বাঙ্গালী
Saturday 8th of August 2020
  2444
  0
  0

ইয়েমেনে সৌদি হামলার নেপথ্যে ইসরাইল : আনসারুল্লাহ প্রধান

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা- : সৈয়দ হুসাইন আল-হুথি’র শাহাদাত বার্ষিকীতে প্রদত্ত এক ভাষণে আনসারুল্লাহ প্রধান বলেন, ইয়েমেনের উপর হামলার দ্বিতীয় বছর অতিক্রম করছি আমরা। এ হামলা বড় শয়তান আমেরিকার নেতৃত্ব ও পরামর্শে তারই ক্রীড়া
ইয়েমেনে সৌদি হামলার নেপথ্যে ইসরাইল : আনসারুল্লাহ প্রধান

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা- : সৈয়দ হুসাইন আল-হুথি’র শাহাদাত বার্ষিকীতে প্রদত্ত এক ভাষণে আনসারুল্লাহ প্রধান বলেন, ইয়েমেনের উপর হামলার দ্বিতীয় বছর অতিক্রম করছি আমরা। এ হামলা বড় শয়তান আমেরিকার নেতৃত্ব ও পরামর্শে তারই ক্রীড়ানকের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং এর নেপথ্যে রয়েছে ইসরাইল। ইরিত্রিয়ায় অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি থেকে এ সামরিক হামলায় অংশ নিচ্ছে ইসরাইল।

সৈয়দ আব্দুল মালেক হুথি বলেন: ইসরাইল এ যুদ্ধকে স্বাগত জানিয়ে সৈন্যদের প্রশিক্ষণে আগেও সহযোগিতা করেছে এবং বর্তমানেও করছে। ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে ভয়াবহ নানান অপরাধ করেছে আগ্রাসীরা। তারা নিরাপরাধ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে আমাদের দেশকে বিরান ভূমিতে পরিণত করেছে। কোন গ্রহণযোগ্য যুক্তি ছাড়াই এ আগ্রাসন শুরু করা হয়েছে। এ হামলা ছিল অবৈধ এবং সৌদি সরকার এতে লাভবান হয়নি।

এ বিষয়ে যারা খোঁজ-খবর রাখেন তারা ভালভাবেই জানেন যে, এমন যুদ্ধে কোন লাভই সৌদি আরবের নেই –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: ইয়েমেন কখনই তার প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি ছিল না। কিন্তু হুমকির পথ বন্ধ করার মিথ্যা ও বানোয়াট অজুহাতে আমাদের ভূখণ্ডের উপর হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এ হামলা সৌদি আরবের স্বার্থসিদ্ধ হয়নি এবং নয়। যা কিছু মধ্যপ্রাচ্যে ঘটছে তাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোরও কোন লাভ নেই। পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকট নিরসনেও কোন ভূমিকা রাখতে সক্ষম নয় এবং আরব ও ইসলাম বিশ্বের সম্মানও এর মাধ্যমে ফিরে আসবে না। এ অস্থিতিশীলতা শুধু জায়নবাদীদের স্বার্থসিদ্ধ। যে জায়নবাদের অস্তিত্ব ইহুদী লবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে প্রতীয়মান।

আনসারুল্লাহ বলেন: আফগানিস্তানে হামলার সময় অনেকে বলেছিলেন যে, হামলা শুধু আফগানিস্তানে সীমাবদ্ধ থাকবে। একইভাবে যখন ইরাকে যুদ্ধ গড়ায় তখনও অনেকে পরিস্থিতির সঠিক বিশ্লেষণ করতে পারেননি। ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধ সর্ববৃহত ও সবচেয়ে ভয়ানক ষড়যন্ত্রেরও একটি বাহানা তৈরি হল। এ ঘটনার পরই বিশ্বের জনমনকে বিভ্রান্ত করার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নেয়া হয়।

আল-হুথি বলেন: ইতিহাসের প্রতিটি সময়ে আগ্রাসানের স্বীকার ছিল মুসলিম বিশ্ব। কিন্তু এবারের ষড়যন্ত্র সত্যিই ব্যাপক। এ ষড়যন্ত্র মুসলিম উম্মাহ’র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্য ইসলামের সকল নিদর্শনকে নিশ্চিহ্ন করা। ঠিক যে সময়টাতে এমন ধরনের ভয়ানক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হচ্ছে তখন মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরে আমরা বিভেদ ও বিচ্ছেদের স্বাক্ষী, যা ঐ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন: মুসলিম বিশ্বে যে নীতি ও পন্থা রয়েছে সেগুলোই শত্রুদের সাথে আমাদের আচরণ কিরূপ হবে তা নির্ণয় করে এবং তাদেরকে সবুজ সঙ্কেত দেয়। যাতে তারা এ পরিস্থিতির ফায়দা লুটে নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পায়। এমন পরিস্থিতিতে শহীদ বদরুদ্দীন হুথি পবিত্র কুরআনের শিক্ষার ভিত্তিতে অগ্রসর হয়েছিলেন এবং আঞ্চলিক (মধ্যপ্রাচ্য) ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের বিষয়ে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমাদের উচিত পূনরায় পবিত্র কুরআনের দিকে রুজু করা।

