বাঙ্গালী
Friday 15th of December 2017
code: 80925
হজরত আলী আকবর (আ.) এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আবনা ডেস্ক: হজরত আলী আকবর ৪৩ হিজরী শাবান মাসের ১১ তারিখে মদীনা মুনাওয়ারাতে জন্মগ্রহণ করেন। (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খ-৫, পৃ-৩৮৮)
তার পিতার নাম ইমাম হুসাইন বিন আলী বিন আবি তালিব (আ.) এবং মাতার নাম লাইলা বিনতে আবি মাররা বিন উরওয়া বিন মাসউদ সাকাফি। (আলামুন নেসাউল মুমিনাত, পৃষ্ঠা ১২৬, মাকাতেলে তালেবীন, পৃষ্ঠা ৫২)
তিনি ছিলেন বনি হাশিম গোত্র থেকে। যার রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়রা ছিল রাসুল (সা.). হজরত আলী (আ.), হজরত ফাতিমা (সা.আ.) ইমাম হাসান এবং ইমাম হুসাইন (আ.)। আবুল ফারাজে ইস্ফাহানী লিখেছেন যে, একদা মুয়াবিয়া তার সঙ্গী সাথীদের জিজ্ঞাসা করে যে, বলতো আমার খেলাফতে সবচেয়ে উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যাক্তি কে? তখন সবাই বলে যে আপনি ছাড়া আর কে হতে পারে। তখন মুয়াবিয়া বলে যে না এমনটি নয়। বরং খেলাফতের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যাক্তি হচ্ছেন আলী ইবনে হুসাইন (আ.) যার পিতামহ হচ্ছে রাসুল (সা.) সে হচ্ছে একজন বনি হাশিমের সাহসী বীর। (মাকাতেলুত তালেবীন, পৃষ্ঠা ৫২, মুনতাহিউল আমাল, খণ্ড-১, পৃ. ৩৭৩ এবং ৪৬৪)
একদা ইমাম হুসাইন (আ.) মদীনার শাষকের কাছে একটি খবর পৌছানোর জন্য আলী আকবর (আ.) কে দ্বায়িত্ব দেন যখন তিনি উক্ত খবরটি নিয়ে মদিনার শাসকের কাছে পৌঁছান তখন শাসক তাকে জিজ্ঞাসা করে যে তোমার নাম কি? প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন আমার নাম আলী, শাষক আবার জিজ্ঞাসা করে যে তোমার ভাইয়ের নাম কি? তিনি আবারও বলে আলী তখন শাষক রাগান্বিত হয়ে জিজ্ঞাসা করে যে, তোমার বাবা কি নিজের সকল সন্তানের নাম আলী রাখতে চায়। এ সংবাদ তিনি তাঁর বাবা ইমাম হুসাইন (আ.) এর কাছে পৌঁছান। তখন ইমাম হুসাইন (আ.) বলেন যে, আল্লাহর শপথ যদি তিনি আমাকে ১০টি সন্তান দান করেন তাহলে আমি তাদের সবার নাম আলী রাখবো এবং যদি আল্লাহ্ আমাকে ১০টি কন্যা সন্তান দান করেন তবে তাদের সবার নাম রাখবো ফাতিমা।

আলী আকবরের ব্যাক্তিত্বঃ
হজরত আলী আকবর ছিলেন সূদর্শন, মিষ্টিভাষী এবং সর্বপরি ছিলেন রাসুল (সা.) এর সদৃশ্য এক যুবক।(মুনতাহাল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৫)
রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম হুসাইন (আ.) আলী আকবরকে কারবালার রণক্ষেত্রে প্রেরণ করে শত্রুদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: হে লোকসকল! তোমরা সাক্ষী থেকো আমি আমার সন্তানকে রণক্ষেত্রে প্রেরণ করছি, যে ছিল রাসুল (সা.) এর সদৃশ্য। যখন আমার মনে রাসুল (সা.) কে দেখার আশা জাগতো তখন আমি তাকে দেখে মনের আশা মিটাতাম।
আবুল ফারাজ ইসফাহানীর মতে তিনি উমসমানের যুগে জন্মগ্রহণ করেন (মাকাতেলুত তালেবীন, পৃ. ৫৩)। শাহাদতের সময় তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর। আবার কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর। তিনি তাঁর দাদা আলী ইবনে আবি তালিব এবং বাবা হুসাইন (আ.) এর স্নেহ এবং শিক্ষায় লালিত পালিত হন।

