বাঙ্গালী
Wednesday 16th of October 2019
  3619
  0
  0

কারবালার পর হযরত যয়নাবের(সাঃআঃ)অসীম সাহসিকতার প্রচন্ড বিস্ফোরন

মহিয়সী নারী হযরত যয়নাব(সাআ) এবং ইমাম জয়নুল আবেদীন ( আঃ) আশুরার বিপ্লবের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেন । কারবালার অমানবিক নিষ্ঠুর অত্যাচার অবিচারের কাহিনী জনসাধারণের কাছে তুলে ধরেন । ইসলামের বিপ্লবী বার্তাবাহক হযরত জয়নাব(আঃ) যদি না থাকতেন তাহলে কারবালার আত্মত্যাগের কাহিনী মানুষের কাছে অজানা থেকে যেত । হাল মিন নাসেরিন ইয়ানসুরনাঅর্থাৎ আমাদের সাহায্য করার কেউ আছে কি ? ইমাম হোসাইনের এই কালজয়ী আহবানকে বাস্তবে রুপ দিয়েছিলেন হযরত যয়নাব(সা আ)।
ইমাম হোসাইন (আঃ) পর আর কারো সাহস ছিল না উমাইয়াদের মুখোশ উন্মোচন করার মতো। কেবলমাত্র হযরত যয়নাব (আঃ)ই উমাইয়া শাসকদের অন্যায়গুলোকে ফাঁস করেন যে মহীয়সী মহিলার অসম সাহসিকতা ও নিরভিকতা আজও বিশ্বের মানুষের জন্য বিশাল শিক্ষার বিষয়।হযরত যয়নাবের মিশন তাঁর প্রানপ্রিয় ভাইয়ের মিশন অপেক্ষা আরো অধিক ভারী এবং দুঃসহ ছিল।যাঁরা বাতিলের মোকাবেলায় লড়াই করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন,তাঁরা জীবনের একটি মহত্তর লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছেন মাত্র,কিন্তু যাঁরা বেঁচে ছিলেন তাঁদের দায়িত্ব ছিল আরো কঠিন।ক্ষমতাসীন ও নিষ্ঠূর লোকদের দাসত্বের শৃ্ংখলাবদ্ব চর,হত্যাকারী ও স্বৈরাচারের সামনে তিনি শান্তভাবে ঘোষনা করলেনঃহে খোদা!আপনি আমাদের পরিবারের প্রতি যে উদারতা ও মহানুভবতা দেখিয়েছেন সেজন্য আপনার প্রতি জানাই শুকরিয়া।আপনি(আমাদের পরিবারকে) দিয়েছেন নবুওয়াতের সম্মান এবং শাহাদাতের সম্মান
যে শহীদদের বাকশক্তি হত্যাকারীরা চিরদিনের জন্য স্তব্ধ্ব করে দিয়েছে,হযরত যয়নাব(সাআ)বেঁচে ছিলেন সেই শহীদদের না বলা কথাগূলো বলার জন্য।যদি রক্তদানের পর শহীদদের বানী প্রচারিত না হয়,তবে ইতিহাসে তাঁদের বানী অকথিত থেকে যেত।যদি শহিদী রক্ত সকল বংশধরকে বানী পৌছিয়ে না যায় তবে হত্যাকারী কোন সময়ে অথবা যুগে বন্দি করবে।যদি তিনি(সাআ)কারবালার বানী না পৌছাতেন,তবে কারবালা নীরব হয়ে যেত এবং যাদের এ বানী প্রয়োজন তারা তা পেত না।
একারনেই হযরত যয়নাবের(সাআ) মিশন ছিল অনেক ভারী ও কঠিন ছিল।তাঁর বানী হচ্ছে সকল মানুষের জন্য-যাঁরা হযরত হোসাইনের(আ) ইন্তেকালে কান্নাকাটি করেছেন তাঁদের প্রতি,তাঁর আদর্শের প্রতি অনুরাগীদের প্রতি,শ্রদ্বাশীল তাঁদের প্রতি, যাঁরা ইমাম হোসাইনের(আ)মতো জীবন ঈমান ও জিহাদ ছাড়া আর কিছুই নয়’-এ কথার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তাঁদের প্রতি।হযরত যয়নাবের(সাআ) বানী হচ্ছে-আপনারা যাঁরা এ পরিবারের অরথাত হযরত আলীর(আঃ) পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা এ পরিবারকে সম্মান ও মান্য করেন,আপনারা যাঁরা রাসুলের(সাঃ) মিশনের প্রতি ঈমান স্থাপন করেছেন,আপনাদের অবশ্যই চিন্তা করতে হবে এবং সত্যকে বেছে নিতে হবে।আপনারা যে যুগে,যে বংশ পরম্পরায় এবং যে দেশেই থাকুন না কেন আপনাদের অবশ্যই কারবালার শহীদদের বানী স্মরন করতে হবে