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ মুভমেন্টের প্রধান বলেন: আমাদের উদ্দেশ্যকে এগিয়ে নিতে এবং শত্রুদের বিভ্রান্তকারী পদক্ষেপের –যা অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও পরিকল্পিত- মোকাবেলা করতে পবিত্র কুরআনের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। পবিত্র কুরআন শত্রুদের পরিচয় তুলে ধরে শত্রুদের স্বার্থে যুবক সমাজ ও আমজনতার কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করে। পবিত্র কুরআনের ভাষায় ইহুদিরাই হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু। এ বিষয়টি আমরা স্বচক্ষে দেখতেও পাচ্ছি। আজ ইহুদিবাদী লবি –যা ইসরাইলের জন্ম দিয়েছে ও পশ্চিম ও প্রাচ্যে যাদের ব্যাপক অনুঃপ্রবেশ রয়েছে- ইসলামের বিরুদ্ধে নিজের সকল ঘৃণা নিয়ে মাঠে নেমেছে।

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বাহিনীর প্রধান ইহুদিবাদী লবীকে গোটা বিশ্ব এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন: জায়নবাদী লবি বিশ্বের জনগণের মাঝে বিভেদ ও ফাঁটল সৃষ্টি করে মানবসমাজকে দূর্বল ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা (ইহুদিবাদী লবি) এ পথে তাদের সকল সামর্থকে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি তাদের মিত্রদের সামর্থ থেকেও উপকৃত হচ্ছে। তারা অনেক সময় বিভিন্ন দেশকে নিজেদের বিরুদ্ধে অথবা নিজেদের (প্রতিবেশী) ভাইদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। পবিত্র কুরআনের কথা কোন সম্প্রদায় ও বংশভিত্তিক নয়, বরং ইহুদিদের নীতি, পন্থা ও অস্তিত্বকে দূর্বল করে। এ সকল পদক্ষেপ ইহুদিদের শত শত বছরের তৎপরতার আলোকেই গ্রহণ করছে ইহুদিবাদী লবি।

তিনি বলেন: ইহুদিবাদী লবি এবং ইহুদিদের প্রধান শক্তি হচ্ছে ধোঁকা ও প্রতারণার। (ইহুদিদের) এ শক্তি বিশ্বের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এ লবি ধোঁকা ও প্রতারণার আশ্রয়ে অনেক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্ম দেয়। ১১ সেপ্টেম্বর সেগুলোর অন্যতম; স্বয়ং জায়নবাদী লবি’ই যেটাকে সৃষ্টি করেছে এবং যেটা গোটা বিশ্বের উপর প্রভাব ফেলেছে। এ ঘটনার জন্ম দিয়ে এর থেকে অনেক ফায়দাও লুটেছে তারা। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যা কিছু ঘটছে সেটাও ইহুদিবাদী লবি’র ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

আল-হুথি বলেন: এ সকল ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে মুসলিম বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ। এদের অনেকেই জানে না তারা কাদের জন্য ও কার স্বার্থে যুদ্ধ করছে এবং কাদের স্বার্থে নিজেদেরকে বিস্ফোরিত করছে। ইহুদিবাদ থেকে আমাদের শংকাটা এখানেই যে, তারা মুসলমানদের মাঝে প্রবেশ করে জান-মালের কোন ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই মুসলমানদেরকে আঘাত করছে। অনেকে ইসলাম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের নামে অথবা অন্য কোন নামে ইহুদি লবি’র জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, এটাই হচ্ছে শয়তানের খেলা।

ইহুদি লবি গণমাধ্যম ও শিক্ষাকার্যক্রমসহ এমন বিষয়াদিতে মনসংযোগী হয়েছে যেগুলো জনমত তৈরীতে ভূমিকা রাখে –এ কথা উল্লেখ করে আনসারুল্লাহ প্রধান বলেন: মুসলিম উম্মাহ’র অনেক কম সদস্যই এ পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি পেয়েছে। জায়নবাদীরা এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে নানান উদ্দেশ্যকেই সামনে রাখে, যেমন; মুসলিম জাতিগুলোকে তাদের স্বকীয়তা ও পরিচয় থেকে আলাদা করা এবং তাদের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা ইত্যাদি। তারা চায় মুসলিম বিশ্বে যেন কোনরূপ চিন্তা, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকে। মুসলিম বিশ্বকে তারা প্রকৃত ইসলাম শূণ্য একটি সমাজ হিসেবে দেখতে চায়। তারা (ইহুদি লবি) মুসলিম বিশ্বকে এমন একটি পর্যায়ে এসে দাঁড় করিয়েছে যে, অনেকে এখন ‘ওয়াহদাত’ তথা ‘ঐক্যে’র বিষয় থেকে পলায়ন করে এবং পারস্পারিক সহযোগিতায় ও সংঘবদ্ধ ভাবে কোন কাজ করা থেকে অসন্তুষ্ট।

