বাঙ্গালী
Sunday 19th of September 2021
273
0
نفر 0
0% این مطلب را پسندیده اند

রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানালেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

আবনা ডেস্ক: মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রধান সেদেশের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
সেনাপ্রধান মিন অং হেলিয়াং রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দেয়া, নির্যাতন, বিতাড়ন প্রভৃতি পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দাবি করেছেন, ওই প্রদেশে বসবাসকারী বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষ অভিবাসী এবং তারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় তাদের কয়েকটি চেকপোস্টে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলার অজুহাতে গত অক্টোবর থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হামলা শুরু করে। এতে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় মিয়ানমারের সেনা প্রধানের এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সম্প্রতি রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে সরকার সম্মত হয়েছে বলে তারা যে দাবি করেছিল তা ছিল একটি কৌশলমাত্র এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুরবস্থার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টি থেকে আড়াল করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।
রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যাকাণ্ডের প্রতি সেনা প্রধানের সমর্থন থেকে বোঝা যায়, মুসলিম বিরোধী সহিংসতা অব্যাহত থাকবে এবং উগ্র বৌদ্ধদের সবুজ সংকেতেই তা চলবে। কারণ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উগ্র বৌদ্ধরাও হত্যা, ধর্ষণ ও জুলুম নির্যাতনে শামিল হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ ও জুলুম নির্যাতনের বিষয়ে তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পরই মিয়ানমারের সেনা প্রধান মুসলিম হত্যাকাণ্ডের প্রতি তার সমর্থনের কথা জানালেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ওই সিদ্ধান্তের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসাবে মিয়ানমারের সেনা প্রধান এ ধরণের উগ্র বক্তব্য দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী গত অক্টোবর থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নতুন করে সহিংসতা শুরু করে এবং সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড বন্ধের জন্য জাতিসংঘের আহ্বান উপেক্ষা করে চলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলিম হত্যাকাণ্ডের প্রতি মিয়ানমারের সেনা প্রধানের সমর্থন নৈতিক ও মানবীয় মূল্যবোধ বিবর্জিত এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সব সংস্থার নিয়মনীতির প্রকাশ্য লঙ্ঘন যারা কিনা বহুবার সহিংসতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
মিয়ানমার সরকার এটা ভালো করেই জানে যে, জাতিসংঘের তদন্ত টিম পাঠানো হলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনীর জুলুম নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়বে। এ কারণে তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রস্তাব মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছে। অনেকের মতে আন্তর্জাতিক সমাজকে ধোঁকা দেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকার ওই সম্মতির কথা জানিয়েছে।
মিয়ানমার সরকার এটা ভালো করেই জানে যে, প্রচণ্ড আতঙ্কের কারণে শরণার্থীরা বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসতে চাইবে না। আর এটা বুঝেই তারা শরণার্থী ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছে। এ অবস্থায় মিয়ানমার সরকার প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যিই আন্তরিক কিনা তা দেখার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ দিতে পারে যদিও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা হয়তো সেটাও মানতে চাইবেন না।#

273
0
0% (نفر 0)
 
نظر شما در مورد این مطلب ؟
 
امتیاز شما به این مطلب ؟
اشتراک گذاری در شبکه های اجتماعی:

latest article

আইএসআইএল বিরোধী লড়াইয়ে নামল ৬,০০০ ...
আল আযহারের নতুন মুফতির মতামত ...
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: জাতিসংঘের ...
নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে ...
খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ইমাম ...
আউলিয়াদের জীবন : আলহাজ মো. ওসমান আলী রহ
ইয়েমেন ইস্যুতে জাতিসংঘ সৌদিকে অন্ধ ...
আন-নুসরা জঙ্গি গোষ্ঠীর সর্ববৃহৎ ...
মসুলে বোমা বিস্ফোরণ : ২৮ জন হতাহত
ISIS Has Taken Hostage 450 Iraqi Shia Turkmens

 
user comment