মেইন পেজ৷ মতামত ও প্রস্তাব আহকাম প্রিন্ট অনুসন্ধান
 
মেইন পেজ > ওস্তাদ পরিচয়    
 

ওস্তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনি

যুগযুগ ধরে খোনসার জিলা মহা শিক্ষিত, সাহিত্যিক, শিল্পি ও মনে রাখার মত ব্যক্তিদেরকে এ মানবিক সমাজের হাতে তুলে দিয়েছে৷

আলেম ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব যেমন মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল উয্মা আগা হোসাইন খোনসারি (রহঃ), মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল উয্মা আগা জামাল খোনসারি (রহঃ), মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল উয্মা সৈয়দ মোহাম্মদ তক্বী খোনসারি (রহঃ), মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল উয্মা সৈয়দ আহমাদ খোনসারি (রহঃ) ও অন্যান্য হাজার আলেম সবাই ইসলামি ইরানের এই অন্চল খেকেই ছিলেন৷

মহান মনীষি, ওস্তাদ হোসাইন আনসারিয়ান ফার্সি ১৩২৩ সনের আবান মাসে (অক্টোবর-নভেম্বর ১৯৪৪ ইং) আলেম প্রতিপালিত এ শহরে জন্ম গ্রহণ করেন৷

তাঁর পিতা হাজ্ শেখ বংসধর ছিলেন৷ এই বংস, পরিচীত গোত্র থেকে ও দীনের খেদমতকারী ছিলেন এবং বড় বড় ওলামায়ে কেরাম এই বংসে দেখা যায়৷ মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল উয্মা শেখ মুসা আনসারিয়ান (খোনসারি) (রহঃ) যাঁর জ্ঞানী ও দীনি ব্যক্তিত্ব কারো কাছে লুকায়িত ছিলনা, তিনিও এই পরিবার থেকে ছিলেন৷

মরহুম ইমাম খোমেনী – রিযওয়ানুল্লাহ তা’লা আলাইহ – বলতেনঃ শিয়া ফিক্বাহ শাস্ত্রে সবোর্ত্তম কিতাবে সালাত (নামাজের বই), মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আনসারিয়ানের বই ছিল৷ তিনি অনেক রচনাবলী ছেরে গেছেন, মুনিয়াতুত তালিব যা মরহুম নাঈনীর দরসের লিখিত বক্তব্য রয়েছে তাঁর রচনাবলীর একটি৷ ইরাকের নজফ শহরে সমগ্র ওলামায়ে কেরাম - আয়াতুল্লাহ্ আল উয্মা ইসফাহানির পর – তাঁর গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহর (ধর্মীয় নেতৃত্ব) ব্যাপারে বিশ্বাস করতেন৷ কিন্তু তাঁর বয়স তাঁকে যথেষ্ট সুযোগ দেয়নি এবং মরহুম সৈয়দের পূর্বে এ পৃথীবি থেকে বিদায় নিলেন৷

ওস্তাদের মায়ের সম্পর্ক সেই শহরের মুসতাফাভি সৈয়দ বংস থেকে আর ওস্তাদের নানা শহরের বিশ্বস্ত ও পরিচীত ব্যক্তি ছিলেন এবং প্রায় ঘটেছে যে নাজাফ ও কোম থেকে ওলামায়ে কেরাম যখন খোনসার আসতেন তাঁর বাসাতেই অবস্থান করতেন৷

এ ব্যাপারে ওস্তাদ তাঁর তিন বত্সর বয়সের স্মৃতিকথা এভাবে বয়ান করেনঃ ‘‘ একদিন আয়াতুল্লাহ্ আল উয্মা মোহাম্মদ তক্বী খোনসারি (রহঃ) আমার পিতামহের বাসায় এসেছিলেন৷ বাল্যকালে আমি কক্ষের দরজা খুললাম এবং সরাসরি আয়াতুল্লাহ্ খোনসারির দিকে গেলাম আর তাঁর কোলে বসলাম৷ আমার পিতামহ আসলেন যে আমাকে ভিতরে নিয়ে যাবেন৷ আয়াতুল্লাহ্ খোনসারি তাঁকে বাধা দিলেন আর আমাকে আদর করলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন ভবিষ্যতে কি হতে চাও ? উত্তর দিলামঃ আপনার মত হতে চাই৷ তিনি আমার জন্য দোয়া করলেন৷ যখনই সেই ঘটনার ভাবমূর্তি আমার স্মরণ হয়, আর সেই আধ্যাত্মিক চেহারা ও সেই মহান ব্যক্তির দোয়া মনে করি, আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর একটি আমার মাথায় ঘুরে বেড়ায় ’’৷

