বাঙ্গালী
Wednesday 24th of April 2019
  2256
  0
  0

২০তম দিনে গড়িয়েছে পাকিস্তানি আলেমদের অনশন

২০তম দিনে গড়িয়েছে পাকিস্তানি আলেমদের অনশন

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা-: গত ১৩ মে (শুক্রবার) থেকে পাকিস্তানের মাজলিসে ওয়াহদাতে মুসলিমনের মহাসচিব হুজ্জাতুল ওয়াল মুসলিমীন আল্লামা রাজা নাসের আব্বাস জাফরি’সহ পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আলেম ও শিয়া মুসলিম অনশনে বসেছেন। গত ২০ দিনের অধিক সময় যাবত তারা এ অনশন কর্মসূচী পালন করছেন।

পাকিস্তানে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীদের উপর বিভিন্ন অনাচার ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজধানী ইসলামাবাদে এ অনশন শুরু করেছেন আল্লামা জাফরি। গত সোমবার (৩০ মে) তার অবস্থার অবনতি হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তিনি অনশন ভঙ্গ করেননি।

৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপেক্ষা করে পাকিস্তানের লাহোর, করাচি ও পারাচিনারসহ বিভিন্ন শহরের লোকেরাও নিজেদের শহরে অনশন শুরু করেছেন ইতিমধ্যে। এ অনশনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে লন্ডন ও নিউইয়র্ক থেকেও। এ অবস্থায় পাকিস্তানের জনগণের বিশ্ব সমাজের সমর্থন প্রয়োজন।

এ অনশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন গোলাম হুর শুবাইরি’র সাথে কথা বলেছেন আবনা প্রতিবেদক। হুজ্জাতুল ইসলাম শুবাইরি মাজলিসে ওয়াহদাতে মুসলিমীনে’র প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং বর্তমানে ব্রিটেনের লিউটন শহরের জুমআর খতিব ও পেশ ইমামের দায়িত্বে নিয়োজিত। তিনি এর পূর্বে প্রায় ১০ বছর যাবত যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যে অবস্থিত হিউস্টন ইসলামি কেন্দ্রে তাবলিগী কর্মকাণ্ডে রত ছিলেন।

 

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শুবাইরির সাক্ষাতকারটি এখানে উল্লেখ করা হল:

 

আবনা: প্রথম প্রশ্নের উত্তরে অনুগ্রহ পূর্বক বলুন, জনাব রাজা নাসের আব্বাস জাফরি ও পাকিস্তানি শিয়াদের একটি দল কি উদ্দেশ্যে এ অনশনে বসেছেন?

-বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। বহুবছর যাবত পাকিস্তানি শিয়াদের উপর যে গণহত্যা চলছে তার প্রতিবাদে মূলতঃ এ অনশন কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। ১৯৬২ সাল থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠি এ নাগাদ ২৭০০০ শিয়া মুসলিমকে –বিশেষ করে গণ্যমান্য ও প্রতিষ্ঠিত শিয়া ব্যক্তিত্ব- হত্যা করেছে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি ও করছে না। খুনিরা ও শিয়াদের শত্রুরা অবাধে তাদের সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা সরকারের সহযোগিতাও পাচ্ছে!

অপর বিষয়টি হল, নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকার এদেশের শিয়াদের সাথে শত্রুতা শুরু করছে। তাদের জমি ও সম্পত্তিকে জোরপূর্বক কেড়ে নিচ্ছে! পাশাপাশি আটক ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার শিয়ারা। এ অত্যাচারে সরকারের সাথে হাত মিলিয়েছে গোঁড়া ওয়াহাবি আলেমরাও।

 

আবনা: সাম্প্রতিককালে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে একটু ব্যাখ্যা করুন। অর্থাৎ সরকার কিভাবে শিয়াদের জমি দখল করছে সেটা স্পষ্ট করে বলুন।

-গিলগিত ও বালতিস্তান হচ্ছে পাকিস্তানের অন্যতম শিয়া প্রধান এলাকা। এ সকল অঞ্চলে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীরা অনেক সম্পত্তির মালিক। সেনাবাহিনী ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তর বিভিন্ন পন্থায় জোরপূর্বক তাদের ঐ সকল জমি দখল করে নিচ্ছে। ঐ সকল এলাকার শিয়া মুসলমানদেরকে দূর্বল করতে তারা এ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

 

আবনা: সহিংসতা কি এখনো চলছে?

-অবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটেনি। এইতো কয়েকদিন আগেও পারাচিনারে –যে এলাকার সকল মানুষই শিয়া মাযহাবের অনুসারী- সন্ত্রাসীরা নয় স্বয়ং নিরাপত্তা বাহিনী’র সদস্যরা ইমাম হুসাইন (আ.) এর জন্মবার্ষিকীতে জনগণের উপর হামলা চালিয়ে তাদের কয়েকজনকে শহীদ করেছে এবং বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে এতে। ডেরা ইসমাঈল খান এলাকাতেও একদিনে ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সরকার কোন পদক্ষেপই নেয়নি!

 

আবনা: যেভাবে আপনি বলেছেন, কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানি শিয়াদের উপর এ চাপ অব্যাহত রয়েছে, আপনি কি মনে করে এ অনশন সফলতার মুখ দেখবে?

-মাজলিসে ওয়াহদাতে মুসলিমীন বিশেষভাবে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন জনাব রাজা নাসের আব্বাস এ সিদ্ধান্তে অটল যে, সরকার তাদের বৈধ দাবী মেনে না নেয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন। তারা অনশনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চান। পাশাপাশি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান এবং জনগণের মাঝে জাগরণ সৃষ্টি করতে চান।

 

আবনা: অনশনরত ব্যক্তিরা মূলতঃ কি কি দাবী নিয়ে অনশন করছেন?

-৭ দফা দাবী নিয়ে তারা অনশন করছেন, সেগুলো হচ্ছে:

১। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিয়া হত্যা বন্ধে কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণ।

২। শিকারপুর ও জ্যাকব আবাদসহ শিয়া হত্যার সকল মামলা সামরিক আদালতে হস্তান্তর।

৩। পাঞ্জাব রাজ্যের শিয়াদের আযাদারি’র সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহার।

৪। তাকফিরি দলসমূহের তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা।

৫। সম্প্রতি ‘খায়বার পাখতুন খোয়া’ অঞ্চলের শিয়াদের উপর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার।

৬। সামরিক বাহিনী’র হাতে সম্প্রতি পারাচিনারের শিয়া মুসলিম হত্যার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন।

৭। সরকার কর্তৃক গিলগিত ও বালতিস্তানের শিয়াদের সম্পত্তি দখল বন্ধ এবং দখলকৃত সকল জমি ফেরত দিতে হবে।

এ ৭ দফা দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন ভঙ্গ করবেন।

 

আবনা: আপনার দৃষ্টিতে পাকিস্তান সরকার -বিশেষ করে আইএসআই- এ দাবী মেনে নেবে কি না?

-সারা পাকিস্তানে এ অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে দেশের দক্ষিন অঞ্চলে সিন্ধু এবং উত্তর অঞ্চলে পাঞ্জাব রাজ্যের জনগণ পৃথক পৃথকভাবে অনশন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে এ প্রতিবাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে নিরব। অনশনকারীরা সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে পাকিস্তানের লাখ লাখ শিয়া মুসলিমের অধিকারে আদায় অথবা শিয়াদেরকে নিজেদের অধিকার রক্ষায় জাগ্রত করার বিষয়ে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। যদি দেশের অভ্যন্তর ও বহির্বিশ্বে বসবাসরত জনগণের চিন্তা-চেতনা জাগ্রত হয় তবে এ উদ্দেশ্য পৌঁছানো কঠিন কিছু হবে না।

 

আবনা: কবে থেকে এ অনশন শুরু হয়েছে?

-গত ১৩ মে (শুক্রবার) থেকে এ অনশন শুরু হয়েছে।

 

আবনা: প্রথম দিন থেকেই কি অনশন পালিত হচ্ছে?

-প্রথম দিন থেকেই জনাব রাজা নাসের আব্বাস সকল প্রকার খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছেন।

 

আবনা: তাঁর সাথে আর কতজন অনশনে বসেছেন?

