বাঙ্গালী
Thursday 24th of September 2020
  70
  0
  0

জ্ঞান অর্জনের দায়িত্ব-কর্তব্য (১ম অংশ)

জ্ঞান অর্জনের দায়িত্ব-কর্তব্য (১ম অংশ)



‘তুমি বল : যারা জানে ও যারা জানে না তারা কি পরস্পর সমান? নিশ্চয়ই বোধশক্তিসম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।’১

আমাদের আলোচনার বিষয় এবং এর আকাঙ্ক্ষিত অর্থ মহানবী (সা.)-এর একটি প্রসিদ্ধ হাদীসের ওপর ভিত্তিশীল যে হাদীসের ব্যাপারে শিয়া-সুন্নী উভয় মাজহাবই ঐকমত্য পোষণ করে থাকে। আর তা হলো : ‘প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর জন্য জ্ঞান অর্জন করা বাধ্যতামূলক (ফরয)।’

এ হাদীস অনুসারে ইসলামের অন্যতম ফরয দায়িত্ব হলো জ্ঞান অর্জন করা। আরবিতে ‘ফারিদাহ’ শব্দের অর্থ বাধ্যবাধকতা অথবা দায়িত্ব এবং এর উৎস হলো ‘ফারাদা’ (একটি আরবি ক্রিয়া)-যার অর্থ কোন কিছু নিশ্চিত হওয়া বা কোন কিছু করতে বাধ্য হওয়া। আমরা যে কাজকে বর্তমানকালে ‘ওয়াজিব’ অথবা ‘মুসতাহাব’ কাজ বলি, ইসলামের প্রাথমিক যুগে সেই কাজকে ‘মাফরূদ’ (বাধ্যতামূলক) এবং ‘মাসনূন’ (তাকিদযুক্ত) বলা হতো। এখানে এটি অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ‘ওয়াজিব’ ও ‘উযূব’ শব্দ দু’টি সে সময়েও ব্যবহৃত হতো, কিন্তু ‘ফারিদাত’, ‘মাফরূদ’ এবং ‘ফারাদা’ শব্দের মতো এতটা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো না; অন্যদিকে ‘মুসতাহাব’ শব্দটি এর বর্তমান অর্থসহ সম্ভবত ইসলামী আইনশাস্ত্রবিদগণের দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছে। ‘মুসতাহাব’ শব্দটি পবিত্র কুরআনে কিংবা কোন হাদীসে ব্যবহৃত হয়নি, এমনকি প্রাথমিক যুগের ইসলামী আইনশাস্ত্রবিদগণও তাঁদের লেখায় এটি ব্যবহার করেননি। অতীতকালে তাঁরা ‘মুসতাহাব’ শব্দের পরিবর্তে ‘মাসনূন’ ও ‘মানদূব’ শব্দ ব্যবহার করতেন।

জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক এবং কোন একটি বিশেষ শ্রেণী বা উপশ্রেণীর জন্য তা নির্দিষ্ট নয়। ইসলামের পূর্ববর্তী সভ্যতাসমূহে জ্ঞান অর্জন কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর অধিকারের ব্যাপার ছিল। কিন্তু ইসলামে জ্ঞান অর্জন একটি বাধ্যতামূলক (ফরয) কাজ এবং নামায আদায় করা, রোযা রাখা, যাকাত প্রদান করা, হজ্বে যাওয়া, জিহাদে অংশগ্রহণ করা এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের মতো জ্ঞান অর্জন করাও প্রত্যেকের ওপর আবশ্যিক দায়িত্ব। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামের সকল মাজহাব এবং সকল পণ্ডিত এই বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। আর হাদীসের গ্রন্থাবলীতে ‘বাব-উ উযূব-ই তালাবিল ইলম’ (জ্ঞান অর্জন ফরয হওয়ার অধ্যায়) নামে একটি অধ্যায় রয়েছে।

সুতরাং উপর্যুক্ত হাদীসটি সকলের দ্বারা গৃহীত হয়েছে। আর তাই যদি এ হাদীসের বিষয়ে কোন আলোচনার প্রয়োজন হয় তবে তা কেবল এর ব্যাখ্যা এবং ক্ষেত্র সম্পর্কিত।

