বাঙ্গালী
Wednesday 24th of April 2019
  1893
  0
  0

বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী হযরত মুহাম্মদ সা

বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পবিত্র জন্মের আনন্দঘন মাস রবিউল আউয়াল ৷ অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে মহান এই রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে তিনি বেহেশতী সুষমা নিয়ে প্রথিবীতে এলেন ৷ অবশ্য এমতের ব্যতিক্রমও আছে ৷ কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে ১৭ই রবিউল আউয়ালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ৷ যাই হোক তিনি এলেন পথ ভ্রষ্ট্র মানুষকে পথ দেখিয়ে দিতে ৷ মিথ্যা পথের অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করতে ৷ তাঁর আগমণ প্রথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ৷ তাঁর আবির্ভাব সত্য ও সুন্দরের নির্ভীক বিজয়ের স্মারক ৷ তাঁর আগমনে আমরা পেয়েছি ইহকালীন শান্তি আর পরকালীন মুক্তির দিক-নির্দেশনা ৷ বিনয় অবনত শ্রদ্ধার সাথে তাই কৃতজ্ঞতা জানাই বিশ্বের সেই শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি ৷ যাঁর আগমন না ঘটলে সুন্দর পেতনা তার পূর্ণরূপ ৷ পৃথিবী সৃষ্টি খুঁজে পেতো না স্বার্থকতা ৷

 

কবির ভাষায়,

তুমি না আসিলে মধু ভান্ডার ধরায় কখনো হতনা লুট
তুমি না আসিলে নারগিস কভু খুলতনা তার পর্ণপুট
বিচিত্র আশা মুখর মাসুক খুলত না তার রুদ্ধ দিল
দিনের প্রহরী দিত না সরায়ে আবছা আঁধার কালো নিখিল ৷

 

আমরা আজ তাঁর আগমনের বার্ষিকীতে তাঁরি পূণ্যময় জীবন ও কর্মের খানিকটা তুলে ধরে মূলত : নিজেদের জীবনই ধন্য করবো ৷

ত্রিভূনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়
আয়রে সাগর আকাশ-বাতাস দেখবি যদি আয়


হ্যাঁ , ত্রিভূবনের যিনি প্রিয়, তিনি পৃথিবীতে এসেছেন ৷ সেজন্যে আকাশ-বাতাস, সমুদ্র পর্বত তথা নিসর্গের সবকিছুতেই আনন্দের ধারা বয়ে যাচ্ছে৷ মা আমেনার কোল জুড়ে এলো যেন এক পূর্ণিমার চাঁদ ৷ সে চাঁদের আলোয় আমেনার পাতার ঘর ঝলমল করছে ৷ কবি ফররুখ আহমদ তাঁর " সিরাজাম মুনীরা মুহাম্মদ মোস্তফা "

 

কবিতায় যেমনটি লিখেছেন,

পূর্বাচলের দিগন্ত নীলে সে জাগে শাহানশাহের মত
তার স্বাক্ষর বাতাসের আগে ওড়ে নীলাভ্রে অনবরত ৷
ঘুম ভাঙলো কি হে আলোর পাখী ? মহানীলিমায় ভ্রাম্যমান
রাত্রি-রুদ্ধ কন্ঠ হতে কি ঝ'রবে এবার দিনের গান ?
এবার কি সুর ঘন অশ্রুর কারা তট থেকে প্রশান্তির ?
এবার সে কোন আলোর স্বপ্নে তাকাবে ক্ষুব্ধ প্রলয় নীর ?
এ বোবা বধির আকাশ এবার ভুলবে কি তার নীরবতাকে
সেই মুসাফির সুদুরচারীর সুগভীর সুরে দরদী ডাকে ৷

 

আর কবি নজরুল লিখেছেন , যেন উষারকোলে রাঙ্গা রবি দোলে,
তোরা দেখে যা আমেনা মায়ের কোলে .... ৷

 

সত্যি এই রাঙ্গা রবিই একদিন সমাজের সকল অন্ধকার দূর করে দিয়েছিলো ৷ হ্যাঁ অন্ধকারই বটে ৷ আরব, পারস্য, মিসর, রোম , ভারতবর্ষ প্রভৃতি তত্কােলীন সভ্য জগতের সবখানেই সত্যের আলো নিভে গিয়েছিলো ৷ জবুর , তওরাত্‍, বাইবেল প্রভৃতি বিকৃত ও রূপান্তরিত হয়ে পড়েছিলো ৷ ফলে মানুষ আল্লাহকে ভুলে গিয়ে প্রতিমাপূজা, প্রকৃতি পূজা, অগি্নপূজা শুরু করে দিয়েছিলো ৷ অনাচার, অবিচার আর ব্যভিচারে পৃথিবীটা জর্জরিত হয়ে পড়েছিলো ৷ আরবের অবস্থা ছিলো তখন সবচেয়ে শোচনীয় ৷ এমন কোন পাপ নেই, যা আরব সমাজে ছিলো না ৷ মদ-জুয়া-ব্যভিচার থেকে শুরু করে চুরি-ডাকাতি আর মারামারির ঘটনা ছিলো আরব সমাজের নিত্যদিনের ব্যাপার ৷ নারীজাতির অবস্থা ছিলো তখন অবর্ণনীয় ৷ নারীর সাথে তখন গৃহপালিত পশুর মতো আচরণ করা হতো ৷ কণ্যা সন্তান জন্ম নিলেই তাকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো ৷ এমনি বিচিত্র ধরনের অরাজকতায় ভরে গিয়েছিল আরব সমাজ ৷ চারদিকে নির্যাতিত-নিপীড়িত জনগণ তখন আর্তনাদ করছিল, একজন ত্রানকর্তার আবির্ভাব প্রত্যাশা করছিল ৷ আল্লাহ তখন মজলুমের ডাকে সাড়া দিয়ে ত্রানকর্তার হিসেবে যাঁকে পাঠালেন, তিনি আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৷ তিনি এলেন, যেন আধার বিদীর্ন করে জেগে উঠলো আলো ৷ তিনি এলেন, ইসলামের নবীন সওদা নিয়ে ৷


