বাঙ্গালী
Thursday 4th of March 2021
302
0
نفر 0
0% این مطلب را پسندیده اند

মহানবী (সাঃ)-এর আহলে বাইতকে ভালবাসা ফরজ

মহানবী (সাঃ)-এর আহলে বাইতকে ভালবাসা ফরজ

মহানবী (সাঃ) যে রেসালা„তের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন, আল্লাহ তার বান্দার কাছ থেকে তাঁর রেসালা„তের পারিশ্রমিক বাবদ মহানবী (সাঃ) -এর আহলে বাইত-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) ফরয করে দিয়েছেন। যদি আমরা আহলে বাইতকে প্রাণাধিক ভালো না বাসি, আনুগত্য না করি, তাহ„লে আল্লাহর হুকুম অকার্যকর থেকে যা„বে বা মানা হবে না, তাই হুকুম হচ্ছে।

“বলুন, আমি আমার রিসালা„তের পারিশ্রমিক তোমাদের কা„ছে কিছুই চাই না, শুধু আমার কুরবা (আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন)-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভা„লাবাসা) ব্যতিত।” (সূরা-শুরা, আয়াত-২৩) ।

হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, যখন এই আয়াত নাযিল হলো তখন সাহাবাগণ জি„জ্ঞেস কর„লেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কাঁরা আপনার নিকট আত্মীয়? যাদের মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভা„লাবাসা) পবিত্র কোরআনে উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছে। উত্ত„রে নবী (সাঃ) বললেন-আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্য)।” সূত্রঃ- কোরআন শরীফ (শুরা,২৩) (আশরাফ আলী থানভী), পৃঃ-৬৯২;তাফসী„রে মাজহারী, খঃ-১১, পৃঃ-৬৩ (ই,ফাঃ); তাফসী„রে নুরুল কোরআন (মাওলানা আমিনুল ইসলাম),খঃ-২৫, পৃঃ-৬৭; মাদারেজুন নাবুয়াত, খঃ-৩, পৃঃ-১১৭, শায়খ আব্দুল হক মুহা„দ্দেস দেহলভী তাফসী„রে দূর„রে মানসুর, খঃ-৬, পৃঃ-৭ (মিশর); তাফসী„রে যামাখশারী, খঃ-২, পৃঃ-৩৯৯, (মিশর); তাফসী„রে তাবারী, খঃ-২৫, পৃঃ-২৫ (মিশর); তাফসী„রে কাশশাফ, খঃ-৩, পৃঃ-৪০২; খঃ-৪, পৃঃ-২২০ (মিশর); তাফসী„রে কাবীর, খঃ-২৭, পৃঃ-১৬৬ (মিশর); তাফসী„রে বায়যাভী, খঃ-৪, পৃঃ-১২৩ (মিশর); তাফসী„রে ইব„নে কাসির, খঃ-৪, পৃঃ-১১২ (মিশর); তাফসী„রে কুরতুবি, খঃ-১৬, পৃঃ-২২ (মিশর); তাফসী„রে নাসাফী, খঃ-৪, পৃঃ-১০৫ (মিশর); তাফসী„রে আবু সাউদ, খঃ-১, পৃঃ-৬৬৫; তাফসী„রে জা„মে উল বায়ান, (তাবারী), খঃ-২৫, পৃঃ-৩৩; তাফসী„রে আল আকাম, খঃ-২, পৃঃ-১২১; তাফসী„রে বাহরুল মুহিয়াত (ইব„নে হাইয়্যান), খঃ-৯, পৃঃ- ৪৭৬; তাফসী„রে বিহার আল মাদিদ (ইব„নে আজি), খঃ-৫, পৃঃ-৪৩১; তাফসী„রে আবু সাউদ, খঃ-৬, পৃঃ-৮০; তাফসী„রে কাবীর, খঃ-১৩, পৃঃ-৪৩২; তাফসী„রে বাইদাবী, খঃ-৫, পৃঃ-১৫৩; তাফসী„রে আল নাসাফী, খঃ-৩, পৃঃ-২৮০; তাফসী„রে আল নিশাবুরি, খঃ-৬,পৃঃ-৪৬৭; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-১৭৩, (উর্দ্দু); আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ-১০২, ৫৮৭, (উর্দ্দু) ।