কুফায় হযরত যয়নাব(আঃ)এর ভাষন-পৈশাচিক অপরাধের অচেতনতা থেকে চেতনা লাভঃ
হযরত যয়নাব কুফাবাসীকে সম্বোধন করে প্রাঞ্জল ভাষায় যে জ্বালাময়ী ভাষন দেন তা মানবজাতির ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপুরন ভাষন সমুহের অন্যতম।তিনি বলেনঃ হে জনগন!হে বাহানার আশ্রয়গ্রহনকারীগন!হে প্রতারনার আশ্রয়গ্রহনকারীগন!তোমরা আমাদের জন্য ক্রন্দন করছো;তোমাদের চোখের অশ্রু প্রবাহ যেন বন্দ না হয়,তোমাদের বিলাপ যেন নীরব না হয়ে যায়।তোমরা হচ্ছো সে নারীর সমতুল্য যে তার সুতাকে মজবুত বুননে গেঁথে দেবার পর আবার তা খুলে ফেলেছিল,তারপর তার প্রতিটি তন্তুকে আলাদা করে ফেলেছিল।তোমরা তোমাদের ঈমানের সুত্রকে ছিন্ন করে ফেলেছো এবং তোমাদের মুল কুফরে ফিরে গিয়েছ। তোমরা কি তোমাদের শপথের ব্যাপারে প্রতারনা ও বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাও?তোমাদের কাছ থেকে মিথ্যা দাবী,রিয়াকারী কলুষতা,চাটুকারিতা,হীনতা-নীচতা আর কথার ফুলঝুরি ছাড়া আর কিছুই আশা করা যায়না।হে লোকেরা! তোমরা আবর্জনার স্তুপে জন্মগ্রহনকারী উদ্ভিদের ন্যায় অথবা এমন রৌপ্য ও চক-পাথর সমতুল্য যার ওপরে আলকাতরা লেপন করা হয়েছে।আর তোমাদের পরকালের জন্য খুবই খারাপ পাথেয় প্রেরন করেছ।তোমাদের উপর আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিপতিত হোক।তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব প্রস্তুত হয়ে আছে যেখানে তোমরা চিরদিন থাকবে।হে কুফাবাসী!তোমরা কি আমাদের জন্য ক্রন্দন ও বিলাপ করছো?আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি তোমরা অনেক বেশী কাঁদো এবং খুব কম হাসো।কারন তোমরা নিজেদের জন্য চিরন্তন অপরাধ ও লজ্জাবোধ রেখে এসেছো এবং চিরন্তন লাঞ্ছনা খরিদ করছো।তোমরা কোনোদিনই নিজেদের থেকে এ লাঞ্ছনা দূর করতে সক্ষম হবে না।আর কোন পানি দ্বারাই তা ধুয়ে সাফ করতে পারবে না।তোমরা কি দিয়ে(এ লাঞ্ছনা ও লজ্জাকে) ধুয়ে ফেলবে?কোন কাজের দ্বারা এর ক্ষতিপুরন করবে?হোসাইন হচ্ছেন খাতামুন্নাবিয়্যিনের কলিজার টুকরা,বেহেশ্তের যুবকদের নেতা;তোমরা তাঁকেই হত্যা করেছো।তিনি ছিলেন তোমাদের সেরা মানুষদের আশ্রয়স্থল।যে কোন অবস্থায়,যে কোন ঘটনায় তোমরা তাঁর নিকট আশ্রয় নিতে;তিনি তোমাদের ঐতিহ্যকে বাস্তবায়ন করতেন।তোমরা তাঁর নিকট থেকে ধর্ম ও শরীয়তের শিক্ষা গ্রহন করতে।