বাঙ্গালী
Thursday 13th of August 2020
  2988
  0
  0

ইরানের বিরুদ্ধে ভয়ানক চক্রান্ত করছে পাশ্চাত্য : আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী

আবনা ডেস্ক : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেছেন, মার্কিন সরকারসহ পাশ্চাত্য এখনও ইরানের বিরুদ্ধে মারাত্মক নানা ষড়যন্ত্র করছে; অন্যদিকে তেহরানে পশ্চিমা প্রতিনিধিদলগুলোর সফরের ফলে ইরানের অর্থনীতির এখনও কোনো উপকার হয়নি। পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানকে দেয়া তা
ইরানের বিরুদ্ধে ভয়ানক চক্রান্ত করছে পাশ্চাত্য : আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী

আবনা ডেস্ক : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেছেন, মার্কিন সরকারসহ পাশ্চাত্য এখনও ইরানের বিরুদ্ধে মারাত্মক নানা ষড়যন্ত্র করছে; অন্যদিকে তেহরানে পশ্চিমা প্রতিনিধিদলগুলোর সফরের ফলে ইরানের অর্থনীতির এখনও কোনো উপকার হয়নি। পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানকে দেয়া তাদের নানা ওয়াদা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এইসব কথা বলেছেন।
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানিসহ বিশেষজ্ঞ পরিষদের নব-নির্বাচিত সদস্য ও পুরনো সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইরানের প্রভাবশালী নেতা হাশেমি রাফসানজানীও উপস্থিত ছিলেন এ বৈঠকে।
বিশেষজ্ঞ পরিষদের নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরুর আগে এই পরিষদের পুরনো মেয়াদের সর্বশেষ বৈঠকে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেন, ‘ইরানের সাম্প্রতিক নির্বাচন ছিল স্পষ্টভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক; নানা দল ও ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন ব্যানারের আওতায় এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং তাদের মত ব্যক্ত করেছে। ইসলামী ইরানের অতীতের নির্বাচনগুলোর মত গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনও ছিল সুষ্ঠু যা শত্রুদের বহু বছরের প্রচারণার ঠিক বিপরীত।’ ইরানের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এমন উপস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক পশ্চিমা দেশে দেখা যায় না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের মার্জিত আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত কয়েকজন প্রার্থী জনগণের ভোট না পেয়ে নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হওয়ায় (কারচুপির মিথ্যা অভিযোগ তুলে) দাঙ্গা শুরু করেছিল ও সমর্থকদের রাস্তায় টেনে এনে ইসলামী ইরানের (সুষ্ঠু নির্বাচনী-ব্যবস্থার সুনাম ও ঐতিহ্য) কে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালায়। আর তাদের ওই তৎপরতা শত্রুদের লালসাকে উস্কে দিয়েছিল বলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মন্তব্য করেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইরানের জাতীয় সংসদ ও সংসদের উচ্চ-কক্ষের মত ক্ষমতাধর বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষজ্ঞ পরিষদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ও তাকে পদচ্যুত করার ক্ষমতাও রাখে। ছয় বড় শক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা হওয়ার পর এটাই ছিল পশ্চিমাদের সীমাহীন শত্রুতার শিকার ইসলামী এই দেশটির প্রথম নির্বাচন। (ইরানের সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনের ৬৯ টি আসনে স্পষ্টভাবে কেউ বিজয়ী হয়নি। তাই এসব আসনে আবারও নির্বাচন হবে। এপ্রিল মাসে এইসব পুন-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে)
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যদের সতর্ক থাকার ও নানা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেন, জনগণ ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে আবারও তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, এবার আপনাদের পালা জনগণকে প্রতিদান দেয়া। বিশেষজ্ঞ পরিষদকে বিপ্লবী চিন্তা ও বিপ্লবী কাজের ওপর অবিচল থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লব অব্যাহত রাখতে এ পরিষদের উচিত একজন বিপ্লবী ব্যক্তিত্ব বা নেতাকেই নির্বাচন করা এবং ইরানের (ভবিষ্যৎ) নতুন সর্বোচ্চ নেতা যিনি হবেন তার উচিত হবে না পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের সংগ্রামী নীতির ব্যাপারে আপোষ করা।