আরো এরশাদ হচ্ছে: “বলুন, যে পারিশ্রমিকেই আমি তোমাদের কা„ছ চেয়ে থাকি না কেন, তা তো তোমাদেরই জন্য।” (সূরা-সাবা, আয়াত-৪৭)

হযরত আবু বকর (রাঃ) ও সে কথাটি বলেছেন যে, “মহানবী (সাঃ)-এর সন্তুষ্টি তাঁর আহলে বাইতের ভালবাসার মধ্যে নিহিত। ” সূত্রঃ- সহীহ্ বোখারী, খঃ-৬, হাঃ-৩৪৪৭, ৩৪৭৯, (ই. ফাঃ); তাফসী„রে ইব„নে কাসির, খঃ-১৬, পৃঃ-৫২৬; (হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী, আহলে হাদীস)।

“আল্লামা যামাখশারী ও আল্লামা ফাখরে রাজী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়া„তের প্রখ্যাত দুজন তাফসীরকারক” ও বিজ্ঞ আলেম, তারা তাদের সুবিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থদ্বয় “আল কাশশাফ ও আল কাবীর” তাফসিরদ্ব„য়ে এভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন যখন উক্ত আয়াত নাযিল হলো (সূরা-শুরা-আয়াত-২৩) তখন রাসূল (সাঃ) বলেন:-

(১) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের ভালবাসা নি„য়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে, সে শহিদী মর্যাদা পায়। (২) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে, সে নাজাত প্রাপ্ত হ„য় ইহজগৎ ত্যাগ করে । (৩) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে, সে তওবাকারী হিসা„বে ইহজগৎ ত্যাগ করে। (৪) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে, সে পূর্ণ ঈমা„নের সঙ্গে ইহজগৎ ত্যাগ করে । (৫) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে, তাকে মা„লাকুল মউত, মুনকীর ও নকীর ফেরেশতারা সুসংবাদ দেয়। (৬) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে, তাকে এমন ভা„বে বেহেশতে নিয়ে যাওয়া হবে যেমন বিবা„হের দিন কন্যা তার শ্বশুরাল„য়ে যায়। (৭) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে, তার কব„রে জান্নাত মুখী দু’টি দরজা খু„লে দেয়া হবে। (৮) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে, আল্লাহ তার কবর„কে রহম„তের ফেরেশতাদের জিয়ার„তের স্থা„নের মর্যাদা দেন। (৯) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে, সে নবীর সুন্নত ও খাঁটি-মুসলমানদের দলভুক্ত হ„য়ে ইহজগৎ ত্যাগ করলো।

(*) সাবধান যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মত্যুবরণ করে, কিয়ামতের দিনে তার কপা„লে লেখা থাক„বে সে আল্লাহ পাকের রহমত হতে বঞ্চিত। (*) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মত্যুবরণ করে, সে কাফের হয়ে মারা যায়। (*) যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মত্যুবরণ করে, সে বেহেশতের সুগন্ধও পা„বে না। সাহাবারা জি„জ্ঞেস কর„লেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আপনার “আ’ল” আহলে বাইত, কারা? “নবীজি বললেন, আলী, ফাতেমা, হাসান, ও হোসেইন, তিনি আরো বলেন, আল্লাহর কসম যার হস্তে আমার জীবন, যে ব্যক্তি আমার আহলে বাইতকে শত্রু ম„নে কর„বে, সে জাহান্নামী।” সূত্রঃ- তাফসী„রে কাবির, খঃ-২৭, পৃঃ-১৬৫, (মিশর); তাফসী„রে আল কাশশাফ ওয়াল বায়ান, খঃ-৩, পৃঃ-৬৭, (মিশর); তাফসী„রে কুরতুবি, খঃ-১৬, পৃঃ-২২, (মিশর); এহইয়াউল মাইয়াত, পৃঃ-৬; আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ-৪১৮; সাওয়া„য়ে„ক মোহরিরকা, পৃঃ-১০৪; ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৫৫, ৫৯৯।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইতের চির শত্রু বনী উমাইয়াদের প্রাপাগাণ্ডায়, আহলে বাইতের ভক্তদের বা প্রেমিকদের “রা„ফেযী” না„মে ডাকা হতো।