ওস্তাদ আনসারিয়ান জীবনের তৃতীয় বসন্তে ছিলেন যে নিয়তির হাতে, পরিবার তাঁকে তেহরানে স্থানান্তরিত করে, এবং সে শহরের মাযহাবি মহল্লাগুলোর একটিতে – খোরাসান রোড – বসবাসের জন্য মনোনীত করেন৷

মরহুম আয়াতুল্লাহ্ হাজ্ শেখ আলী আকবার বোরহান (রহঃ) ঐ সময়ে সে এলাকার জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন৷ ওস্তাদ সে শৈশবেই সেই এলাহী ওস্তাদের আত্মিক প্রেরণার সৌভাগ্যবান হলেন৷ তিনি প্রায়ই এ বিষয়ে স্বীকার করেন যেঃ ‘‘ এ পযর্ন্ত আধ্যাত্মিক আলেমদের মধ্যে তাঁরমত মযার্দাসম্পন্ন কাউকে আমি দেখিনি ’’৷

আয়াতুল্লাহ্ বোরহান যিনি একজন শিক্ষিত ও স্বাধীন মুজতাহিদ ছিলেন, সে দিনগুলোতে লোরযাদেহ্ মসজিদের দায়ীত্বশীল ছিলেন৷ সেই সতর্ক আলেম এমনভাবে মসজিদকে পরিচালনা করতেন যে কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধ সবাই এলাহী সমাজ ব্যবস্থায় আকৃষ্ট হয়ে যেত৷ একইভাবে সেই মরহুম সে এলাকায় একটা মাদ্রাসার ভিত্তি স্থাপন করেন যাতে ছাত্ররা প্রথম শ্রেণী থেকেই সরাসরি মরহুমের হাতে প্রশিক্ষণ পেত৷

ওস্তাদ আনসারিয়ান তাঁর স্মৃতিকথা থেকে একটি ঘটনা মরহুম বোরহান সম্পর্কে এরূপ বয়ান করেনঃ ‘‘ বহুবার মেম্বর ও ক্লাশে মরহুমের কাছ থেকে শুনেছিলাম যে তেহরানে মৃত্যুবরণ করতে ও দাফন হতে আগ্রহী ছিলেন না, আর এ বিষয় দোয়া হিসেবে চলে এসেছিল যখন সে মরহুম শবে কদরের রাতে অশ্রূ ভরা চোখে খোদার দরবারে আর্জি করছিলেন৷ সেই মহানুভব ব্যক্তির শেষ পরিণতি ১৩৩৮ ফার্সি (১৯৫৯-১৯৬০ ইং) সনে যখন আমার বয়স ১৪ বত্সরের বেশি ছিলনা হজ্ব ভ্রমনে খোদার শান্তিপূর্ণ সীমারেখায় (মক্কা শরীফে) এ পৃথিবী হতে বিদায় নিলেন এবং তাঁর পবিত্র দেহ জেদ্দা শহরে হযরত মা হাউওয়ার কবরের কাছাকাছি দাফন করা হল ’’৷

সেই চরিত্রবান ওস্তাদের আধ্যাত্মিক চেহারা ও তাঁর জীবনের রীতিনীতি ও অভ্যাস দেখার পর ওস্তাদের মধ্যে এমন গভীর প্রভাব ফেলেছে যে, এখনও ওস্তাদ সেই এলাহী শিক্ষকের শূন্য স্থানকে নিজের অস্তিত্বে উপলদ্ধি করেন৷

বাল্যকাল থেকেই ওস্তাদ আনসারিয়ান এলাহী বক্তিদের সাথে সূপরিচিত ছিলেন৷ যেমন মরহুম আয়াতুল্লাহ্ সৈয়দ মোহাম্মদ তক্বী গাযানফারী (রহঃ) খোনসার দো'রাহ্ মসজিদের ইমাম জামাত – ওস্তাদের পিতৃভূমি খোনসার শহরে – যে আবারও সেই মরহুমের স্মৃতি ওস্তাদের মুখে তাঁর মহান ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে এই আত্মিক ও আধ্যাত্মিক গনিষ্ঠতা ও ভালোবাসার প্রকাশ পায়ঃ ‘‘প্রথম বত্সরে যখন দীনি ছাত্রদের শ্রেণীতে অন্তর্ভূক্ত হলাম, এবং তার খবর মরহুম গাযানফারীর কাছে পৌঁছাল, আমার ধর্মীয় ছাত্র হবার উপলক্ষে নিজের ঘরে স্বরন রাখার মত এক জিয়াফতের ব্যবস্থা করলেন এবং সেই জিয়াফতে পিতৃক আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার কিছু সংখ্যক লোকদের দাওয়াত করলেন৷ এই জিয়াফত সেই স্বাধীন আলেমের পক্ষ থেকে তাও আমি যে জ্ঞান সমুদ্রে পদার্পন করেছিলাম সে উপলক্ষে তাও যুবক বয়সে, আমার মধ্যে যথাযথ অনুপ্রেরণা যোগিয়েছে৷ মরহুম গাযানফারী একজন স্বাধীন ও সহজ-সরল জীবন যাপন করনে ওয়ালা আলেম ছিলেন এবং তাগুতের (শাহ্ সরকার) সময় বহুবছর খোনসার শহরে জুমার নামাজ পড়াতেন ’’৷