ইসলামী জাতিসমূহের জন্য শর্তসমূহ

কীভাবে ইসলাম জনসাধারণকে জ্ঞানের দিকে আহ্বান জানিয়েছে এবং কুরআন থেকে এ সম্পর্কিত আয়াত বা ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের নিকট থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের উল্লেখ এবং এ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত ইতিহাসের অংশ নিয়ে আলোচনা করার কোন প্রয়োজন এখানে নেই। আমি ইসলাম ধর্মের প্রশংসা করতে চাই না কিংবা বারবার আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই না এই বলে যে, কীভাবে ইসলাম জ্ঞানকে সমর্থন করেছে এবং মানবতাকে এর দিকে ধাবিত করেছে; কারণ, এ বিষয়টি অতীতেও অসংখ্য বার বলা হয়েছে এবং বর্তমানেও বলা হচ্ছে, আর আমি বিশ্বাস করি এগুলো খুব একটা ফলপ্রসূ নয়। এ কথাগুলো আসলে ব্যর্থ হয়ে গেছে। আর তাই যখন কেউ মুসলিম জাতির দিকে লক্ষ্য করে তখন দেখে যে, তারা হলো বিশ্বের সবচেয়ে মূর্খ ও অশিক্ষিত জাতি। এ অবস্থায় সেই ব্যক্তি নিদেনপক্ষে যে প্রশ্নটি করতে পারে তা হলো : ‘যদি এসব কথা সত্য হয়ে থাকে এবং ইসলাম জ্ঞানকে এভাবে সমর্থন করে থাকে তাহলে বিশ্বের জাতিসমূহের মধ্যে মুসলমানরা কেন জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারী জাতি?’

আমি বিশ্বাস করি যে, জ্ঞান সম্পর্কিত উপরিউক্ত নিরর্থক প্রচারণা যা কেবল আমাদের সাময়িকভাবে তৃপ্তি দেয়, তার পরিবর্তে আমাদের উচিত আমাদের সমাজের সমস্যাবলীর দিকে অধিক মনোযোগ দেওয়া। আমাদের বৈজ্ঞানিক পশ্চাদপদতার মূল কারণ নিয়ে চিন্তা করা উচিত এবং এসব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।

সাইয়্যেদ মূসা সাদর (র.) তাঁর এক বক্তব্যে আল্লামা শারাফ উদ্দিনের কতিপয় কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন যে, যদিও আল্লামা শারাফ উদ্দিন আহলে বাইতের পরিচিতির ওপর বড় বড় গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু যখন তিনি লেবাননে আহলে বাইতের অনুসারীদের অবস্থা দেখলেন যে, তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক হলেন শিক্ষক, ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার, আর অন্য সবাই কুলি-মজুর, স্নানাগারের তত্ত্বাবধায়ক, টোকাই ইত্যাদি, তখন তিনি তাঁর গ্রন্থের প্রভাব কেমন হতে পারত তা নিয়ে চিন্তা করলেন। তিনি এ ভেবে চিন্তিত হলেন যে, মানুষ বলতে পারে : ‘যদি এ মাজহাব উত্তম আকীদা-বিশ্বাসের অধিকারী হয়, তাহলে এদের অবস্থা অবশ্যই এর চেয়ে ভাল হবে।’

এটি তাঁকে একটি পবিত্র আন্দোলন গড়ে তুলতে এবং লেবাননের আহলে বাইতের অনুসারীদের অবস্থার উন্নতির জন্য বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড শুরু করার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করতে বাধ্য করল। এরপর তিনি সেখানে অনেক স্কুল-কলেজ, জাতিগঠনমূলক প্রতিষ্ঠান এবং দাতব্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সাধারণভাবে বিশ্বের অন্যান্য মানুষের তুলনায় মুসলমানদের অবস্থা লেবাননে আল্লামা শারাফ উদ্দিনের আন্দোলনের সূচনালগ্নে লেবাননের অন্য লোকদের তুলনায় আহলে বাইতের অনুসারীদের যে অবস্থা ছিল সেই রকমই।

আমরা ইসলাম সম্পর্কে যা-ই বলি না কেন-জ্ঞানের প্রতি এর সমর্থন এবং জ্ঞান অর্জন সম্পর্কে এর উৎসাহদানকারী বাণী-কোন কিছুই ইসলামী জাতিসমূহের বর্তমান অবস্থার ওপর কোন প্রভাব ফেলবে না। এ কথাগুলো সর্বোচ্চ যা করতে পারে তা হলো শ্রোতাদের জন্য একটি প্রশ্ন উত্থাপন : ‘যদি এ কথাগুলো সত্য হয়ে থাকে তবে কেন মুসলমানরা এমন দুরবস্থার মধ্যে পড়ে আছে?’