এ প্রস„ঙ্গে ইমাম শা„ফেয়ী বলেন, যদি কেবল মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা রাখলেই মানুষ রাফেযী হ„য়ে যায়, তবে বিশ্ব জগ„তের সমস্ত জ্বীন ও মানব সাক্ষী থাকুক, আমিও রাফেযী। সূত্রঃ- কোরআনুল করিম-(মাওলানা মহিউদ্দিন খান), পৃঃ-১২১৫; শেইখ সুলাইমান কান্দুযী-ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৫৭৭; ওবাইদুল্লাহ  ওমরিতসারী-আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ-৮৮৬।

আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা জালাল উদ্দিন সূয়ুতী বর্ণনা করেন যে, পবিত্র কোরআন ও নবী (সাঃ)-এর হাদীস হতে এটা প্রমাণিত হয় যে, আহলে বাইত আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন (আঃ)-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভা„লাবাসা) দ্বী„নের ফরা„য়েজে গণ্য; সুতরাং ইমাম শা„ফেয়ী (রহঃ) এটার সমর্থ„নে এরূ€প সনদ দিয়েছেন যে, “ইয়া আহলে বাইত-এ রাসূল, আল্লাহ তাঁর নাজিল করা পবিত্র কোরআনে আপনাদের মুয়াদ্দাত„কে ফরজ করেছেন, যারা নামা„জে আপনাদের উপর দরুদ পড়„বে না, তাদের নামাজই কবুল হবে না”। সূত্রঃ- ইব„নে হাজার মাক্কীর, সাওয়া„য়েকুল মুহ„রিকা, পৃঃ-১০৩।

হযরত আলী (আঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি বীজ হতে চারা গজান ও আত্মা সৃষ্টি করেন, সেই আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল আমা„ক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ‘প্রকৃত মুমিন ছাড়া আমা„ক কেউ ভালবাসবেনা এবং মুনাফিকগণ ছাড়া কেউ আমার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন কর„বে না’।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)‘র সাহাবাগণ, ইমাম আলীর প্রতি ভালবাসা অথবা ঘৃণা দ্বারা কোন লোকের ঈমান ও নিফাক পরখ করতেন। আবু যার গিফারী, আবু সাঈদ খুদরী, আব্দুল্লাহ ইব„নে মাসউদ, জাবের ইব„নে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আমরা সাহাবাগণ আলী ইব„নে আবি তালি„বের প্রতি ঘৃণা দ্বারা মুনাফিকদের খুঁ„জে বের করতাম’। সূত্র:-সহীহ্ মুসলীম, খঃ-১, হাঃ-১৪৪, (ই,ফাঃ); জা„মে আত তিরমিযী, খঃ -৬, হাঃ- ৩৬৫৪-৩৬৫৫ (ই, সেন্টার); মেশকাত, খঃ-১১, হাঃ-৫৮৪১ (এমদাদীয়া); কা„তবী„নে ওহি, পৃঃ-২১২, (ই,ফাঃ); আশারা মোবাশশারা, পৃঃ-১৯৭ (এমদাদীয়া); হযরত আলী, পৃঃ-১৪ (এমদাদীয়া)।

কিন্তু অতি দুঃ„খের সাথে বলতে হচ্ছে, যাঁদের উপর দরুদ শরিফ না পড়„লে নামাজ কবুল হয় না, (আহযাব-৫৬) যাঁদের আনুগত্যপূর্ণ ভা„লাবাসা পবিত্র কোরআনে ফরজ করা হয়েছে, (শুরা-২৩)। সেই পাক পবিত্র আহলে বাইত-এর প্রথম সদস্য হযরত আলী (আঃ)-এর সাথে মহানবী (সাঃ)-এর ইহজগৎ ত্যাগ করার পর, কতইনা জালি„মের মত ব্যবহার করা হয়েছে তা এখন পাঠকদের সামনে তু„ল ধরবো:

৪১ হিজরি„তে আমির মুয়াবিয়া যখন কোরআন পরিপন্থি আইন রাজতন্ত্র কায়েম করলো, তখন “মুসলিম সাম্রা„জ্যের ৭০ হাজা„রেরও অধিক মসজি„দ জুম্মার খোৎবায় হযরত আলী ও রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র আহলে বাইত (আঃ)-এর উপর অভিসম্পাত প্রদা„নের হুকুম কার্যকর করে, তার আ„দেশটি ছিল এরূপ, আল্লাহর কসম। কখনও আলী„কে অভিসম্পাত দেয়া বন্ধ হবে না যতদিন শিশুগণ যুব„ক এবং যুবকগণ বৃদ্ধে পরিণত না হয়। সারা দুনিয়ায় আলীর ফজিলত বর্ণনাকারী আর কেউ থাক„বে না, মুয়াবিয়া নি„জে এবং তার গভর্নররা মসজি„দে, রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র রওজা মোবার„কের পা„র্শ্বে মিম্ব„রে রাসূ„ল দাড়ি„য়ে, তাঁর প্রিয় আহলে বাইতদের অভিসম্পাত দেয়া হতো, হযরত আলীর সন্তানরা ও নিকট আত্মীয়রা তা শুনতে বাধ্য হতেন, আর নীরবে অশ্রুপাত করতেন। কারণ তারা নিরীহ (মাজলুম) ছিলেন।” মুয়াবিয়া তার সমস্ত প্রদেশের গভর্নরদের উপর এ নির্দেশ জারি করে, যেন সকল মসজিদের খতীবগণ মিম্ব„রে রাসূল (সাঃ)-এর উপ„র দাঁড়ি„য়ে, আলীর উপর অভিসম্পাত করাকে যেন তাদের দায়িত্ব মনে করেন।

পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, তিনি “সেই আলী, যিনি মহানবী (সাঃ) -এর স্থলাভিষিক্ত ও সর্বপ্রথম নবুয়্যতের সাক্ষ্য প্রদানকারী (শোয়ারা-২১৪)। আল্লাহ যাদেরকে পবিত্র কোরআনে পবিত্র ব„লে ঘোষণা করেছেন (আহযাব -৩৩) এবং যাদের আনুগত্যপূর্ণ ভা„লাবাসা ব্যতিত ঈমান পরিপূর্ণ হয় না, (শুরা-২৩) নামা„জে নবীজির সাথে যাঁদের উপর দরুদ শরিফ ও সালাম না পাঠা„লে নামাজ কবুল হয় না, (আহযাব-৫৬)।”

সেই আহলে বাইত (আঃ)-„কে অভিসম্পাত-এর প্রথা প্রচলন করে কি মুয়াবিয়া জঘন্য অপরাধ (মুনা„ফেকি) করে নি? “প্রায় ৮৩ বৎস„রেরও অধিক সময় ধ„রে মুসলিম জাহা„নের প্রতিটি মসজি„দে আহলে বাইত (আঃ) ও আহলে বাইত-এর প্রধান সদস্য হযরত আলী (আঃ)-„কে অভিসম্পাত-এর প্রথা এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হ„য়ে গি„য়েছিল যে, যখন ওমর বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামল শুরু হলো, তখন তিনি এই জঘন্য পাপ ও বেঈমানী কর্মকাণ্ড রহিত করেন।” তখন রাসূল (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ) বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠি (মুনাফিকগণ) চারদি„কে নিম্নোক্ত বাক্য উচ্চারণ করে হৈ চৈ এর রব তুললো।

‘ওমর বিন আব্দুল আজিজ, সুন্নাত তরক করে দিলেন’, (রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র আহলে বাইত-এর প্রধান সদস্য আলী (আঃ)-„কে অভিসম্পাত দেওয়া) !

