বাঙ্গালী
Saturday 23rd of March 2019
  2520
  0
  0

সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্মদাতা সৌদি আরব : নাসরুল্লাহ

সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্মদাতা সৌদি আরব : নাসরুল্লাহ

হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা –আবনা- : গতকাল রোববার (৩ জানুয়ারি ২০১৬) লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের সদস্য শহীদ ‘শাইখ মুহাম্মাদ খাতুনের’ স্মরণে অনুষ্ঠিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শাইখ নিমরের শাহাদাতের ঘটনার উপরও আলোকপাত করেন হিজবুল্লাহ প্রধান।

হিজবুল্লাহ প্রধান এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বলেন, শাইখ নিমরকে মজলুমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আলেম সমাজ এবং শহীদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ ‘শাইখ মুহাম্মাদ খাতুন’ সম্পর্কে বলেন : ১৯৭৭ সাল থেকে শাইখ খাতুনের সাথে আমার পরিচয়। নাজাফে আশরাফে তিনি আমার সহপাঠি ছিলেন। অতঃপর আমরা লেবাননে ফিরে এসে একটি যুবসংঘ প্রতিষ্ঠা করি।

জনাব নাসরুল্লাহ বলেন : প্রথম আলেম হিসেবে শাইখ খাতুন ১৯৮২ সালে সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগদান করেন। কেননা সময়টি ছিল সশস্ত্র প্রতিরোধের শুরুর সময়। যখন সৈয়দ মুসাভি বালাবাক এলাকায় হাওযা ইলমিয়া প্রতিষ্ঠা করেন তখন ঐ হাওযাতে প্রথম যোগদানকারীদের দলে তিনিও ছিলেন।

তিনি বলেন : ১৯৭৮ সালে সাদ্দাম যখন লেবানিজ ছাত্রদের আটক করে, ঐ সময় ‘আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’ দলে যোগদানের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ধর্মীয় ছাত্রদের মাঝে শাইখ খাতুনও ছিলেন। সিরিয় গোয়েন্দা বিভাগের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ঐ সময় ইরানে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়নি; সেটা হলে ইরানের সাথে যোগাযোগে থাকার অভিযোগও তার উপর আরোপ করা হত।

শাইখ নিমরের পরিবার, কাতিফ শহরের বাসিন্দা ও সকল মুসলমানের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন : শাহাদত হচ্ছে আম্বিয়াগণের ইরস ও কারবালার শিক্ষা।

লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী প্রধান বলেন : ইসরাইলকে প্রতিহত করার যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তা কয়েকটি প্রজন্মের প্রচেষ্টা, শহীদদের রক্ত ও মু’মিন মুজাহিদদের সর্বাত্মক চেষ্টার বদৌলতে অব্যাহত রয়েছে। আর হিজবুল্লাহ যে স্থানে পৌঁছেছে, ঈমানি শক্তি ব্যতীত সে স্থানে পৌঁছুনো সম্ভব নয়।

আয়াতুল্লাহ নিমরের শাহাদাতের বিষয়ে তিনি বলেন : আরব উপদ্বীপে সৌদি সরকারের জন্মই হয়েছে অত্যাচার ও অন্যায়ের উপর ভিত্তি করে। হারামাইন শারিফাইনের (মক্কা-মদিনা) দেশ, আহলে বাইত (আ.), রাসুল (স.) এর সাহাবীগণ, মুজাহিদগণ ও ইসলামের ভূখণ্ডের নামকে নিজেদের নামে নামকরণ করেছে আলে সৌদ।

তার সংযোজন : সৌদি আরবে আলেমদের কোন স্থান নেই, এমনকি কোন বিষয়ে সংশোধন বা অভিযোগেরও সুযোগ নেই। শাইখ নিমরের মৃত্যুদণ্ড, নিশ্চুপ থাকার মত কোন ঘটনা নয়।