হ্যাঁ, ইসলামের সওদা নিয়ে এসে রাসূল (সাঃ) নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ঘুচালেন ৷ পৌত্তলিকতার নিরর্থকতা প্রমাণ করে আল্লাহর একত্ববাদ কায়েম করলেন ৷ মানুষকে দিলেন ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির দিশা ৷ কিন্তু একাজ এতোই সহজ ? না, মোটেই না ৷ বরং যখনি রাসূল (সাঃ) একত্ববাদের ডাক দিলেন, তখনি কায়েমী স্বার্থবাদী দল তাঁর বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগলো ৷ যাঁর-চারিত্রিক মাধুর্য এবং আমানতদারীর বিশ্বস্ততার মানুষ তাঁকে উপাধি দিয়েছিলো " আল আমীন " সেই আল আমীন যখন তৌহিদের আহবান জানালেন, তখন তাঁর আশপাশের লোকজনই বিরোধীতা করলেন ৷ শুধুই কি বিরোধীতা , সাধারণ মানুষ যখন তাঁর আনুগত্য করতে শুরু করে দিলো, তখন কায়েমী সমাজপতিরা তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালালো৷ অবশেষে তিনি আল্লাহর ইচ্ছায় জন্মভূমি পর্যন্ত ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন ৷ তার উপর সামাজিক অবরোধ আরোপ করা হলো ৷ নির্বাসন দেয়া হলো তাঁকে ৷ তবু তিনি বৃহত্তর কল্যাণের জন্যে সকল দুঃখ কষ্টই ধৈর্যের সাথে সহ্য করলেন ৷ মানুষকে আল্লার পথে ডাকলেন ৷ সংঘদ্ধ করলেন ৷ সবশেষে একের পর এক জেহাদ করে সত্যের বিজয় পতাকা উড়ালেন ৷ রক্ত ঝরিয়েছেন নিজের শরীর মোবারক থেকে ৷ দাঁত ভেঙ্গেছেন, তবু এতোটুকু পিছপা হননি ৷ আল্লাহর উপর ভরসা করে মানব মুক্তির শেষ্ঠ সনদ আল ইসলামকে কায়েম করে গেলেন ৷ তৈরী করে গেলেন তাঁরি অবিকল চারিত্রিক মাধুর্যপূর্ণ কিছু ব্যাক্তিত্বকে ৷ ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর জমীনে প্রতিষ্ঠিত করার পর তিনি পুনরায় আল্লাহর আহবানে সাড়া দিয়ে বিদায় নিলেন ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবী থেকে ৷ রেখে গেলেন আল্লাহর কিতাব আল কোরআন আর তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনের অবিকৃত শব্দরূপ আল-হাদিস এবং চারিত্রিক মাধুর্যপূর্ণ আহলে বাইত ও একদল সাহাবী ৷ আজ সেই মানবতার মুক্তিদূত রাসূলে করীম (সাঃ)এর পবিত্র জন্ম বার্ষিকী ; মীলাদু্ন্নবী ৷ এ উপলক্ষ্যে আমরা রাসূল (সাঃ) এর জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের জীবন গড়বো এই হোক মীলাদুন্নবী (সাঃ) এর অঙ্গীকার ৷ #

  1893
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

آخرین مطالب

      با افتتاح سی ودومین نمایشگاه بین المللی کتاب؛ نشر ...
      گزارش تصویری/ سخنرانی استاد انصاریان در مسجد جامع آل ...
      گزارش تصویری/ سخنرانی استاد انصاریان در حسینیه هدایت ...
      استاد انصاریان: دعا عامِل رفع گرفتاری‌ها، سختی‌ها و ...
      مدیر کتابخانه تخصصی امام سجاد(ع)؛ بیش از 700 نسخه خطی ...
      در آستانه ولادت حضرت امام سجاد علیه السلام؛ تفسیر و ...
      استاد انصاریان تبیین کرد: خداوند در چه صورتی چشم و گوش ...
      نگاهی به کتاب «تواضع و آثار آن» اثر استاد انصاریان
      اعلام برنامه سخنرانی استاد انصاریان درماه شعبان ...
      استاد انصاریان: کنار اسلام دین‌سازی نکنید/ داروی حل ...

بیشترین بازدید این مجموعه

      کودکی که درباره یوسف و زلیخا شهادت داد و جبرئیل را ...
      متن سخنرانی استاد انصاریان در مورد امام علی (ع)
      متن سخنرانی استاد انصاریان در مورد حجاب
      عکس/ پرچم گنبد حرم مطهر امام حسین(ع)
      مطالب ناب استاد انصاریان در «سروش»، «ایتا»، «بله» و ...
      استاد انصاریان: لقمه حلال نسخه شفابخش همه بیماری ها و ...
      استاد انصاریان: کنار اسلام دین‌سازی نکنید/ داروی حل ...
      اعلام برنامه سخنرانی استاد انصاریان درماه شعبان ...
      نگاهی به کتاب «تواضع و آثار آن» اثر استاد انصاریان
      استاد انصاریان: دعا عامِل رفع گرفتاری‌ها، سختی‌ها و ...

 
user comment