আলী আকবরের শাহাদতঃ
কারবালাতে হযরত আলী আকবর সর্বদা তার বাবা ইমাম হুসাইন (আ.) এর সাথে ছিলেন। যখন ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালার দিকে রওনা হন তখন হঠাৎ তার শরীর খারাপ হয়ে যায় এবং ক্ষণিকের জন্য তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।
অতঃপর যখন তিনি সওয়ারী আরোহন করেন তখন তাঁর মুখ থেকে এক দৈববাণী শুনতে পাওয়া যায় তিনি বলেন: «انا لله و انا اليه راجعون »
তখন আলী আকবর ইমাম (আ.) এর কাছে ছিলেন। তিনি জানতেন যে ইমাম কোন কথাই অযথা বলেন না। অতএব, তিনি ইমাম (আ.) কে জিজ্ঞাসা করলেন, বাবা! কেন আপনি এমন কথা বলছেন?
ইমাম বলেন: আমি দেখলাম যে, আমাদের কাফেলাটি এমন এক স্থানের দিকে যাচ্ছে যেখানে মৃত্যু আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আলী আকবর ইমাম (আ.) কে জিজ্ঞাসা করেন, বাবা! আমরা কি সত্য পথের উপর প্রতিষ্ঠিত নই?
ইমাম তার উত্তরে বলেন: অবশ্যই আমরা সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত।
তিনি বললেন: তাহলে মৃত্যু থেকে আর ভয় কিসের।
হজরত আলী আকবর আরবের তিনটি প্রসিদ্ধ গোত্রের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাক সত্ত্বেও তিনি কখনও সেই সব গোত্রের নাম উল্লেখ করেননি বরং তিনি নিজেকে বনি হাশিমের সদস্য বলে গর্ববোধ করেতেন। তিনি ছিলেন বনি হাশিমের মধ্য থেকে কারবালার ময়দানে শহীদ হওয়া প্রথম ব্যক্তি। আর তাই আমরা যিয়ারতে দেখতে পাই যেখানে বলা হয়েছে: السَّلامُ عليكَ يا اوّل قتيل مِن نَسل خَيْر سليل
হজরত আলী আকবর কাবালার ময়দানে অনেক এজিদী সৈন্যকে হত্যা করেন। অবশেষে মাররা বিন মানকায আবদী নামক এক ব্যাক্তি তার কপালে আঘাত করে যার কারণে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন তখন অন্যান্য সৈন্যরা সাহস করে তার দিকে এগিয়ে আসে এবং তাকে চারিদিক থেকে আক্রমণের মাধ্যমে তাকে শহীদ করেন।
হজরত আলী আকবরের পবিত্র দেহ মোবারক কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) এর পায়ের অংশে দাফন করা হয়েছে।#
সংকলন : এস, এ, এ

user comment
 

latest article

  নাহজুল বালাগায় ‘তাকওয়া’
  আল কুরআনের আলোকে মানুষ-১ম কিস্তি
  আল্লাহর ওপর নির্ভরতা
  আল কোরআনের দৃষ্টিতে মুমিনের দায়িত্ব ও ...
  আকল তথা বুদ্ধিবৃত্তি
  দুঃখ-কষ্ট মোকাবেলার উপায়
  ইমাম জা’ফর সাদিক(আ.): ইসলামের অনন্য ...
  বিশ্বনবী মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর শুভ ...
  আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব
  পাঁচ-ওয়াক্ত নামাজের দোয়া বা তা‘কীবাত