এখন আমি আপনাদের একটি গল্প শোনাব। তবে এর আগে আমি জ্ঞান অর্জন সম্পর্কিত মহানবী (সা.)-এর নিকট থেকে বর্ণিত চারটি হাদীস বলব এবং এগুলোকে ব্যাখ্যা করব। কারণ, এগুলো আমার এই গল্পের সাথে সম্পর্কিত।

চারটি হাদীস

১. প্রথম হাদীস

এ চারটি হাদীসের অন্যতম হলো পূর্বে উল্লিখিত ঐ হাদীস যেখানে বলা হয়েছে যে, জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই বাধ্যতামূলক। কারণ, হাদীসে বর্ণিত ‘মুসলিম’ শব্দটির অর্থ মুসলমান-সে পুরুষ হোক বা নারী। বিহারুল আনওয়ার ও অন্যান্য গ্রন্থে কয়েকটি হাদীসে ‘মুসলিম’ শব্দের সাথে ‘ওয়া মুসলিমাহ’ (এবং মুসলিম নারী) শব্দগুলোও যুক্ত রয়েছে।

যা হোক, এ হাদীস অনুসারে জ্ঞান অর্জন করা একটি বাধ্যবাধকতা কর্ম এবং তা কোন নির্দিষ্ট লিঙ্গ বা শ্রেণির জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এমনও বিষয় থাকতে পারে যা যুবকদের জন্য বাধ্যতামূলক, কিন্তু বয়স্কদের জন্য নয়; অথবা শাসকের জন্য কোন একটি বিষয় বাধ্যতামূলক হতে পারে যা শাসিতের জন্য নয় অথবা এর বিপরীতও হতে পারে। আবার কতিপয় দায়িত্ব পুরুষের জন্য বাধ্যতামূলক, অথচ নারীর জন্য নয়; উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, জিহাদ এবং জুমআর নামায পুরুষের জন্য বাধ্যতামূলক, নারীর জন্য নয়। কিন্তু জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তা কোন একটি শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট নয়।

২. দ্বিতীয় হাদীস

মহানবী (সা.) বলেছেন : ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন কর।’

এর অর্থ হলো জ্ঞান অর্জনের জন্য কোন সময়কে নির্দিষ্ট করা হয়নি; বরং এটি সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য।

প্রথম হাদীসটি সকল ধরনের লিঙ্গ ও শ্রেণিগত সীমাবদ্ধতাকে বাতিল করে দিয়ে এটাকে সর্বজনীন করেছে, আর এই হাদীস কালের দিক থেকে বিষয়টিকে সর্বকালীন করেছে। এমনও হতে পারে যে, কোন একটি ফরয কাজ একটি নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ এবং তা অন্য সময়ে সম্পাদন করা অসম্ভব। যেমন রমযান মাসে রোযা রাখার বাধ্যবাধকতা একটি বিশেষ সময় অর্থাৎ রমযান মাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রতিদিনের নামাযসমূহের জন্যও দিনের ভিন্ন ভিন্ন নির্দিষ্ট সময় রয়েছে এবং তা ঐ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আদায় করতে হয়। তেমনি হজ্বও একটি ফরয বিষয় যা কেবল যিলহজ্ব মাসে আদায় করতে হয়। কিন্তু জ্ঞান অর্জন কোন নির্দিষ্ট সময় বা বয়সের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়।

৩. তৃতীয় হাদীস

মহানবী (সা.) বলেছেন : ‘চীন থেকে হলেও জ্ঞান অর্জন কর।’২

সম্ভবত হাদীসে চীন দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এ কারণে যে, সেই সময় এটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী স্থান যেখানে মানুষ যেতে পারে অথবা এটি বিজ্ঞান ও শিল্পের সূতিকাগার হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিল।