সেই আধ্যাত্মিক চেহারাগুলোর একজন, মরহুম আয়াতুল্লাহ্ সৈয়দ হোসাইন আলাভী খোনলারি (রহঃ) ছিলেন৷ মরহুম আলাভী খোনসারের বিখ্যাত মুজতাহিদদের একজন ছিলেন এবং খোনসারের উচ্চ এলাকায় -ওস্তাদের মাতৃ অন্চল- নামাজ পড়াতেন ও শিক্ষকতা করতেন এবং কয়েক শত দীনি ছাত্র তাঁর কাছ থেকে শিক্ষালাভ করেছে৷ তিনি নাজাফ থেকে এ অবস্থায় খোনসার এসেছিলেন যে, তাঁর শিক্ষকরা তাঁকে ইজতেহাদ (গবেষণার মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয় বা আইনের সিদ্ধান্ত উদঘাটন) এর লিখিত সনদ (প্রশংসাপত্র) দিয়েছিলেন৷

আবারও ওস্তাদের সাহচরযে বসব এবং মরহুমের কিছু স্মৃতিকথা শোনবোঃ ‘‘ প্রথম বছর ছিল যে আলেমদের ধর্মীয় পোষাকে সজ্জিত হয়েছিলাম এবং মরহুম নানা সৈয়দ মোহাম্মদ বাকের মোস্তাফাভী (রহঃ) ও নানী এবং খোনসারের আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম৷ পরিচিত একজন পথে আমাকে দেখে বললঃ তুমি কি আগা আসাদুল্লাহ্ মসজিদে দশরাত্রে মেম্বর থেকে বক্তৃতা করতে প্রস্তুত আছ ? বললামঃ আমি প্রস্তুত৷ প্রথমদিন যখন মসজিদে গেলাম দেখি সেই মহান আলেম – মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আলাভী – শ্রোতাদের মাঝে বসে আছেন৷ আশ্চরয হলাম যে, সেই মহান আলেম ও মুজতাহিদ কি উপলক্ষে আমার মত এক নতুন যুবকের বক্তৃতা শুনতে এসেছেন, নিজেকে বললামঃ সম্ভবত মজলিস উজ্জাপণকারীর সাথে কোন সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু বিস্ময়ের সাথে দেখলাম সম্পূর্ণ দশদিন মজলিসে অংশ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর অংশ গ্রহণ করার উদ্দেশ্য ছিল আমাকে অনুপ্রেরণা যোগানো ’’৷

সেই মহান ব্যক্তিদের একজন হচ্ছেন আয়াতুল্লাহ্ হাজ্ সৈয়দ মোহাম্মদ আলী ইবনুর্ রেযা – তাঁর বরকত বাকি থাকুক – খোনসারি সাহেব৷ তাঁর সাথে ওস্তাদের পারিবারিক যে সম্পর্ক ছিল, তার কারণে বাল্যকাল থেকেই তাঁর সাথে মেলামেশা করতেন৷ ওস্তাদ বিশেষ করে এই চরিত্রবান আলেম সম্পর্কে এরূপ উল্লেখ করেনঃ ‘‘ সেই বাল্যকাল থেকেই হযরত আগা ইবলুর্ রেযা সাহেব – তাঁর বরকত বাকি থাকুক – যিনি জ্ঞানী ও সমাজের উত্তম এবং পরিস্কার মনের ব্যক্তিত্বের অধিকারি – এর একটি মৌলিক ও সুন্দর বিষয় আমার স্মরণশক্তিতে গেঁথে আছে যেঃ প্রত্যেক বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পর, আবেগ উদ্দীপনার সাথে দাঁড়িয়ে হযরত আবা আবদিল্লাহ্ আল হোসাইন – আলাইহিস্ সালাম – এর যিয়ারত (ওয়ারিস) জনগণের জন্য পাঠ করতেন যে, হযরত সৈয়দুশ্ শুহাদা – আলাইহিস্ সালাম – এর সাথে এই মহান আলেমের এমন সম্পর্ক আমার মন মানসিকতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল ’’৷

