যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদী চেহারার মুখোশ খুলে দিয়েছে ট্রাম্প : নাসরুল্লাহ


امیرالمومنین علی (ع) - جلسه یازدهم _ 13 رمضان - رمضان 1436 - مسجد حضرت امیر -  

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান গত (রোববার, ১২ ফেব্রুয়ারি) ‘শেইখ হুসাইন হাসান উবাইদ-এর শাহাদতের সপ্তম দিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে, সিরিয়া সংকট অব্যাহত থাকার বিষয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও হিজবুল্লাহর উপর আরোপিত মিথ্যা অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন: এ সকল মিথ্যাচার কিছু আরব গণমাধ্যমের কাজ।

শেইখ উবাইদ ঈমান ও নৈতিক জিহাদে অগ্রগামী একজন ব্যক্তি ছিলেন -এ কথা উল্লেখ করে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: তিনি সবসময়, এমনকি জীবনের শেষ মুহূর্তেও হিজবুল্লাহ এবং এর কর্মধারার প্রতি সমর্থন করে গেছেন।

তিনি বলেন: হিজবুল্লাহ’তে শেইখ উবাইদ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার অটলতা, ঈমান এবং দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ও ইসলামি আন্দোলনের কর্মধারার জোর সমর্থন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, খতিব এবং বিভিন্ন এলাকায়, মসজিদ, ইমামবাড়ি, সেনাঘাঁটি ইত্যাদিতে আগত প্রজন্মের জন্য পথ নির্দেশ ও প্রশিক্ষক।

লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান, শেইখ উবাইদকে নিজের পিতার সমতুল্য বড় ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন: হিজবুল্লাহ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন এক ব্যক্তির প্রচেষ্টায় গঠিত হয়নি, বরং শেইখ উবাইদদের মত ঈমানদার ব্যক্তিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গঠিত হয়েছে।

ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের উপস্থিতিতে আস্তানায় বৈঠক ও সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: সিরিয়ায় রক্তপাত বন্ধ ও সৃষ্ট সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে গৃহীত যে কোন পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানাতে প্রস্তুত হিজবুল্লাহ। এছাড়া হিজবুল্লাহ ফুয়াহ ও কিফরিয়াসহ সিরিয়ার যে সকল এলাকা মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি সে সকল এলাকায় যুদ্ধবিরতি’র জোর দাবী জানায়।

তিনি তার ভাষণে এও বলেন: সিরিয়ার ডেমোগ্রাফীর পরিবর্তনের বিষয়ে যা কিছু বলা হচ্ছে এবং হিজবুল্লাহ, ইরান ও দামেস্ককে যে সকল বিষয়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে তা মিথ্যাচার বৈ কিছুই নয়। আরবলীগ এ ক্ষেত্রে প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে বিষয়টি কাছ থেকে তদন্ত করতে পারে যে, সিরিয়াতে ডেমোগ্রাফিক কোন পরিবর্তন আনা হচ্ছে না এবং এগুলো সব মিথ্যাচার।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার উচ্চতর পরিষদের এ সদস্য বলেন: আলেপ্পোতে বিজয়, মূলতঃ জাতীয় পর্যায়ে পুনর্মিলন ও সিরিয়া সংকট নিরসন প্রক্রিয়াকে অনেকাংশে সচল করেছে।

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: আলেপ্পো বিজয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সফলতা নিয়ে এসেছে এবং ৬ বছর আগে সিরিয়ার যে অবস্থা ছিল বর্তমানে তাতে পরিবর্তন এসেছে। সিরিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে হুমকির মুখে ছিল, বর্তমানে সে শংকা দূর হয়েছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সৃষ্টিকারী অক্ষ ও দেশগুলো বর্তমানে নিরাশ। তুরস্কের কথাই ধরা যাক; তারা নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। বিষয়টি কারো অজানা নয় যে, তুরস্ক, দায়েশ (আইএসআইএল)-কে বিপুল পরিমাণে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। বর্তমানে তারা তাদের এ পদক্ষেপে অনুশোচিত। কেননা স্বয়ং তুরস্কের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আনকারার অনুগ্রহের প্রতিদান দিয়েছে দায়েশ।

লেবাননে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের বিষয়টি যেন সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে পরিণত না হয় –এ বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে হিজবুল্লাহ প্রধান সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: সিরিয় শরণার্থীদেরকে তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করা উচিত।

তিনি বলেন: লেবানন সরকারকে অবশ্যই যুযুৎসা থেকে বেরিয়ে এসে সিরিয়া সরকারের সাথে শরণার্থী ইস্যুতে সংলাপে বসা উচিত। বিশেষকরে সিরিয় শরণার্থীদেরকে দেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকে সহযোগিতা করা এবং তাদেরকে এ কাজে রাজি করানো বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসায় হিজবুল্লাহ উদ্বিগ্ন’ –এ শীর্ষক হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে কেউ কেউ যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন তার জবাবে নাসরুল্লাহ বলেন: নতুন কি ঘটেছে? যে বিষয়টি নতুন ঘটেছে তা হল, তার আগে এক ব্যক্তি (বারাক ওবামা) ক্ষমতায় ছিলেন; যিনি নেফাকের মুখোশ মুখে পরে সুন্দর সুন্দর কথা বলতেন। কিন্তু তিনিই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেন, তিনি যুদ্ধ করতেন, আবার তিনিই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানাতেন। যেমন ইয়েমেনের যুদ্ধ; যাতে বহু লোক অন্নহারা হয়েছে। সৌদি আরব ও বাহরাইন ইস্যুতে তিনি স্বৈরতন্ত্রের সমর্থন করে গেছেন এবং দায়েশের সৃষ্টি করেছেন; যাতে ধর্ম, কুরআন ও মহানবি (স.) কে অবমাননা করতে পারেন। কিন্তু ট্রাম্প এ নেফাকী ও দুমুখো নীতির মুখোশ দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। এ জন্য তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাচারী, কুৎসিত ও বর্ণবাদী চেহারা থেকে মুখোশ তুলে নিয়েছেন। তিনি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা সকলের সামনে উন্মুক্ত হয়েছে।

বলাবাহুল্য, শেইখ হুসাইন হাসান উবাইদের শাহাদতের সপ্তম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান হিজবুল্লাহ’র কেন্দ্রীয় সদস্যদের উপস্থিতিতে লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বালাবাক শহরে অবস্থিত হযরত ইমাম খোমেনি (রহ.) সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিজবুল্লাহ প্রধান সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং আল-মানার চ্যানেল বক্তব্যটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে।#

سخنرانی های مرتبط