-মূলতঃ হুজ্জাতুল ইসলাম জনাব রাজা নাসের আব্বাস এ অনশন শুরু করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে মাজলিসে ওয়াহদাতে মুসলিমীনে পাকিস্তানে’র সকল নেতারা তার সাথে অবস্থান নিয়েছেন। যেভাবে আমি ইঙ্গিত করেছি, এ অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন শহর থেকে তাঁর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন অনশনরত ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাত করতে শত শত মানুষ ইসলামাবাদ আসছেন।

বর্তমানে পাকিস্তানের লাহোর, করাচি, মুলতান, পারাচিনার ও বালতিস্তানে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে এ অনশনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে অনশন শুরু হয়েছে। কয়েকদিন পূর্বে লন্ডনে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে পাকিস্তানের শিয়া সমাজ ও রাজা নাসের আব্বাসে’র পদক্ষেপের সমর্থনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের সকল বেসরকারি সংস্থা অনশনরত ব্যক্তিদের দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আর এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, এ পদক্ষেপ ফলপ্রসু হতে যাচ্ছে। (ইনশা আল্লাহ্)

 

আবনা: কোথায় অনশন পালিত হচ্ছে?

-পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ প্রেস ক্লাবের সামনে।

 

আবনা: অনশনরত ব্যক্তিদের শারীরীক অবস্থার বিষয়ে বলুন?

-স্বভাবতই তাদের শারীরীক অবস্থা অবনতির দিকে এবং অত্যন্ত দূর্বল হয়ে পড়েছেন তারা। গতকাল (৩০ মে) আল্লামা রাজা নাসের আব্বাসে’র অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ২ ঘন্টা পর তিনি পূনরায় অনশন ক্যাম্পে যোগদান করেছেন।

 

আবনা: পাকিস্তানের বাইরে অন্যান্য দেশে বসবাসরত পাকিস্তানি শিয়াদের নিকট আপনাদের প্রত্যাশা কি?

-তারা যেন পাকিস্তানের শিয়া সর্বপরি মুসলমানদের বিষয়ে সজাগ থাকে এবং যতদূর সম্ভব তাদেরকে সমর্থন ও সহযোগিতা করে যায়।

 

আবনা: পাঠকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতে চান।

-বিশিষ্ট মারজাগণ, আলেম সমাজ, গণমাধ্যম কর্মী এবং চিন্তাবিদদের প্রতি আমার আবেদন হচ্ছে, তারা যেন অনতি বিলম্বে এ সম্পর্কে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন এবং পাকিস্তানি শিয়াদের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনশনরত ব্যক্তিদের বৈধ দাবীর প্রতি সমর্থন দেন। অনেক সময় এমন দেখা গেছে যে, তারা পাকিস্তানের বিষয়কে খুব একটা গুরুত্ব দেন না।

 

আবনা: আপনার মূল্যবান সময় আমাদেরকে দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

 
[‘আল্লামা রাজা নাসের আব্বাস জাফারি’র সংবাদ সম্মেলন ও অনশনের ঘোষণা]
‘আল্লামা রাজা নাসের আব্বাস জাফারি’র সংবাদ সম্মেলন ও অনশনের ঘোষণা

 
[অনশনরত ব্যক্তিদের প্রতি পাকিস্তানের শিয়া ও সুন্নি আলেমদের সমর্থন]
অনশনরত ব্যক্তিদের প্রতি পাকিস্তানের শিয়া ও সুন্নি আলেমদের সমর্থন
[অনশন ক্যাম্পে জামাতের সাথে নামায আদায়]
অনশন ক্যাম্পে জামাতের সাথে নামায আদায়

বলাবাহুল্য, পাকিস্তানি শিয়ারা বহুবছর যাবত সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর পরিকল্পিত হামলার শিকার হচ্ছে, এবার পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনী’র গুলিতে পারাচিনারের শিয়ারা প্রাণ হারিয়েছে। শাবান মাসের বিশেষ মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশ্যে আগত আলেমদেরকে ঐ এলাকাতে প্রবেশে বাধা দিলে সৃষ্ট সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন শিয়া মুসলিম নিরাপত্তা বাহিনী


source : abna24
  2256
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article

      गुनाहगार माता -पिता
      एतेमाद व सबाते क़दम
      अज़ादारी और इसका फ़लसफ़ा
      मुफ़स्सेरीन और उलामा की नज़र में ...
      हज़रते क़ासिम बिन इमाम हसन अ स
      अब्बासी हुकूमत का, इमाम हसन असकरी अ.स. ...
      दर्द नाक हादसों का फ़लसफ़ा
      आशूर के दिन पूरी दुनिया में मनाया गया ...
      प्रकाशमयी चेहरा “जौन हबशी”
      हज़रते क़ासिम बिन इमाम हसन अ स

 
user comment