আব্দুল মালেক হুথি বলেন : বিশ্বের সকল প্রান্তেই মুসলমানদের পদচারণা রয়েছে। বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশী লোক মুসলমান। তারা শক্তিশালী এবং তাদের হাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণও রয়েছে। কিন্তু বিশ্বনীতিতে মুসলমানদের ওজন অত্যন্ত হালকা এবং ইতিবাচক কোন প্রভাব তাদের পক্ষ থেকে পরিলক্ষিত হয়না। অথচ মাত্র কয়েক মিলিয়ন ইহুদি মুসলিম দেশগুলোর সাথে সাথে গোটা বিশ্বকে নিয়ে খেলছে। মুসলিম বিশ্ব এমন আজমতের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এবং বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। ভেটোর অধিকারও তাদের নেই। এরপরও ইসলামি দেশগুলো মুসলিম বিশ্বের স্বার্থে অগ্রসর না হয়ে উল্টো পথে চলে। আরবলীগ ফিলিস্তিনের জন্য কিছুই করেনি। ওআইসি’র অবস্থাও ব্যতিক্রম নয়। তারা মুসলিম ও আরব বিশ্ব এবং আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সমস্যা সমাধানে কোন পদক্ষেপই নেয়নি।

তিনি বলেন: যে সকল দেশ অপর মুসলিম দেশগুলোর উপর হামলার লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়েছে, তারা কি একবারও ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিয়েছে? এ সকল দেশের হাত দিয়ে ইসরাইল বিরোধী কয়টি চ্যানেল চালু হয়েছে? কিন্তু ফিলিস্তিন ও লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন ও মুসলিম বিশ্বের মুক্তিকামীদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে এবং মুসলিম উম্মাহ’র মাঝে ফেতনা সৃষ্টিতে এদের মুখে কথার খৈ ফোটে। তারা এ লক্ষ্যে পৌঁছুতে বেশ কয়েকটি চ্যানেলও ব্যবহার করছে বর্তমানে।

আনসারুল্লাহ মুভমেন্টের প্রধান বলেন: আমরা সন্ধি ও বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দেই এবং মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরিন সমস্যার সমাধান চাই। কিন্তু এ সকল দেশের মধ্যে কিছু দেশ আমাদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়েছে।

আল-হুথি বলেন : ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আমাদের আলোচক দল কুয়েতে গেছে। তারা ইয়েমেনিদের জন্য সন্ধি উপহার নিয়ে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ যে যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণা দিয়েছেন –তা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ- সেটাকেও তারা মানে না। ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধান নাগালের বাইরে নয়। কারণ বিদেশীদের আগ্রাসনের আগেই ইয়েমেনে সক্রিয় সকল মুভমেন্ট একত্রিত হয়ে প্রকৃত সমঝোতার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। ইয়েমেনের সকল পক্ষই ‘সন্ধি ও সহযোগিতা’র চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকেও স্বীকৃত হয়েছে।

তিনি তার ভাষণের শেষে ইয়েমেনের জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন: যতটুকু ধৈর্য, দয়া, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধি আপনাদের রয়েছে সেই পরিমাণে সতর্ক থাকুন। কেননা অন্যরা আপনাদের মত নয় এবং আপনাদের মত চিন্তা করে না। আমাদের শত্রুরা ঘৃণা, বিদ্বেষ ও দাম্ভিকতার রোগে ভুগছে। মানবতাকে ধ্বংস করে দিতে তারা যেকোন অবস্থায় প্রস্তুত। আমরা যুদ্ধবিরতি’র বাস্তবায়ন এবং ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের উপর অটল। কিন্তু একইভাবে আমরা সতর্ক ও জাগ্রত, যদি আগ্রাসীরা তাদের আগ্রাসন অব্যাহত রাখে তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।#


source : abna24
  2444
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article

    'গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলার শরিক ...
    আরবাইনের পদযাত্রায় যায়েরদের সেবা ...
    দুই শতাধিক ধর্ষণ করেছি’
    Al-Wefaq pénalité et de la vie plainte mort et l'emprisonnement 10 bahreïnies
    রুহানির চিঠির জবাবে সর্বোচ্চ নেতা: ...
    যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদী চেহারার ...
    ইসরাইল ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত ...
    জনসম্মুখে মাকে হত্যা করলো আইএসআইএল ...
    জেএমবির নারী শাখার প্রশিক্ষক আটক
    জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর ...

 
user comment