হে লোকেরা!তোমরা অত্যন্ত খারাপ ধরনের পাপাচারে জড়িয়ে পড়েছ।আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে গিয়েছ।তোমাদের চেষ্টা-সাধনায় আর কি ফায়দা!তোমরা দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষতিতে নিমজ্জিত হয়েছ। তোমরা আল্লাহর আযাবের উপযুক্ত হয়ে গেছো এবং তোমাদের নিজেদের জন্য নিকৃ্ষ্ট আবাসস্থল ক্রয় করেছ।তোমাদের জন্য আফসোস,হে কুফার জনগন!তোমরা হযরত রাসুল্লাহর(সাঃ) কলিজার টুকরাকে ছিন্নভিন্ন করেছো এবং তাঁর পরিবারের পর্দানসীনা নারীদেরকে পর্দার বাইরে নিয়ে এসেছো। আল্লাহতায়ালার মনোনীত ব্যাক্তির (রাসুল সাঃ এর)সন্তানদের থেকে কতই না রুধির প্রবাহিত করেছ!হে জনগন!তোমরা অত্যন্ত নিকৃ্ষ্ট ও জঘন্য কাজ করেছ-যার কদর্যতা আসমান ও জমিনকে আবৃত করে ফেলেছে।তোমরা কি এতে বিস্মিত হয়েছ যে,আসমান থেকে রক্ত বৃষ্টি হয়েছে!অবশ্য আখেরাতের শাস্তি তোমাদেরকে অধিকতর লাঞ্ছিত করবে এবং তখন কেউ তোমাদের সাহায্য করতে পারবে না।আল্লাহতায়ালা যে অবকাশ দিয়েছেন,সে কারনে তোমাদের আরামে নিঃশ্বাস ফেলার কোন কারন নেই ।কারন আল্লাহতায়ালা পাপাচারীদের শাস্তিদানের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করেন না এবং কালের প্রবাহে প্রতিশোধ গ্রহনের বিষয়টি পিছিয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হন না।তোমাদের রব পাপাচারীদের প্রতি দৃষ্টি রাখছেন

হযরত যয়নাব(আঃ)এর এ ভাষন কুফার জনগনের অন্তরে তীব্র দংশন সৃষ্টি করে;তারা বুঝতে পারে যে,তারা এমন এক পৈ্শাচিক অপরাধ করেছে মানবজাতীর ইতিহাসে যার দৃষ্টান্ত নেই।এ ভাষন তাদের অচেতন অবস্থা থেকে সচেতন করে তোলে।ফলে অচিরেই ইয়াযিদী জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্বে বিপ্লব সংগঠনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।পরবরতীকালে মুখতারের অভ্যুথাননামে খ্যাত অভ্যুথানের প্রচন্ড আঘাতে জালিমদের প্রাসাদ ধসে পড়ে।
ইবনে যিয়াদের সাথে বিতরক-কারবালার বার্তাবাহক হযরত যয়নাবের(আঃ) অসীম সাহসিকতার প্রচন্ড বিস্ফোরনঃ
হযরত যয়নাবসহ(আঃ) আহলে বাইতের বন্দিদেরকে কুফায় ইয়াযীদের নিয়োজিত আমীর ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে হযরত যয়নাব ও ইবনে যিয়াদের মধ্যে বাকযুদ্ব সংগঠিত হয় কার্যত তাতেই ইবনে যিয়াদের পতন নিশ্চিত হয়ে যায়।কারন,হযরত যয়নাব তাকে চরম্ভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং তার স্বরুপ সর্বসমক্ষে উন্মুক্ত করে দেন।ফলে মনের দিক থেকে সকলেই তাঁর বিরুদ্বে চলে যায়।ইবনে যিয়াদ যয়নাবকে চিনতে পেরে তাঁকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে।ইবনে যিয়াদ বলেঃসকল প্রশংসা আল্লাহর,যিনি তোমাদের লাঞ্ছিত করেছেন এবং তোমাদের পুরুষদের হত্যা করেছেন,আর তোমাদের বাগাড়ম্বরকে মিথ্যা প্রমান করেছেন