ইরানের সঙ্গে ছয় বড় শক্তির পরমাণু সমঝোতার প্রেক্ষাপটে গত জানুয়ারি মাস থেকে ওই সমঝোতা বাস্তবায়ন শুরু হয় এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু ইরানে পশ্চিমা কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদলগুলোর সফর প্রসঙ্গে অসন্তোষ ব্যক্ত করে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেন, ‘পাশ্চাত্যের প্রতিনিধিদলগুলোর এইসব সফরে আমরা বাস্তব কিছু দেখিনি এখনও ... আমরা কিছু আসল অগ্রগতি দেখতে চাই। কেবল কাগজের ওপর কিছু প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য নেই।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার দেশে পশ্চিমাদের প্রভাব বিস্তার বা অনুপ্রবেশের ব্যাপারে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদী ইসরাইল ছাড়া সারা বিশ্বের সঙ্গেই আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই, তবে আমাদের এটা বোঝা উচিত যে দুনিয়াটা কেবল পাশ্চাত্য ও ইউরোপের মধ্যেই সীমিত নয়। তিনি আরও বলেন, পাশ্চাত্যের সঙ্গে শত্রুতার কোনো ইচ্ছে ইরানের নেই, ইরানে একটি স্বাধীন সরকারের কাঠামো গড়ে তোলার পর থেকে পাশ্চাত্যই প্রথম আমাদের সঙ্গে শত্রুতা শুরু করে। পাশ্চাত্য (পশ্চিমা সরকারগুলো) আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। পাশ্চাত্য আমাদের যেসব (ধ্বংসাত্মক) ক্ষতি করেছে তা ভুলে যাওয়া আমাদের উচিত হবে না। আমি চাই না পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে কাদের সঙ্গে আমরা কাজ করছি। দুনিয়াটা এখন পাশ্চাত্য ও ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্ষমতা ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে এবং প্রাচ্য ও এশিয়া এক বিশাল অঞ্চল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ছাড়া আর সবার সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক রাখতে হবে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান কাণ্ডারি আরও বলেন, আমাদের কাছে নির্ভুল তথ্য রয়েছে যে , মার্কিন সরকারসহ দাম্ভিক শক্তিগুলোর জোট ইরানে প্রভাব সৃষ্টির বা অনুপ্রবেশের মারাত্মক ষড়যন্ত্র করছে। তারা কোনো অভ্যুত্থান ঘটাবে না আর, কারণ, তারা জানে , ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে অভ্যুত্থান ঘটানো আর সম্ভব নয়। তাই তারা পরোক্ষভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। তারা ইরানের নীতি নির্ধারণী সংস্থাগুলোকে টার্গেট করে নীতি-নির্ধারকদের কাজে প্রভাব ফেলতে চায়। ফলে দেখা যাবে যে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে না, বরং আমরাই তাদের অনুকূলে নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
তিনি শিয়া-সুন্নি বিভেদ সৃষ্টির মার্কিন ও ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্র তুলে ধরে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতগুলোর সঙ্গে মাজহাবের কোনো সম্পর্ক নেই, রাজনৈতিক নানা লক্ষ্যে এইসব সংঘাত উসকে দেয়া হয়েছে।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি আরও বলেন, ইসলামের শত্রুরা মাজহাবগত পার্থক্যকে ধর্মীয় বিরোধে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে যাতে সহজেই দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষের অবসান না ঘটে। শত্রুদের অসৎ ও ভয়ানক উদ্দেশ্য যাতে কোনোভাবেই সফল না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
পাশ্চাত্য ইরানের বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনগুলোকে বিশেষভাবে টার্গেট করেছে বলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করে দেন (যা তিনি প্রায়ই বলে আসছেন)। শত্রুরা নানা পথে ও নানা অজুহাতে এইসব ক্ষেত্রে অনুচর বা গুপ্তচরদের সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রায় ৭৭ বছর বয়সের কোঠায় পা দেয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক এই ভাষণের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কে হবেন ইসলামী বিপ্লবের ভবিষ্যত নতুন কাণ্ডারি? যিনিই হোন না কেন তাকে সংগ্রামের পথ অব্যাহত রাখতে হবে বলে পরামর্শ দিলেন ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান নেতা।

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় আট বছর পর পর। ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা (জন্ম-১৯৩৯ সনের ১৭ জুলাই) দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শারিরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং (মহান আল্লাহ তাঁকে বিশেষজ্ঞ পরিষদের আরও কয়েক মেয়াদ পর্যন্ত সুস্থ, সবল ও সক্ষম রাখবেন ইনশাল্লাহ)। তবুও আল্লাহ না করুক ২০২৪ সাল নাগাদ (বা দুর্ঘটনাক্রমে আরও আগে) যদি ইরানে কোনো নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দরকার হয় তাহলে তিনিও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার মতই দূরদর্শী, বিচক্ষণ, যোগ্য, খাঁটি ইসলামপন্থী এবং জালিম শক্তিগুলোর জন্য যেন আতঙ্ক হন বিশ্বের মুক্তিকামী জনমত সেই প্রত্যাশাই করছে।#


source : abna24
  2988
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article


 
user comment