শাইখ নিমর সম্পর্কে তিনি বলেন : তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। কখনই তিনি অস্ত্র হাতে নেননি; বরং সৌদি আরবে সমাধিকার চেয়েছেন। সৌদি আরবের বিচার বিভাগ কি এটা প্রমাণ করতে পারবে যে, তিনি অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করতেন? সৌদি আরবের আশ-শারকিয়া অঞ্চল ও বাহরাইনের সকল আলেমদের ন্যায় শাইখ নিমরের কর্মপন্থাও ছিল শান্তিপূর্ণ।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : সৌদি আরবের জনগণের প্রাথমিক ও সাধারণ নাগরিক অধিকারের দাবী ছিল শাইখ নিমরের। নিজের দাবীগুলোকে স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করাই ছিল তার অপরাধ। বর্তমানে এটা বলা সম্ভব, যে ব্যক্তি (অধিকারের বিষয়ে) সৌদি আরবে কথা বলবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। হ্যাঁ আমি ঐ সৌদি আরবের কথা বলছি, যে মধ্যপ্রাচ্যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রসার ঘটাতে চায়।

তিনি বলেন : সৌদিরা অপরাধ, হত্যাকাণ্ড ও লুটপাটের মাধ্যমে নিজেদেরকে জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এর সবটাই ইতিহাসে লিপবদ্ধ রয়েছে। এটা ছিল মুসলিম বিশ্বে উপনিবেশিকদের কর্মসূচীর একাংশ; ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরাইলি সরকার গঠনের সমসময়ে যার গোড়াপত্তন হয়।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসার উপায় বের করার জন্য সৌদি আরবের সাথে রাজনৈতিক সংলাপের কথা ভাবে কে? শাইখ নিমরের মৃত্যুদণ্ডকে রহিত করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে আসা চিঠি ও আবেদনকে উপেক্ষা করেছে আলে সৌদ। এক্ষেত্রে তাকে ক্ষমা না করলেও অন্তত তার মৃত্যুদণ্ড রহিত করা যেত।

তিনি বলেন : যে সকল বিজ্ঞজন সংলাপের অপেক্ষায় ছিল, তাদের উদ্দেশ্যে এ মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবের বার্তা হচ্ছে ‘সংলাপের কোন পথই খোলা নেই’। বরং হত্যা, যুদ্ধ ও ধ্বংস প্রথম ও চূড়ান্ত কথা বলে। সৌদিরা বর্তমানে যে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত সেগুলোর মাধ্যমে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে তাদের সন্ত্রাসী ও তাকফিরি চেহারা স্পষ্ট হচ্ছে। সৌদি সরকারের ভাষ্য হচ্ছে, আমরা এমনি এক সরকার যেকোন প্রকার অভিযোগ ও প্রতিবাদ শুনতে প্রস্তুত নই। ‘হয় আমাদের পাশে ভেড়ার মত বসবাস করো অথবা ভেড়ার মত নিহত হও’।

তার সংযোজন : এ মৃত্যুদণ্ডের বার্তা হচ্ছে আরব ও মুসলিম বিশ্ব, আন্তর্জাতিক মহল এবং লক্ষ লক্ষ মুসলমানের দাবী সৌদি সরকারের কাছে মূল্যহীন। তাদের একটাই কথা, ‘যে আমাদের বিরোধিতা করবে আমরা তার রক্ত ঝরাবো’।

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন : শাইখ নিমরের শাহাদতের অজুহাতে শিয়া-সুন্নি সংঘাতে জড়িয়ে পড়াটা হবে মূলতঃ সৌদি আরবের স্বার্থসিদ্ধ। এক্ষেত্রে শিয়াদের উচিত হবে শিয়া-সুন্নি সংঘাত হয় এমন সকল পথ থেকে দূরে থাকা। কেননা এ ফেতনাই সৌদিদের কাঙ্খিত।

তিনি বলেন : বহু বছর ধরে সৌদি আরব শিয়া-সুন্নি সংঘাত চায়। আফগানিস্তান, পাকিস্তান ইরাক ও নাইজেরিয়াতেও তারা শিয়া-সুন্নি সংঘাতের আগুন জ্বালাতে চেয়েছে এবং এ কর্মসূচী বাস্তবায়নে মোটা অংকের অর্থও ব্যয় করে তারা।

লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : যারা শাইখ নিমরকে হত্যা করেছে তারা সুন্নি নয়, বরং আলে সৌদ। সৌদি আরবে শিয়া ও সু্ন্নিদের মাঝে কোন সমস্যা নেই। বরং আলে সৌদ বহুবছর যাবত এ দু’টি সম্প্রদায়ের মাঝে সংঘাত সৃষ্টির স্বপ্ন লালন করে আসছে। যেখানে শিয়া-সুন্নি বিরোধ রয়েছে সেখানে আলে সৌদের পদচিহ্নের সন্ধান করুন।

ইয়েমেনে সৌদি হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন : ইয়েমনকে ধ্বংস করতে, ইয়েমেনিদের উপর কর্তৃত্ব অর্জন এবং এদেশের জনগণের উপর প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। স্বৈরাচারী সৌদি সরকার এদেশের জনগণ হত্যা ও তাদের রক্ত ঝরানো অব্যাহত রাখতে চায়, এ সংকট নিরসনে সংলাপের কোন সদিচ্ছা তাদের মাঝে দেখা যাচ্ছে না।

তার সংযোজন : ঐ সময় কি এখনো হয়নি যে, আমরা সাহসিকতার সাথে বলবো, তাকফিরে’র (অন্যকে কাফের আখ্যায়িত করা) ভিত্তি –যারা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষ হত্যা করছে- এই পরিবার ও সৌদি মক্তব থেকেই উৎসারিত? কেননা আইএসআইএলের যে সকল বই পাঠদান করে একই বই সৌদি আরবের স্কুলগুলোতে পাঠদান করা হয়। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, তারা উভয়ে একই পথের পথিক।

তিনি বলেন : এটা কি বলার সময় আসেনি যে, সন্ত্রাসী দলগুলো সৌদি সরকারের হাতের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তাদের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেয়ে থাকে তারা? বিশ্বের সামনে এ সত্য প্রকাশ করার সময় কি এখনো হয়নি যে, ‘আরব্য উপদ্বীপ’নামক একটি ভূখণ্ড রয়েছে যা মামলেকাত-এ সৌদি নামে নামকরণ করা হয়েছে। আর ঐ অঞ্চলের মানুষ অত্যাচার ও অনাচারের মাঝে দিনাতিপাত করছে এবং যারা মুখ খোলে তারা নিহত হয়?

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন : সৌদি আরবকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী দেশসমূহের তালিকা থেকে বের করে সন্ত্রাসী দেশসমূহের তালিকাভুক্ত করার সময় কি আসেনি; যে আলে সৌদ সকল সন্ত্রাসী সংগঠনসমূহের জন্মদাতা?

তিনি বলেন : আয়াতুল্লাহ নিমরের মৃত্যুদণ্ডের সর্বোত্তম জবাব হচ্ছে, স্বস্থানে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা; কেননা শাইখ নিমর সাহসিকতার সাথে সত্য বলার আহবান জানিয়েছিলেন। আর সাহসিকতার সাথে অটল থেকে সত্য কথাটি বলা, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় জিহাদ।

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন : আলে সৌদ তাদের বুদ্ধি ও মানবতা হারিয়েছে। আর এ হচ্ছে তাদের পতনেরই সংকেত।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন : যারা শহীদ কান্তার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধের অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এ শহীদদের রক্তের বরকতে জায়নবাদী সেনা ও অফিসারদের মনে ভয় জন্ম হয়েছে। অপেক্ষায় থাকুন ইনশা আল্লাহ্ তাদের এ পদক্ষেপ জবাবহীন থাকবে না।#


source : abna24
  2520
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article

      সিরিয়ায় ১,০০০ সৈন্য মোতায়েন রাখতে চায় ...
      যৌন জিহাদ’ থেকে গর্ভবতী হয়ে ফিরছে ...
      পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ট্যাংক ...
      ভারতে যে দাঙ্গা মুসলিম নারীদের ...
      ওয়াহাবীদের গ্রান্ড মুফতি কে? (পর্ব ১)
      সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি কে? (পর্ব ২)
      ওয়াহাবীদের গ্রান্ড মুফতি কে? (পর্ব ৩)
      গাধা ও কুকুরকে শরিয়ত ভিত্তিক উপায়ে ...
      নাইজেরিয়ায় ইসলাম প্রচার ততপরতায় ...
      যদি আল-মাজেদ জীবিত থাকতেন...

 
user comment