অতঃপর ওমর বিন আব্দুল আজিজ, জুমার খোৎবা থেকে মুয়াবিয়ার প্রতিষ্ঠিত (রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র আহলে বাইত (আঃ)-এর প্রধান সদস্য আলী (আঃ)-„কে) অভিসম্পা„তের অংশটি পরিবর্তন করে, পবিত্র কোরআনের এ আয়াতটি পা„ঠের আ„দেশ দন।

“নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের„ককে সুবিচার এবং সৌ‡জন্যের নির্দেশ দেন আর নির্দেশ দেন, নিকট আত্মীয়দের দান করার আর বারণ করেন অশ্লীল জঘন্য কাজ ও সীমালংঘন করতে। তিনি তোমাদের„কে সদুপ„দেশ দেন যাতে তোমরা উপ„দশ গ্রহণ কর”। (সূরা-নাহল, আয়াত-৯০)।

এখন পাঠকদের জন্য সেই সূত্র উল্লেখ করছি, যেখা„ন হযরত আলী (আঃ)-„কে অভিসম্পাত দেওয়া হতো। সূত্রঃ- খিলাফ„তের ইতিহাস, পৃঃ-১৩৯, (ইফাঃ); আরব জাতির ইতিহাস, পৃঃ-১২২, ১৬৮, (বাংলা একা„ডমী); খেলাফত ও রাজতন্ত্র, পৃঃ-১৪২, ১৪৯; মাসিক জিজ্ঞাসা, পৃঃ-১৩-১৭ (আগস্ট, সেপ্টেম্বরও,৯৫); জা„মে আত তিরমিজী, খঃ-৬, হা:-৩৬৬২ (ই,ƒসেন্টার); কারবালা ও মুয়াবিয়া (…সৈয়দ গালাম মোরশেদ), পৃঃ-৪৬-৪৮; কারবালা, পৃঃ-২১৪ (মুহাম্মাদ বরকত উল্লাহ); ইসলা„মের ইতিহাস (কে আলী), পৃঃ, ২৮১; ইসলা„মের ইতিহাস, পৃঃ-১৪৭, ১৪৯ (…সৈয়দ মাহমুদুল হাসান); শাহাদা„তে আহলে বাই„য়ত, পৃঃ-১৪৩-১৪৬ (খানকাহ আবুল উলাইয়াহ); সহীহ্ মুসলিম, খঃ-৭, হা:-৬০৪১, ৬০৪৯ (ই,ƒসেন্টার);আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ-৭, পৃঃ-৩৪১, খঃ-৮, পৃঃ-৫০, ৫৫; তারি„খে তাবারি, খঃ-৪, পৃঃ-১২২, ১৯০, ২০৭; আল কামিল, খঃ- ৩, পৃঃ-২০৩, ২৪২; জা„মেউস সিরাত, পৃঃ-৩৬৬ (ইমাম ইব„নে হাযম); তাতহিরুল জিনান ওয়াল লিসান (ইব„নে হাজার মার্কিক), পৃঃ-৪, পৃঃ-৮; আত তাকারীর লিত-তিরমিজি, পৃঃ-১৯ (মাওলানা মাহমুদুল হাসান); ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ), খঃ- ২, পৃঃ-৫০, ৩০৬।

হযরত উ„ম্মে সালমা (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আলী„ক অভিসম্পাত দিল, সে যেন আমা„কেই অভিসম্পাত দি„লো” (আর যে ব্যক্তি মহানবী (সাঃ)-কে অভিসম্পাত দিল, সে এবং তার সঙ্গীরা নিশ্চিত জাহান্নামী, যা আমরা পবিত্র কোরআনের মাধ্য„মে প„ড়েছি, তাই নয় কি?)। সূত্রঃ- মেশকাত, খঃ-১১, হাঃ-৫৮৪২; ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ), খঃ-২, পৃঃ-৫০৪; মুয়াদ্দাতুল কুরবা, পৃঃ-৪৪; মুসনা„দে হাম্বাল, খঃ-৬, পৃঃ-৩২৩,; মুস্তাদরাকে হাকেম, খঃ-৩, পৃঃ-১৩০; সুনা„নে নাসাঈ, খঃ-৫, পৃঃ-১৩৩; মাজমা আজ জাওয়াইদ, খঃ- ৯, পৃঃ-১৩০।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, সাবধান! “যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মত্যুবরণ করে, কিয়ামতের দিন তার কপা„লে লেখা থাক„বে, সে আল্লাহপাকের রহমত হতে বঞ্চিত। যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মত্যুবরণ করে, সে কাফের হ„য়ে মারা যায়। যে ব্যক্তি আ„লে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মত্যুবরণ করে, সে বেহেশতের সুগন্ধও পা„বে না।” সূত্রঃ- তাফসী„রে আল কাশশাফ ওয়াল বায়ান, খঃ-৩, পৃঃ-৬৭,(মিশর);তাফসী„রে কাবির, খঃ-২৭, পৃঃ-১৬৫, (মিশর); তাফসী„রে কুরতুবি, খঃ-১৬, পৃঃ-২২, (মিশর); এহইয়াউল মাইয়াত, পৃঃ-৬; আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ-৪১৮; সাওয়া„য়ে„ক মোহরিকা, পৃঃ-১০৪; ইয়া-নাবিউল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৫৫, ৫৯৯।