যেসব ব্যক্তিদের সাথে ওস্তাদের সম্পর্ক ছিল তারমধ্যে মরহুম এলাহী ক্বামশেঈ (রহঃ) এর নাম নেয়া যেতে পারে যে, ওস্তাদ সেই মরহুমের চরিত্র গঠনের ক্লাস হতে উপকৃত হয়েছেন৷

এসকল উপাদানসমূহ – পরিবার ও চরিত্র গঠন শিক্ষক উপাদান – কারণ হল যে ওস্তাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শেষ করার পর ধর্মীয় শিক্ষার পথে অগ্রসর হলেন এবং মরহুম এলাহী ক্বামশেঈ (রহঃ) এর সাথে পরামর্শ করে দীনি পাঠ আরম্ভ করলেন৷

ওস্তাদের লেখাপড়া তেহরান ও কোম ধর্মীয় মাদ্রাসাতে হয়েছিল৷ তেহরানে সাহিত্য শুরু করেন এবং সাহিত্য শেষ করার পর প্রভূভক্ত আলেম হযরত আয়াতুল্লাহ্ মিরযা আলী ফালসাফী – তাঁরবরকত বাকি থাকুক – যিনি ঐ সময় মরহুম বোরহানের পর লোরযাদেহ্ মসজিদে মসজিদে জামাত পড়াতেন – এর খেদমতে যান এবং তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে মা’আলেম আল উসুল বই তাকে পড়ানোর দাবী করেন৷ সেই অতুলনীয় আলেম – সীমিত সংখ্যক লোকদের একজন যাঁর জন্য মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল উযমা খোঈ (রহঃ) তাঁর ইজতেহাদের ( গবেষণার মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয় বা আইনের সিদ্ধান্ত উদঘাটন) লিখিত প্রশংসাপত্র প্রদান করেছিলেন – ওস্তাদের দাবীকে মেনে নেন এবং লোম’আতাইন ও মা’আলেম বই শেষ করার পর আয়াতুল্লাহ্ ফালসাফীর কাছ থেকে অনুমতি লাভ করেন যাতে কোমের ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে হিজরত করেন৷ আয়াতুল্লাহ্ ফালসাফী ওস্তাদকে অনুপ্রেরণা যোগান আর স্নেহের সাথে বুকে জড়িয়ে ধরেন আর যখন ওস্তাদ ভ্রমনের সম্বল স্বরূপ উপদেশ বাণীর দাবী করেন, আয়াতুল্লাহ্ ফালসাফী রাসুল (সঃ) এর একটি হাদীস উপহার ও সম্বল স্বরূপ তাঁকে বলেনঃ « مَن كَانَ لِلَّهِ كانَ اللّهُ لَه » অর্থাত্ ‘‘ যে আল্লাহর জন্য থাকে আল্লাহ্ তার জন্য থাকেন ’’৷ ওস্তাদ আনসারিয়ান বলেনঃ ‘‘ সেই দিন থেকে আজ পযর্ন্ত চেষ্টা করেছি খোদার সাথে থাকবো এবং দেখেছি খোদাও জীবনের প্রতিটি স্তরে আমার সাথে ছিল৷ হাঁ, যে ব্যক্তি খোদার সাথে থাকে খোদাও তার সাথে থাকবে ’’৷

ওস্তাদ তেহরানের ন্যায় কোমেও খোদাভীরূ ব্যক্তিদের সাথে অন্তরঙ্গ হয়ে থাকতে চেষ্টা করেছেন৷ আর তাই মরহুম আয়াতুল্লাহ্ হাজ্ শেখ আব্বাস তেহরানির (রহঃ) খেদমতে পৌঁছান এবং তাঁর বরকতময় সান্যিধ্যে লাভবান হন৷

অনুরূপ মরহুম হাজ্ আগা হোসাইন ফাতেমির (রহঃ) চরিত্র গঠন ক্লাসে অংশ গ্রহণ করেন আর এ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেনঃ ‘‘ আয়াতুল্লাহ্ ফাতেমির বেশীরভাগ চরিত্র গঠন বক্তৃতাগুলো স্বয়ং মরহুমের ও ছাত্রদের পক্ষ থেকে অশ্রূভরা চোখে আবেগ ও উদ্দীপনার সাথে হত ’’৷