এ হাদীস নির্দেশ করে যে, জ্ঞান অর্জন করার বিষয়টি স্থান ও কালের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সম্ভব যে, একটি ফরয কাজ স্থানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ এবং অন্য কোন স্থানে তা পালন করা যায় না। যেমন হজ্বের বিধানাবলী কাল ও স্থানের গণ্ডিতে আবদ্ধ। মুসলমানরা হজ্বের বিধান পালন করে মক্কায়, যেখান থেকে ইসলাম আবির্ভূত হয়েছিল এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। আর হজ্ব আদায় করতে হবে হযরত ইবরাহীম (আ.) ও তাঁর পবিত্র সন্তান হযরত ইসমাঈল (আ.) কর্তৃক নির্মিত ঘরের পাশে।

মুসলমানরা সকলে একমত হয়ে অন্য কোন স্থানকে হজ্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট করতে পারে না। সুতরাং এই ফরয হলো গণ্ডিভূত। কিন্তু জ্ঞান অর্জনের জন্য কোন স্থানকে নির্দিষ্ট করা হয়নি এবং যেখানেই জ্ঞান রয়েছে সেখান থেকেই তা অর্জন করতে হবে-তা মক্কা, মদীনা, মিসর, সিরিয়া, ইরাক অথবা বিশ্বের যে কোন দূরবর্তী স্থানই হোক না কেন। জ্ঞান অর্জনের জন্য দূরবর্তী স্থানে গমন ও হিজরত করার সওয়াবের ব্যাপারে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, এমনকি কুরআনের এ আয়াতটিও এ সম্পর্কেই : ‘এবং যে কেউ আল্লাহর পথে হিজরত করবে, সে পৃথিবীতে বহু (নিরাপদ) স্থান ও (ধর্মপালন ও কর্মের ক্ষেত্রে) প্রশস্ততা লাভ করবে। আর যে কেউ নিজ গৃহ হতে মুহাজির হয়ে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরতের উদ্দেশে বের হয়, অতঃপর (লক্ষ্যে পৌঁছানোর পূর্বে) তার মৃত্যু হয়, তবে তার প্রতিদান দেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।...’ (সূরা নিসা : ১০০)

‘আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত’কে জ্ঞান অর্জনের জন্য হিজরত ও সফর বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। হাদীসে এটি উল্লেখ করা হয়েছে : ‘যদি তুমি জানতে যে, জ্ঞান অন্বেষণ ও অর্জনের ফলে তুমি কী সফলতা লাভ করবে, তাহলে তুমি জ্ঞানের পেছনে ধাবিত হতে যদি এ পথে তোমার রক্তও ঝরত অথবা এর জন্য তোমার সাগরে ডুব দেওয়ার এবং মহাসমুদ্রের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করারও প্রয়োজন হতো।’৩

৪. চতুর্থ হাদীস

মহানবী (সা.) বলেছেন : ‘প্রজ্ঞা হলো মুমিনের হারানো সম্পদ এবং যে ব্যক্তি কোন কিছু হারিয়েছে, সে যেখানেই তা খুঁজে পায় তা লুফে নেয়।’

‘প্রজ্ঞা’ শব্দটি একটি দৃঢ়, গভীর তাৎপর্যমণ্ডিত ও যুক্তিপূর্ণ শব্দ যার অর্থ হলো সত্য উদ্ঘাটন করা। যে কোন বিধান যা সত্যের সাথে একমত পোষণ করে এবং যা মনগড়া নয় সেটাই হলো প্রজ্ঞা।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : ‘একটি জ্ঞানপূর্ণ কথা হলো বিশ্বাসীদের হারানো বস্তু। সুতরাং মুনাফিকের নিকট থেকে হলেও জ্ঞানপূর্ণ কথার উপকারিতা গ্রহণ কর। তোমরা বিশ্বাসীরা এটি অর্জন করার অধিকতর হকদার।’৪