শুধু তাই নয়! ওমর বিন আব্দুল আজিজ, হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর কাছ থেকে অ†বৈধ ভা„বে কেড়ে নেওয়া সেই “বা„গে ফিদাক বাগান” ও ফেরত দেন আহলে বাইতের সদস্যদের কাছে। যেটা এতদিন বনী উমাইয়ার পান্ডারা ভোগ করছিল। জীব„নের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজগুলো করেছিলেন ওমর বিন আব্দুল আজিজ। (ƒদেখুন:- খাতু„ন জান্নাত ফাতেমা যাহরা, পৃঃ-১০৯, ১১০, ১১২, ১১৯ (রাহমানিয়া লাইঃ) হযরত ফাতেমা যাহরা, পৃঃ-১৭৭, ১৮০, ১৮৯, ১৯০ (হামিদিয়া লাইঃ) হযরত ফাতেমা জাহরা,পৃঃ-,৫৯, ৬১, ৬২, ৬৭, ৬৮ (তাজ কোং) তারি„খে খোলফা, পৃঃ-১১৯; হযরত আবু বকর (রাঃ) পৃঃ-৮৬-৯১, (মুহাম্মদ হুসাইন হায়কাল) (আধুঃ); নাহাজ আল বালাগা (অনুবাদ, জেহাদুল ইসলাম), পৃঃ, ৩৬৪-৩৭৫, ২০০১,ইং; মা„রেফা„তে ইমামাত ও „বেলা„য়েত পৃঃ-১২৭-১৩৮; মোহাম্মাদ নাজির হোসেইন।

তাই এখন ভাবুন, যারা আহলে বাইত (আঃ)-এর ফজিলত বর্ণনা করেন না, তারা মুয়াবিয়া ও এজিদ দ্বারা কোরআন পরিপন্থি রাজতন্ত্র, রাজা-বাদশাদের অনুসারী বা ভক্ত। যা বর্তমা„ন অনেক দেশে অব্যাহত রয়েছে, যে যার অনুসারী সে তারই পদ্ধতিকে অনুসরণ করবে, এটাই বাস্তব। উম্মতে মুহাম্মাদী আর কতদিন বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতার বেড়াজা„লে নি„জেদের„কে আবদ্ধ করে রাখ„বেন? তাই, কোরআন ও হাদীস-এর ভিত্তি„তে একটু বিচার-বি„শ্লেষণ করে দেখুন, বিবেককে জাগ্রত করুন, দেখবেন সত্য বেরিয়ে আসবে। মনে রাখবেন অন্ধ বিশ্বা„সের নাম ধর্ম নয়, সত্যকে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে উপলব্ধি করার নামই হচ্ছে ধর্ম।

(এই প্রবন্ধটি কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত(আ.)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা গ্রন্থ থেকে সংকলিত)

302
0
0% (نفر 0)
 
نظر شما در مورد این مطلب ؟
 
امتیاز شما به این مطلب ؟
اشتراک گذاری در شبکه های اجتماعی:

latest article

সূরা আল আনফাল;(১৪তম পর্ব)
হযরত মুসা (আ.)'র মু'জিজার কাছে ফেরাউনের ...
দোয়া কুমাইল
আল কোরআনের দৃষ্টিতে মুমিনের দায়িত্ব ...
পবিত্র রমজানের প্রস্তুতি ও ...
আদর্শ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) - ২য় পর্ব
দাওয়াতে দ্বীনের গুরুত্ব ও ...
দর্শনের যে কথা জানা হয়নি
হযরত ফাতেমার চরিত্র ও কর্ম-পদ্ধতি
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবনী-২য় পর্ব

 
user comment