বাঙ্গালী
Friday 15th of November 2019
  148
  0
  0

যেভাবে এ পৃথিবীতে এসেছিলেন হযরত ফাতেমা যাহরা (আ.)

যেভাবে এ পৃথিবীতে এসেছিলেন হযরত ফাতেমা যাহরা (আ.)

নবুয়্যত ঘোষণার শুরুর বছরগুলোতে ইসলামের শত্রু আবু জেহেল, আবু লাহাব ও আবু সুফিয়ানরা তাঁকে রুখতে সম্ভাব্য সকল পদ্ধতি অবলম্বন করতো। মহানবি (স.) এর বেশ কয়েকজন সন্তান যখন আল্লাহর মর্জিতে শৈশবেই ইন্তিকাল করেন তখন মক্কার ঐ মুশরিকরা কটাক্ষ করে মহানবি (স.) কে আবতার তথা নির্বংশ বলে ডাকা শুরু করে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): নবুয়্যত ঘোষণার শুরুর বছরগুলোতে ইসলামের শত্রু আবু জেহেল, আবু লাহাব ও আবু সুফিয়ানরা তাঁকে রুখতে সম্ভাব্য সকল পদ্ধতি অবলম্বন করতো। মহানবি (স.) এর বেশ কয়েকজন সন্তান যখন আল্লাহর মর্জিতে শৈশবেই ইন্তিকাল করেন তখন মক্কার ঐ মুশরিকরা কটাক্ষ করে মহানবি (স.) কে আবতার তথা নির্বংশ বলে ডাকা শুরু করে।

মহান আল্লাহ্ তার প্রিয় নবিকে সান্ত্বনা দিলেন এবং সূরা কাউসার অবতীর্ণ করার মাধ্যমে হযরত ফাতেমাকে প্রদানের সুসংবাদ দিলেন। আজ তাঁর জন্মদিন। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে মা ফাতিমা (সা. আ.) এর জন্মদিবসকে মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। তাঁর জন্মটাও ছিল আশ্চর্যজনক বিভিন্ন ঘটনায় মোড়া যা মানব ইতিহাসে বিরল।

এ নিবন্ধে, কিভাবে তিনি মহানবি (স.) এর ঔরসে আসেন, মা খাদিজার গর্ভে যান, কিভাবে ভূমিষ্ঠ হন এবং তার ভূমিষ্ট হওয়ার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা।

উম্মু আবিহা হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.); ২০ জমাদিউস সানী মক্কা মুকাররামায় জন্মগ্রহণ করেন।

 

যেভাবে হযরত খাদিজার গর্ভে এলেন

মেরাজে মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (স.) কে সুসংবাদ দেয়া হল:

((«یَا مُحَمَّد! إِنَّ اللهَ تَعَالَی یُبَشِّرُکَ بِفَاطِمَۀَ مِنْ خَدِیجَۀَ بِنْتِ خُوَیْلِدٍ))

“হে মুহাম্মাদ! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ তোমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন ফাতেমার যে আসবে খাদিজা বিনতে খুইওয়াইলাদ থেকে”।

রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে, মেরাজে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একটি আপেল মহানবি (স.) কে উপহার দিলেন এবং ফলটি খাবার নির্দেশ দিলেন। যখন ঐ আপেলটি উন্মুক্ত করা হল তখন তার থেকে অবাক করা এক নূর বের হল।

কোন কোন রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে, খাতামুল আম্বিয়া বেহেশতি খোরমা খেয়েছিলেন।

১০ই শাবান হযরত জীবরাইল (আ.) এসে মহানবি (স.) কে হযরত খাদিজা (সা. আ.) থেকে ৪০ দিন দূরে থাকার ঐশী বার্তা পৌঁছে দিলেন। যা ছিল হযরত ফাতেমা যাহরা (স.) এর জন্মের প্রস্তুতি ও ভূমিকা স্বরূপ।

যদিও হযরত খাদিজা (সা. আ.) কে হযরত মুহাম্মাদ (স.) প্রচণ্ড ভালবাসতেন এবং তাঁর থেকে দূরে থাকাটা ছিল রহমতের নবির জন্য কষ্টকর তা সত্ত্বেও তিনি হযরত খাদিজাকে বার্তা পাঠালেন যে, কিছুদিন বাড়িতে আসতে পারছি না এবং ফাতেমা বিনতে আসাদের বাড়িতে অবস্থান করবো। রাতে (আমার অপেক্ষায় না থেকে) দরজা বন্ধ করে বিশ্রাম কর।