শেষ পযর্ন্ত মরহুম আয়াতুল্লাহ্ হাজ্ শেখ আব্বাস তেহরানি (রহঃ) এর পবিত্র হাতে দীনি আলেমের পোষাকে সজ্জিত হন এবং নিজের লেখাপড়াকে এভাবে অব্যাহত রাখেনঃ রাসায়েল ও মাকাসেব ও কেফায়া বইগুলোকে সম্মানিত ওলামা যেমনঃ আয়াতুল্লাহ্ এ’তেমাদী, আয়াতুল্লাহ্ আল্ উযমা ফাযেল লানকারানী, আয়াতুল্লাহ্ সালেহী নাজাফাবাদী ও আয়াতুল্লাহ্ সানেঈদের কাছে শিখেছেন৷

উচ্চ স্তরের লেখাপড়া সেষ করার পর ফিক্বাহ্ ও উসুলের এসতেম্বাতী (গভীর অনুসন্ধানের পর কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া) পরযায়ে – দরসে খারেজ – প্রবেশ করেন৷ এখানেও সম্মানিত ফক্বীহবৃন্দ (ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ) যেমনঃ মরহুম আয়াতুল্লাহ্ সৈয়দ মোহাক্বেক দামাদ (রহঃ), আয়াতুল্লাহ্ মোনতাযারী, মরহুম আয়াতুল্লাহ্ হাজ্ শেখ আবুল্ ফায্ল নাজাফী খোনসারি (রহঃ) বিশেষ করে দীর্ঘ কয়েক বছর মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল্ উযমা হাজ্ মিরযা হাশেম আমোলী (রহঃ) এর সান্যিধ্যে থেকে লাভবান হয়েছেন, যে ওস্তাদের এই দিনগুলোর শিক্ষার অর্জন হচ্ছে, মরহুম আয়াতুল্লাহ্ হাজ্ মিরযা হাশেম আমোলী (রহঃ) এর ফিক্বাহ্ ও উসুলের দরসের গুরূত্বপূর্ণ তাক্বরীরাত (খারেজ দরসের ব্যাখ্যা বা বর্ণনা) যা তাঁর রচনা বিভাগে উপস্থাপন করেছেন, এবং আয়াতুল্লাহ্ গিলানীর কাছে দর্শন বা হিকমত বিষয়ক আলোচনা, তেহরানে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন জাওয়াদীর কাছে মা’আনী ও বয়ান ও বদী’র জ্ঞান অর্জন করেছেন৷

উল্লেখ্য যে এই উজ্জল অনুসন্ধানের পর, সম্মানিত আয়াতুল্লাহ্ ও অনুসরণযোগ্য ধর্মীয় নেতাদের যেমনঃ মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল্ উযমা মিলানী (রহঃ) ও মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল্ উযমা আখুন্দ হামাদানী (রহঃ) ও মরহুম আয়াতুল্লাহ্ কমারেঈ (রহঃ) ও মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল্ উযমা গুলপায়গানী (রহঃ) ও মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল্ উযমা হাজ্ সৈয়দ আহমাদ খোনসারি (রহঃ) ও মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল্ উযমা মার’আশী নাজাফী (রহঃ) মরহুম আয়াতুল্লাহ্ আল্ উযমা ইমাম খোমেইনী (রহঃ) এর কতৃক তিনি জ্ঞান সম্বন্ধীয় ও রেওয়ায়েতের অনুমতির অধিকারী হয়েছেন৷

ওস্তাদ দীনি শিক্ষা অর্জন ও হাওযার উচ্চ স্তর শেষ ও হাওযা এলমিয়ার সম্মানিত ও বড় শিক্ষকদের কাছ থেকে লাভবান হবার পর তাঁর মূল লক্ষ্যে পৌঁছার জন্যে – যা একজন দীনি ছাত্রের জন্য গুরূত্বপূর্ণ বিষয় মনে করা হয় – যা হচ্ছে সেই গবেষণা, সংকলন ও ইসলামি জ্ঞানের প্রচার, খুব কষ্টে হাওযা ইলমিয়াহ্ কোম থেকে তেহরানে প্রত্যাবর্তন করেন এবং এ পযর্ন্ত ত্রিশ বছরের উর্ধে এলাহী কর্তব্য পালনে ব্যস্ত রয়েছেন৷

তাঁর চার হাজার বক্তৃতা পুনরাবৃত্তি ব্যতীত এবং চল্লিশটির বেশী বই – প্রায় আশি খন্ড – তেহরানে বাধ্যতামূলক অবস্থানের উপস্থাপিত ফল৷

দারুল এরফান | ওস্তাদ পরিচয় | বক্তৃতা | সদস্যপদ | শরীয়াত বিষয়ক প্রশ্ন | ছবি | রচনাবলী |
 Copyright 2005-2006 All rights are reserved to Dar-al-erfan institute