৃত্তি বা আকলের অন্যতম কল্যাণ মন্দকে ঘৃণা করা থেকে লাভ হয় : ১. ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা, ২. সহিষ্ণুতা, ৩. উপকার করা, ৪. পরিকল্পনার ওপর স্থির থাকা, ৫. সঠিক পথকে আগলে রাখা, ৬. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ৭. প্রাচুর্য, ৮. নিষ্ঠা, ৯. সব অনর্থক কাজ বর্জন এবং ১০. যা কিছু তার জন্য উপকারী তা বজায় রাখা। এগুলো বিবেকবানেরা মন্দকে ঘৃণার মাধ্যমে অর্জন করে থাকেন। সুতরাং ধন্য সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর হক পথে পদক্ষেপ নেয়, আর তাঁর পথেই চলে।

বিশ্বনবী (সা.)শামউনের প্রশ্নের জবাবে আরো বলছিলেন, বুদ্ধিবৃত্তির অন্যতম কল্যাণ হিসেবে উপদেশদাতার অনুসরণ থেকে লাভ হয় : ১. বুদ্ধির বিকাশ, ২. আত্মিক পূর্ণতা সাধন, ৩. ভালো পরিণাম, ৪. ভর্ৎসনার হাত থেকে মুক্তি, ৫. গ্রহণীয় হওয়া, ৬. বন্ধুত্ব, ৭. অন্তরের প্রসারতা, ৮. ন্যায়বিচার বা ইনসাফ, ৯. কাজে-কর্মে উন্নতি, এবং ১০. আল্লাহর আনুগত্যের শক্তি সঞ্চার। ধন্য সেই ব্যক্তি যে নাফসের দ্বারা পরাস্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে। এগুলো হলো সেই বৈশিষ্ট্য যা আকল থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

বিশ্বনবী (সা.)-মূর্খদের চি‎হ্ন সম্পর্কে বলেছেন :

যদি তার সাথে তথা মূর্খের সঙ্গে মেশ, সে তোমাকে কষ্ট দেবে। যদি তার থেকে দূরে সরে যাও, তোমার বদনাম করবে। যদি তোমাকে দান করে, তাহলে তোমার ওপর করুণার গর্ব করবে। আর তুমি যদি তাকে দান করো, তা হলে অকৃতজ্ঞ হবে। যদি কোনো গোপন কথা তার সাথে বল, সে খেয়ানত করবে। আর তোমাকে যদি কোনো গোপন কথা সোপর্দ করে, তা হলে তোমার প্রতি অভিযোগ করবে। মূর্খ যদি ক্ষমতাবান হয়, তা হলে অরাজকতা করে এবং রূঢ় ও নিষ্ঠুর হয়। যদি নিঃস্ব হয়, তা হলে আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করে। যদি আনন্দিত হয় তা হলে সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং অবাধ্য হয়, আর যদি দুঃখিত হয়, তা হলে নিরাশ হয়ে পড়ে। মূর্খ যদি হাসে তা হলে অট্টহাসি দেয়, আর যদি কাঁদে, তা হলে পশুর মতো গর্জন করে। মূর্খ ব্যক্তি সৎ লোকদের সাথে ঝগড়া করে। আল্লাহকে ভালোবাসে না এবং তাঁকে মান্য করে না। তাঁর থেকে লজ্জা করে না এবং তাঁকে স্মরণ করে না। তুমি যদি তাকে খুশী করো, তা হলে তোমার এমন গুণের প্রশংসা করবে যা তোমার মধ্যে নেই। আর যদি তোমার ওপর অসন্তুষ্ট হয় , তা হলে তোমার প্রশংসাকে বিনষ্ট করে। আর মিথ্যা প্রচারে তোমার বদনাম ছড়ায়। এগুলো মূর্খদের পন্থা।

শামউন নামক একজন পাদ্রি রাসূলের (সা.) নিকট ইসলামের নিদর্শন সম্পর্কে জানতে চাইলে

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন : ইসলামের নিদর্শন হচ্ছে বিশ্বাস, জ্ঞান এবং কর্ম।

তারপর প্রশ্ন করেন : ঈমানের , জ্ঞানের ও কর্মের চি‎হ্ন কী?

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বললেন : ঈমানের চি‎হ্ন চারটি : আল্লাহর একত্বের স্বীকারোক্তি, তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস আর তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস।

আর জ্ঞানের চি‎হ্ন চারটি : আল্লাহকে চেনা, তাঁর বন্ধুদের পরিচয় জানা, তাঁর ফরযগুলোকে জানা এবং সেগুলোর সংরক্ষণ করা যাতে সেসব সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়।

আর কর্মের চি‎হ্ন হলো নামায, রোযা, যাকাত এবং নিষ্ঠা তথা ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা।

157
0
0% (نفر 0)
 
نظر شما در مورد این مطلب ؟
 
امتیاز شما به این مطلب ؟
اشتراک گذاری در شبکه های اجتماعی:

latest article

হযরত আলী আকবর (আ.) এর জন্মবার্ষিকী
সত্যের দিশা পেলো যে তৃষা
কবর জিয়ারত
নবীবংশের অষ্টম নক্ষত্র ইমাম রেযার (আ.) ...
বিশ্বময় ইসলামের জাগরণ : সৌদি আরবের ...
আহলে বায়তের উজ্জ্বল নক্ষত্র হযরত ...
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-জাওয়াদ ...
এক নজরে ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর ...
সূরা ইউসুফ; (২১তম পর্ব)
সূরা আল আনফাল; (৬ষ্ঠ পর্ব)

 
user comment