বাঙ্গালী
Thursday 6th of August 2020
  2463
  0
  0

ইরান মুসলিম জাতিগুলোর জন্য আদর্শ হতে পারে : জাফরুল্লাহ খান

ইরান মুসলিম জাতিগুলোর জন্য আদর্শ হতে পারে : জাফরুল্লাহ খান

রেডিও তেহরান: জনাব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, আপনি তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘ওলামা সমাবেশ ও ইসলামি জাগরণ'-শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের এ সম্মেলনে আপনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন। তো এ সম্মেলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি সংক্ষেপে কিছু বলনু।

 

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান: আপনাকে ধন্যবাদ। সেমিনারে বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সকলের মুখে প্রায় একই কথা ফুটে উঠেছে। সবাই বলেছে যে, সারাবিশ্বে যে ইসলামী জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে সে জাগরণকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে সবাই অনুরোধ জানিয়েছে। ইসলামী বিপ্লবের ক্ষেত্রে ইরান সারা বিশ্বের জন্য একটি মডেল। আর সে কারণে ইরান সারাবিশ্বকে উদারতার সঙ্গে ইসলামী জাগরণের জন্য উতসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করবে বলে সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

রেডিও তেহরান: যে উদ্দেশ্য নিয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা কতখানি বাস্তবায়িত হবে বলে আপনার মনে হয়? সেইসঙ্গে আমরা জানতে চাইব যে, আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনকে আপনি কতটা সময়োপযোগী মনে করছেন?

 

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান: বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন যথোপযুক্ত পদক্ষেপ। আর সেজন্য আমরা ইরানের কাছে ঋণী। কারণ বর্তমানে সারাবিশ্বে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন চলছে। আমি আমার বক্তব্যে বলেছি- মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চলছে। লেবানন এবং ফিলিস্তিনেও একইভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এভাবে সারাবিশ্বে চলছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা। ফলে এরকম অবস্থায় ইরান আন্তর্জাতিক সম্মেলন ডেকে পদক্ষেপ নেয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে সে জন্যে আমরা ইরানকে ধন্যবাদ জানাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের প্রতিনিধিরা যেসব কথা বলেছেন তাতে আল্লাহতায়ালা বরকত দেবেন এবং সারাবিশ্বে ইসলামী জাগরণের সৃষ্টির জন্য আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে তৌফিক দেবেন। সকলেই বিশ্বব্যাপী ইসলামী বিপ্লব সৃষ্টির জন্য কাজ করবেন।

 

রেডিও তেহরান: সারা বিশ্বে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যে ইসলামি জাগরণ চলছে তার ভবিষ্যত কি বলে আপনার মনে হয়?

 

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান: আমি মনে করি ভবিষ্যত আমাদের অত্যন্ত উজ্জ্বল। মধ্যপ্রাচ্যে ইনশাআল্লাহুল আজিজ ইসলামি বিপ্লব ঘটবেই। এতে কোন সন্দেহ আছে বলে আমি মনে করি না।

 

রেডিও তেহরান: ইরানে কি এটি আপনার প্রথম সফর? কেমন দেখলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে?

 

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান: না, ইরানে এটি আমার প্রথম সফর না। এর আগেও আমি দু'বার ইরানে গিয়েছি। এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আমি ইরান সফর করলাম। আমি যখন প্রথম ইরান সফর করি তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, বহু শহীদের লাশে আর লাশ দেখেছি, শহীদদের কবর দেখেছি। কিন্তু এবারের সফরে ভিন্ন এক ইরানকে দেখলাম। এবার দেখলাম-ইরান স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ। খুবই সুশৃঙ্খল, অপূর্ব সুন্দর এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী একটি দেশ। ইসলামী প্রজাতন্ত্র হওয়ার কারণে ইরান যে পিছিয়ে নেই এটা তারা সারাবিশ্বে প্রমাণ করে দিয়েছে। আমরা যারা ইসলামের কথা বলি, আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা মনে করেন নারীরা পর্দা করলে তারা পিছিয়ে যাবে, আসলে তা নয়। ইরানের সব নারীরা পর্দা করে; পুরুষরা ইসলামী শাসন অনুশাসন মেনে চলে। বলা চলে ইরান একটা পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে পরাজিত ও পরাভূত করার মতো শক্তি বোধহয় এখন আর বিশ্বে নেই।

 

রেডিও তেহরান: মাওলানা জাফরুল্লাহ খান আপনি বলছিলেন যে, ইরান সারাবিশ্বে একটা মডেল হতে পারে। তো আপনার কথার সুত্র ধরে আমরা জানতে চাইব- ইরানের ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও ইসলামী বিপ্লব কি মুক্তিকামী জাতিগুলোর জন্য ও বিশেষ করে মুসলিম জাতিগুলোর জন্য অনুকরণীয় মডেল বা আদর্শ হতে পারে?

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান: জি, আমি অবশ্যই মনে করি যে, ইরানের ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও ইসলামী বিপ্লব মুক্তিকামী জাতিগুলোর জন্য ও বিশেষ করে মুসলিম জাতিগুলোর জন্য অনুকরণীয় মডেল বা আদর্শ হতে পারে।

 

রেডিও তেহরান: বাংলাদেশে এই মুহূর্তে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এই ১৩ দফার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত দিক হচ্ছে নারী স্বাধীনতা। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে নারী স্বাধীনতার এই দিকটি আপনার চোখে কীভাবে ধরা পড়েছে?