জ্ঞান আহরণের জন্য একটি শর্ত হলো জ্ঞান অবশ্যই সত্য ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যশীল হতে হবে। আর যদি এমনটিই হয়, তাহলে আপনি কোথা থেকে জ্ঞান অর্জন করছেন সেটা নিয়ে আপনার চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু কোন বিষয়ের সত্যতার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত হলে এ ক্ষেত্রে কতিপয় শর্ত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যারা মিথ্যা থেকে সত্যকে পৃথক করতে পারে না তারা অবশ্যই যারা ভুল পথে রয়েছে তাদের নিকট থেকে কোন বক্তব্য শ্রবণ করবে না। তাদেরকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। যদি তারা সতর্ক না হয় তাহলে এটি তাদেরকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে। কিন্তু এমনও ক্ষেত্র রয়েছে যখন এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বক্তব্যটি সত্য সে ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করায় কোন সমস্যা নেই। যেমন ঔষধ বা প্রকৃতি বিজ্ঞানের কোন আবিষ্কার। তাই এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সে যেন এ বিষয়গুলো শিক্ষা করে। ঈসা (আ.)-এর নিকট থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে : ‘সত্য উদ্ঘাটন কর এবং তা গ্রহণ কর, এমনকি তা অসত্যের (অসত্য ধর্মের) ওপর যারা রয়েছে তাদের নিকট থেকে হলেও; কিন্তু মিথ্যাকে গ্রহণ কর না যদি তা সত্যের (সত্য ধর্মের) ওপর যারা রয়েছে তাদের নিকট থেকেও হয়।’৫

এ হাদীসে যা বলা হয়েছে আপনাদেরকে অবশ্যই সেটা বিশ্লেষণ করা উচিত।

এমন হাদীস একজন মুসলমান কার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করবে সে ক্ষেত্রেও সকল সীমাবদ্ধতাকে অপসারণ করেছে। কিন্তু অন্য অনেক ফরয বিধানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিও একটি শর্ত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জামা‘আতে নামাযের জন্য একজন ইমাম থাকতে হবে এবং ইমাম হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যেমন তাঁকে মুসলমান হতে হবে, বিশ্বস্ত হতে হবে এবং ন্যায়পরায়ণও হতে হবে; কিন্তু এর বিপরীতে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে এমন কোন শর্ত আরোপ করা হয়নি।

এখন আমি আপনাদের সেই গল্পটি বলব যে গল্পের সাথে এসব হাদীস সম্পর্কযুক্ত। আমাদের একজন পণ্ডিত বন্ধু সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ ফারযান বর্ণনা করেছেন যে, অতীতে, ইরানের শাসনতান্ত্রিক আন্দোলনের৬ শুরুতে সাইয়্যেদ হাইবাত আল দীন শাহরেস্তানী (র.) ইরাকে ‘আল ইলম’ (জ্ঞান) নামে একটি আরবি সাময়িকী প্রকাশ করতেন এবং এটি দু’ বা তিন বছর প্রকাশিত হয়। এ সাময়িকীর পেছনের কভারে ‘আল ইলম’ শব্দটি নাসতালিক ক্যালিগ্রাফি স্টাইলে লেখা হয়েছিল এবং এর চার কোণায় উপরোল্লিখিত এ চারটি হাদীস লেখা হয়েছিল।

একবার এ সাময়িকীতে লেখা হয়েছিল যে, একজন জার্মান প্রাচ্যবিদ জনাব শাহরেস্তানীর সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন এবং তিনি এ চারটি হাদীস সাময়িকীটির পেছনের কভারে দেখেন। তিনি শাহরেস্তানীকে এগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তাঁকে বলা হয়েছিল যে, এগুলো হলো জ্ঞান অর্জন সম্পর্কে আমাদের নবী (সা.)-এর চারটি বাণী। এসব হাদীস অনুবাদ করার জন্য তিনি তাঁদেরকে বলেন। হাদীসগুলোর অনুবাদ শোনার পর তিনি অল্পক্ষণ চিন্তা করেন এবং এগুলো সম্পর্কে তাঁর বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, লিঙ্গ, কাল, স্থান এবং শিক্ষকের ধরন সম্পর্কে কোনরূপ সীমাবদ্ধতা আরোপ ছাড়াই জ্ঞান অর্জনের জন্য এত উৎসাহব্যঞ্জক বাণী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মুসলমানরা জ্ঞান অর্জনে এত পিছিয়ে রয়েছে এবং তাদের মধ্যে অশিক্ষিতের হার এত বেশি!