রাহমাতুল লিল আলামিন (স.) রাতে হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদের বাড়িতে অবস্থান করতেন। প্রতি রাতে ইফতারের সময় খোরমা, আঙ্গুর এবং বেহেশেতি খাবার আসত। বেহেশতি পানি ও তোয়ালে দিয়ে তাঁর হাত ধুয়ে দিত। ইমাম আলী (আ.) মহানবি (স.) এর নির্দেশ মোতাবেক বাড়ির দরজাতে বসে থাকতেন যাতে কেউ ভেতরে না আসতে পারে এবং মহানবি (স.) এর সাথে ঐ খাদ্যে অংশীদ্বার না হতে পারে। ৪০তম রাতে হযরত খাদিজা (সা. আ.) এর বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ এল। বলা হল, মহান আল্লাহ্ কসম করে বলেছেন, আজ রাতে আপনার ঔরস থেকে একটি পবিত্র বংশের সৃষ্টি করবেন। হযরত মহানবি (স.) উঠে দাঁড়ালেন এবং হযরত খাদিজার বাড়িতে গেলেন।

হযরত খাদিজা (সা. আ.) বলেন: কসম সেই সত্ত্বার যিনি আসমানকে উঁচু করেছেন এবং মাটি থেকে পানি নির্গত করেছেন; হযরত (স.) আমার থেকে দূর হতে না হতেই আমি ফাতেমা’র অস্তিত্ব নিজের মাঝে অনুভব করেছিলাম।

 

গর্ভকালীন সময়

হযরত ফাতেমা গর্ভ থাকা অবস্থাতেই নিজের মায়ের সাথে কথা বলতেন, তাকে সান্ত্বনা দিতেন এবং তাকে ধৈর্যধারণ করতে বলতেন।

মহানবি (স.) হযরত খাদিজাকে বললেন: জীবরাইল আমাকে এ সুসংবাদ দিয়েছেন যে, নবজাতক হচ্ছে কন্যা। শিশুটি পবিত্র ও বরকতময়। মহান আল্লাহ্ আমার বংশকে এ শিশুর মাধ্যমে অব্যাহত রাখবেন। আর তার সন্তানদের মধ্য থেকে ইমামদের আগমন ঘটবে, যারা ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সময় শেষ হওয়ার পর পৃথিবীর বুকে তাঁর খলিফা হিসেবে অবস্থান করবে।

শিশুর জন্মের আলামত দেখা দিল। কুরায়েশ নারীদেরকে সাহায্যের জন্য আহবান জানানো হলেও কেউ তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এল না। কারণ কুরায়েশ নারীদের নিষেধ উপেক্ষা করে মহানবি (স.) এর সাথে হযরত খাদিজা (সা. আ.) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কুরায়েশ নারীদের এমন আচরণে মনক্ষুন্ন হয়েছিলেন হযরত খাদিজা।

এ সময় বনি হাশিমের নারীদের সদৃশ্য ৪ মহিয়সী নারী তার কাছে এসে পৌঁছান। তাদের একজন বললেন: হে খাদিজা, তুমি মন খারাপ করো না। আমরা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্যে প্রেরিত হয়েছি। আমরা তোমার বোন। আমি সারাহ, ইনি মুযাহিম কন্যা আসিয়া; বেহেশতে তোমার সাথী। ইনি ইমরান কন্যা মারইয়াম এবং ইনি শোয়াইবের কন্যা সাফুরা; তবে কোন কোন বর্ণনায় হযরত মুসা (আ.) এর কন্যা কুলসুম ছিলেন ঐ নারীদের মাঝে ৪র্থ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন, যাতে এ কঠিন সময়ে তোমার সহযোগিতা করতে পারি। তাদের একজন হযরত খাদিজার ডান পাশে একজন বাম পাশে একজন সামনে এবং একজন তাঁর পেছনে বসলেন।

 

ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) এর জন্ম

হযরত খাদিজা কোবরা (সা. আ.) হযরত ফাতেমা (সা. আ.) কে পাক ও পবিত্র অবস্থায় জন্ম দিলেন। এ সময় তাঁর অস্তিত্ব থেকে এমন একটি নূর বের হচ্ছিল যে, সে আলোতে মক্কার সমস্ত বাড়ি আলোকিত হয়ে উঠলো। যে মহিয়সী হযরত খাদিজার সামনে বসেছিলেন, তিনি হযরত ফাতেমা (সা. আ.) কে হাতে নিলেন এবং কাউসারের পানি দিয়ে তাঁকে ধৌত করলেন। এরপর দুধের চেয়ে সাদা এবং মেশক ও আম্বারের চেয়ে সুগন্ধীযুক্ত ২ টুকরো কাপড় বের করলেন। এক টুকরো দিয়ে তার শরীর ঢেকে দিলেন এবং অপর টুকরো দিয়ে তার মাথা ঢাকলেন। এরপর বললেন: কথা বল।

হযরত যাহরা (সা. আ.) মুখ খুললেন:

اشهد أن لا إله إلا الله و أن أبی رسول الله سید الأنبیاء و أن بعلی سید الأوصیاء و ان ولدی سید الأسباط

অতঃপর তাদের প্রত্যেককে সালাম করলেন এবং তাদের প্রত্যেকের নাম ধরে সম্বোধন করলেন। তাঁর পবিত্র চেহারা দেখে তাদের সকলের মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। বেহেশতি হুরেরা পরস্পরকে পবিত্র ও বরকতময় এ শিশুর জন্মে মোবারকবাদ দিল। আসমানে এমন এক নূরের উদয় হল যা ফেরেশতারা ইতিপূর্বে কখনও দেখেনি। আর এজন্য তার নাম রাখা হল ‘যাহরা’। যিনি হযরত খাদিজার সামনে বসেছিলেন, তিনি বললেন: তাকে পাক-পবিত্র ও সু-সজ্জিত অবস্থায় কোলে নেবে, কেননা তার বংশধারায় বরকত প্রদান করা হয়েছে।

হযরত খাদিজা তাঁকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে সেই মহিয়সীর কাছ থেকে কোলে নিলেন।

 

মহানবির (স.) এর নিকট হযরত ফাতেমার (আ.) অবস্থান

মহানবি (স.) এর নিকট হযরত যাহরা (সা. আ.) বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন; যা ছিল যে কোন কন্যার প্রতি পিতার সম্মান প্রদর্শনের উর্ধ্বে। আর এটা এমন ছিল যে, অপরকে অবাক করে দিত। মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (স.) এত শান ও মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার কন্যাকে চুম্বন দিতেন। হযরত আয়েশার বর্ণনানুযায়ী; যখনই ফাতেমা হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর কাছে আসতেন তখন তিনি নিজের স্থান ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেন এবং তার কপালে চুম্বন দিতেন। অথবা যখন সে আসত তিনি (স.) তাকে সযত্নে স্বাগত জানাতেন বা তাকে সসন্মানে বিদায় দিতেন।

হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেছেন: ফাতেমা ফুলের মত।

তিনি আরও বলেন: ফাতেমা আমার অংশ স্বরূপ। অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: ফাতেমা আমার সবচেয়ে আপন।

তিনি আরও বলেছেন: যে ফাতেমাকে সন্তুষ্ট করে সে আমাকে সন্তুষ্ট করলো, আর যে, ফাতেমাকে কষ্ট দেয় সে আমাকে কষ্ট দেয় আর যে, আমাকে কষ্ট দেয় সে আল্লাহকে কষ্ট দেয়।#

  148
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article

    পবিত্র রমজানের প্রস্তুতি ও ...
    সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিতে ইমাম মাহদি ...
    ‘১০ বছরের মধ্যে ব্রিটেন হবে মুসলিম ...
    প্রাচীন ইসলামি নিদর্শন ধ্বংস করার ...
    ব্রাসেলসে ইহুদি জাদুঘরে হত্যাকাণ্ড ...
    রজব মাসের ফজিলত ও আমল
    সাড়ে ৫ হাজার ইরাকি বিজ্ঞানীকে হত্যা ...
    ইরান পরমাণু বোমা বানাতে চাইলে কেউই ...
    অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি আফজাল গুরুর ...
    ধর্ম নিয়ে তসলিমার আবারো কটাক্ষ

 
user comment