 

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান: ইরানে নারী স্বাধীনতার ব্যাপারে আমি বলব- ওখানকার নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে। তারা সমস্ত কাজকর্ম করছে। তবে পার্থক্যটা হচ্ছে- ইরানের নারীরা শালীনভাবে এবং পর্দার সাথে সব কাজ করে থাকে। আর এক্ষেত্রে মেয়েরা কোনো কাজ থেকে কোনো অবস্থায় পিছিয়ে নেই। যেমনিভাবে তারা দুনিয়ার কাজ থেকে পিছিয়ে নেই তেমনিভাবে আখেরাতের জীবনকে সুন্দর করার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে নেই। ইসলামী আদর্শ, ইসলামী নিয়ম-রীতি অনুসরণ করার কারণে ইরানের নারীরা অনেক অগ্রসর।

 

রেডিও তেহরান: বাংলাদেশের সেক্যুলার চিন্তাধারার অধিকারীরা দাবি করছেন, একবিংশ শতাব্দিতে ইসলামের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। এ ছাড়া, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন, হেফাজতের ১৩ দফা মেনে নিলে বাংলাদেশ ১৪শ' বছর পিছিয়ে যাবে। এর অর্থ, তারা ১৪শ' বছর পিছিয়ে যাওয়া বলতে ইসলামের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনাকে বোঝাচ্ছেন? ইসলামের আলোকে পরিচালিত ইরানে এসে কি আপনার মনে হয়েছে, এ দেশটি ১৪শ' বছর পিছিয়ে আছে? একইসঙ্গে বলব.....বাংলাদেশ কি আসলেই ১৪শ' বছর পিছিয়ে যাবে?

 

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান: আমার বিশ্বাস যারা এসব কথা বলেন তারা অজ্ঞ ও অর্বাচীন। তারা ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে জানে না বলেই এসব কথা বলে। যারা ইসলাম সম্পর্কে জানে তারা এ ধরনের কথা কখনই বলতে পারে না। আমার মনে হয় তারা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর তল্পিবাহক ও লেজুড়। তারা ইহুদী খ্রিস্টানদের দালাল। এই জন্য তারা ইসলামের বিরুদ্ধাচারণ করছেন। এছাড়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যেসব অমানবিক কাজ হচ্ছে তা অমানবিক ছাড়া তো অন্য কিছু নয়। ১৪শ' বছর আগে আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ ছিল বর্তমান অবস্থাতো তাকেও হার মানিয়েছে। এই গত ৫ মে মধ্যরাতে হাজার হাজার নিরীহ হেফাজতের নেতাকর্মীদের উপর যৌথবাহিনী বর্বরতমভাবে হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যা করা- এটা কোন সভ্যতা? এটা কোন আধুনিকতা? এটাতো বর্বরতা ছাড়া আর কিছু নয়। সুতরাং যারা ইসলামের ওপর কালিমা লেপন করে তারা ইহুদী খ্রিস্টানদের দালাল। তারা ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ ও অর্বাচীন বলেই এসব কথা বলে থাকে।

 

রেডি তেহরান: জনাব জাফরুল্লাহ খান! সবশেষে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব সেটি হচ্ছে- নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি ও ব্লাসফেমি আইনের দাবিতে হেফাজতে ইসলামের চলমান আন্দোলন সম্পর্কে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপনার কোন কথা হয়েছে কি? আর তারা এই আন্দোলন সম্পর্কে কি বলেছেন?

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান: আমি সম্মেলনে আমার বক্তব্যের মধ্যে বলেছি, আমার দেশের কিছু বিভ্রান্ত যুবক রাসূল (সা.) এর বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের সেই কথা সালমান রুশদীকে হার মানিয়েছে। আর তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তীব্র আন্দোলন চলছে। দেশের ওলামায়ে কেরাম সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আশাকরি আমরা কামিয়াব হব। এই সম্মেলনে আমি ইরানসহ বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছি তারা যেন আমাদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেয়। সম্মেলন শেষে ইরানের সাবেক একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করলেন এবং আহসানতা, আহসানতা বললেন। এতে আমার মনে হয়েছে তিনি আমাদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

 


source : www.abna.ir
  2463
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article

    দোয়ায়ে কুমাইলের অনুষ্ঠান থেকে ৩৫ ...
    ১১ ফেব্রুয়ারি আবারও হতাশ হবে শত্রুরা: ...
    হত্যার অভিযোগ অস্বীকার মোরেলের
    শাইখ ঈসা কাসেমের এক বছরের কারাদণ্ড
    শক্তিশালী ইরানকে ভয় পায় আমেরিকা’
    পাক হত্যাযজ্ঞের কথা জানত না আরব ...
    ইরান না থাকলে সিরিয়া ও ইরাকে এখন ...
    খুলে দেয়া হল হিন্দু এলাকার একটি ...
    মিয়ানমারে বৌদ্ধ ভিক্ষুরাই মুসলিম ...
    আল-কুরআনের মু’জিযা: একটি যুক্তিপূর্ণ ...

 
user comment