কেন এই বিধানকে অবহেলা করা হয়েছে এবং এটাকে একটি বাধ্যতামূলক (ফরয) বিষয় হিসাবে গণ্য করা হয়নি, আর কেনই বা এসব নির্দেশ মুসলিম দেশগুলোতে যুগের পর যুগ পালন করা হয়নি তা একটি রহস্য। নিশ্চয়ই ইতিহাসের পরিক্রমায় ইসলাম বিশ্বে একটি বৃহৎ বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল এবং বহু শতাব্দী ধরে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও সভ্যতায় অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেছিল।

ইসলাম এমন একটি ধর্ম যে ধর্মের নবীর ওপর সর্বপ্রথম যে আয়াতগুলো নাযিল হয়েছিল তা শুরু হয়েছিল এভাবে : ‘পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি (সকল কিছু) সৃষ্টি করেছেন, তিনি মানুষকে ঘনীভূত রক্ত হতে সৃষ্টি করেছেন। পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালক মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।’ সূরা আলাক : ১-৫

এখন প্রশ্ন হলো : যে ধর্মের প্রথম মৌলিক নীতি হলো তাওহীদ (আল্লাহর একত্ববাদ) এবং যা চিন্তা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা আরোপ করে না সে ধর্ম কীভাবে একটি মহান সভ্যতা সৃষ্টিতে ব্যর্থ হতে পারে?

কেন এই ইসলামী দায়িত্বটি পরিপূর্ণভাবে পালন করা হয়নি?

নিশ্চিতভাবেই এর অন্যতম কারণ ছিল খলীফাদের কর্মকাণ্ড যা মুসলিম জীবনধারায় সমস্যা সৃষ্টি করেছিল। এটি একটি স্তরবিশিষ্ট সমাজ তৈরি করেছিল যার সাথে ইসলামী বিধিবিধানের কোনরূপ সম্পর্ক ছিল না। তাই সেই সমাজ দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল-যার একটি ছিল পশ্চাদপদ শ্রেণি, আর অপর শ্রেণিটি ছিল অপরিণামদর্শী, অসংযত এবং উদ্ধত ও অহংকারী, যারা জানত না যে, কী করবে। যখন জনসাধারণের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন এমন দায়িত্ব পালন করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে, এমনকি কতিপয় বিষয় এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

এ সমস্যার অন্য একটি কারণ ছিল বিজ্ঞানের প্রতি অমনোযোগী হওয়া। কারণ, তখন মনোযোগ অন্য কোন বিষয়ের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছিল-যেন একটি জমার খাতের হিসাব অন্য একটি হিসাবে স্থানান্তরিত হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তি কিছু টাকা দিয়ে ব্যাংকে একটি হিসাব খুলল এবং তারপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই হিসাব থেকে টাকাটি অন্য হিসাবে স্থানান্তরিত করল।

একটি দল দাবি করে যে, জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে ইসলামী নীতিমালাকে এ কারণে অবহেলা করা হয়েছিল যে, ইসলাম যে বিষয়গুলোকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং সাক্ষরতা অর্জনে প্রণোদনামূলক বলে বিবেচনা করত এবং জ্ঞানের মর্যাদা বলে বিবেচনা করত সেগুলোকে মুসলিম পণ্ডিতগণের (উলামা) মর্যাদা বলে বিবেচনা করা হয়েছিল, যেমন তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ইত্যাদি। মানুষ জ্ঞান অন্বেষণ করা ও শিক্ষিত হওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়ার পরিবর্তে ইসলামী পণ্ডিতগণের সান্নিধ্য অর্জন এবং তাঁদেরকে সম্মান প্রদর্শনের দিকে মনোনিবেশ করেছিল। আর এগুলোই মুসলমানদেরকে বর্তমান অবস্থার দিকে পরিচালিত করে।

উপর্যুক্ত দাবিকে যে কোনভাবেই হোক সত্য বলে মেনে নিতে হয়, যদিও মুসলিম পণ্ডিতগণ এমন কাজ করেননি। এটি ছিল মসজিদের মিম্বার হতে সাধারণ ধর্মপ্রচারকদের নিকট থেকে জ্ঞানের পরিবর্তে জ্ঞানী ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত বক্তব্য শোনার ফল।

আরেকটি সমস্যা ছিল যে, কখনও কখনও ইসলামী জ্ঞানের কোন নির্দিষ্ট শাখার পণ্ডিতগণ দৃঢ়ভাবে এ দাবি করতেন যে, মহানবী (সা.)-এর নিকট থেকে বর্ণিত হাদীসে ‘ফরয’ (বাধ্যতামূলক) বলতে কেবল তাদের বিষয় সম্পর্কিত জ্ঞানের কথাই বলা হয়েছে, অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে নয়।

কোন্ জ্ঞান?

মোল্লা মুহসিন ফাইযের আল মাহাজ্জাতুল বাইদা গ্রন্থ হতে আমি একটি বিষয় জানতে পেরেছি যা তিনি গাযযালী থেকে নিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন যে, ইসলামী পণ্ডিতরা উপর্যুক্ত হাদীসের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রায় বিশটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁদের প্রত্যেকে দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, উল্লিখিত হাদীসটি কেবল তাঁদের বিষয় অধ্যয়নের কথাই বলেছে। যেমন, ধর্মতাত্ত্বিকগণ বলেছেন যে, উল্লিখিত হাদীস দ্বারা মহানবী (সা.) ইসলামী ধর্মতত্ত্বকে বুঝিয়েছেন। কারণ, এটি হলো ধর্মীয় মৌলনীতি সংক্রান্ত বিজ্ঞান। নীতি-নৈতিকতার পণ্ডিতগণ বলেছেন যে, এর উদ্দেশ্য হলো নীতিবিজ্ঞান অর্থাৎ সেসব বিষয় অধ্যয়ন যা মানুষকে সুখের দিকে পরিচালিত করে অথবা সুখের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আইনজ্ঞরা বলেছেন যে, ফেকাহ্শাস্ত্রই হলো এ হাদীসের উদ্দেশ্য। কেননা, প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজের ধর্মীয় দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে হবে-নিজে একজন মুজতাহিদ (আইনজ্ঞ) হওয়ার মাধ্যমে অথবা সবচেয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন মুজতাহিদের অনুসরণের মাধ্যমে।

তাফসীরকারগণ বলেছেন যে, কুরআনের তাফসীরের কথাই বলা হয়েছে। কারণ, জ্ঞান বলতে আল্লাহর কিতাবের জ্ঞানকেই বুঝায়। হাদীসের পণ্ডিতগণ বলেন যে, হাদীসশাস্ত্রের কথাই বলা হয়েছে। কারণ, যে কোন কিছু, এমনকি কুরআনকেও হাদীস দ্বারা ব্যাখ্যা করতে হবে। সুফিরা বলেছেন, আধ্যাত্মিকতা এবং আধ্যাত্মিক অবস্থান সম্পর্কিত জ্ঞানকেই বোঝানো হয়েছে। প্রতিটি দলের ব্যাখ্যা উল্লেখ করার পর গাযযালী একটি মন্তব্য করেছেন যা তুলনামূলকভাবে ব্যাপক। সংক্ষেপে তা হলো মহানবী (সা.) উপরোল্লিখিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোন একটি বিষয়কে নির্দিষ্ট করে বোঝাননি; আর যদি তিনি এগুলোর কোন একটিকে বিশেষভাবে বোঝাতেন, তাহলে তিনি তা উল্লেখ করতেন।

আমাদের যা করতে হবে তা হলো ব্যক্তিগত (ফরযে আইনী) অথবা সামষ্টিক দায়িত্ব (ফরযে কেফায়ী) হিসাবে কোন্ দায়িত্বটি পালন করা ইসলামে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রথমে সেটি উদ্ঘাটন করা। আর তারপর সেসব দায়িত্ব পালনের জন্য যে জ্ঞানের প্রয়োজন হোক না কেন সেই জ্ঞান অর্জন করা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে।

প্রাথমিক বাধ্যবাধকতা

মুসলিম আইনবিদগণ জ্ঞান অর্জনের বাধ্যবাধকতাকে ‘প্রাথমিক’ এবং ‘স্বয়ং বাধ্যতামূলক’ হিসাবে বিবেচনা করেন। এর অর্থ হলো, জ্ঞান অর্জনের বাধ্যবাধকতা সেগুলোর মতো নয় যেগুলো কেবল অপর কোন বাধ্যবাধকতার (ফরযের) পূর্বশর্ত হিসাবে বাধ্যতামূলক, কিন্তু নিজেই বাধ্যতামূলক নয়। জ্ঞান অর্জনের বাধ্যবাধকতা স্বয়ং একটি বাধ্যতামূলক কাজ। আইনজ্ঞরা বলেন যে, এই প্রাথমিক বাধ্যবাধকতা হলো বিধিবিধান জানার জন্য, যেন এটি সাধারণভাবে বিবেচনা করা হয় যে, ইসলামী দায়িত্ব পালন এ বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল যে, মুসলমানরা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে নিজেরাই জানবে এবং এভাবে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেগুলোকে পালন করতে সক্ষম হবে।

সুতরাং, অর্জিত জ্ঞানের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা হলো এই যে, একজন মুসলমান আইনশাস্ত্রের পণ্ডিত হবে অথবা তাঁদের কোন একজনের (আইনবিদের) অনুসারী হবে। এটি স্পষ্ট যে, দায়িত্ব-কর্তব্য এবং ধর্মীয় নির্দেশসমূহ জানার প্রয়োজনীয়তার মতো ইসলামে আরও অনেক বাধ্যতামূলক কাজ রয়েছে যেসবের জন্য জ্ঞান, অধ্যয়ন এবং দক্ষতার প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, একটি সামষ্টিক বাধ্যবাধকতা (ফরযে কেফায়ী) হলো ডাক্তারী পেশায় নিয়োজিত হওয়া যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন ছাড়া অসম্ভব এবং এ ধরনের জ্ঞান অর্জন হলো বাধ্যতামূলক এবং অন্য অনেক জ্ঞানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

মানুষ অবশ্যই যা লক্ষ্য করবে তা হলো ইসলামী সমাজের প্রয়োজন ও আবশ্যকতাগুলো কী কী এবং এগুলো শিক্ষা গ্রহণ ছাড়া সঠিকভাবে পূরণ করা যায় না। আর তাই এর জ্ঞান অর্জন করাও অবশ্যই বাধ্যতামূলক। জ্ঞান অর্জনের বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে সমাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর। একটি সময় ছিল যখন খামার, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাজনীতি করার জন্য তেমন জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন হতো না। সে সময় একজন ব্যক্তি সংক্ষিপ্ত সময়ের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অথবা এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তির সহকারী হিসাবে কাজ করার মাধ্যমে রাজনীতিক, খামারী অথবা বণিক হতে পারত। কিন্তু বর্তমান কালে উপরোল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনটিই বর্তমান বিশ্ব ও জীবনোপযোগী জ্ঞান ছাড়া সম্ভব নয়।

এমনকি বর্তমানে খামার স্থাপনও অবশ্যই বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত নীতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। যদি একজন ব্যবসায়ী অর্থনীতি না পড়েন, তিনি একজন দক্ষ ব্যবসায়ী হতে পারবেন না। একই কথা রাজনীতিবিদ হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বর্তমানকালে ব্যবসা-বাণিজ্য এতটাই বিস্তৃতি লাভ করেছে যে, জ্ঞান এবং পেশাদারিত্ব ছাড়া কোনভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কারো সহকারী হিসাবে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ নেয়ার মাধ্যমে যে চাকুরি করা সম্ভব ছিল সেটার প্রকৃতি এখন এতটাই ভিন্ন হয়ে গেছে যে, কোন টেকনিক্যাল স্কুল বা কলেজে না গিয়ে তা শিক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর বর্তমানে অধিকাংশ চাকুরির ক্ষেত্রেই টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এবং টেকনিশয়ানের প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র :

১. সূরা যুমার : ৯

২. বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসী, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৮০

৩. প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৭৭ (ব্যাখ্যাগত সামান্য পরিবর্তনসহ)

৪. নাহজুল বালাগা, আসকারী জাফরী কৃত অনুবাদ, বাণী নং ৮০

৫. বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯৬

৬. মাশরুতীয়াত

(প্রত্যাশা,২য় বর্ষ,৪র্থ সংখ্যা)

  70
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article

বিশ্ব কুদস দিবস পালন: ইহুদিবাদী ...
৪৭২ কন্যার গর্বিত পিতা যিনি
‘মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা.)’ মুভি ...
দেওবন্দকে ‘সন্ত্রাসীদের কারখানা’ ...
আহত এক ফিলিস্তিনিকে হত্যাকারী ...
মাহে রমজান আসন্ন : সালাতে তারাবী না ...
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ ভারতের ...
বিশ্বশক্তি চায় খণ্ড খণ্ড সিরিয়া
খুলনায় আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানীর ...
মোকতাদা সদরের সমর্থকদের দখলে ইরাকের ...

 
user comment