সাথে সাথেই হযরত যয়নাব উত্তর দিলেনঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর,যিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ(সাঃ)এর বদৌলতে আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন এবং আমাদের সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করেছেন(সুরা আহযাবঃ৩৩)।
অবশ্যই ফাসেক লাঞ্ছিত হবে এবং ফাজের (পাপাচারী) মিথ্যা বলছে;আর সে ব্যক্তি আমরা ছাড়া অন্য।তাই সকল প্রশংসা আল্লাহর
ইবনে যিয়াদ এধরনের জবাবের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলনা।তাই এভাবে লাঞ্ছিত হয়ে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং হযরত যয়নাবকে যে কোনভাবে লাঞ্ছিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।এবার ইবনে যিয়াদ নতুন করে বিদ্রুপবান ছুড়ে দিলঃআল্লাহ তোমার ভাইয়ের সাথে যে আচরন করলেন তা কেমন দেখলে?সে খলিফা ইয়াযিদের বিরুদ্বে বিদ্রোহ করেছিল ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল,তাই আল্লাহ তাকে হতাশ করলেন এবং ইয়াযিদকে সাহায্য করলেন
জবাবে হযরত যয়নাব বললেনঃআমরা এতে উত্তম ছাড়া কিছু দেখিনি।আল্লাহতায়ালা আমার ভাইকে শাহাদাতের মর্যাদায় পৌছিয়ে তাকে সম্মানিত করেছেন।আমার ভাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের অধিকারী হয়েছেন,আর তা হচ্ছে তাঁর রাস্তায় নিহত হওয়া।আল্লাহর পক্ষ থেকে এর চেয়ে উত্তম কেনা-বেচা আর কি হতে পারে?আল্লাহ তাদের জন্য শাহাদাত নিরধারন করে দিয়েছিলেন।তোমাকে এবং তুমি যাঁদেরকে হত্যা করেছ তাঁদেরকে খুব শীঘ্রই আল্লাহতায়ালা বিচারের জন্য হাজির করবেন।অতএব জবাব দেবার জন্য প্রস্তুত হও।কি জবাব দেবে সেদিন?সেদিনের জন্য উদ্বিগ্ন হও।কে সেদিন জয়ী ও সফল হবে,হে যেনাকারিনীর পুত্র’(ঐতিহাসিকগন সবাই একমত যে ইবনে যিয়াদ ছিলেন তার মায়ের যারজ সন্তান)।

এতে ইবনে যিয়াদ তীরবিদ্ব নেকড়ের মত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।কিন্তু দেয়ার মত কোন জবাব তার কাছে ছিল না।তাই চরম নির্লজ্জতার সাথে সে বললঃআমার অন্তর শীতল হয়েছে,আমি খুশী হয়েছি।কারন,আমি যা চেয়েছি তা পেয়েছি
জবাবে হযরত যয়নাব বললেনঃতুমি দুনিয়ার দ্বারা নেশাগ্রস্ত,প্রতারিত ও ফিতনাহগ্রস্ত।কিন্তু তোমার এ আধিপত্য টিকে থাকবে না,বরং শীঘ্রই বিলুপ্ত হবে।তুমি কি মনে করেছ যে হোসাইনের পরে তুমি আনন্দের সাথে পৃ্থিবীতে চিরদিন টিকে থাকবে?তুমি কি মনে করেছ যে,স্বস্তিতে থাকবে?কখনো নয়;তুমি স্বস্তির মুখ দেখবে না।তুমি তোমার অভীষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হতে পারবে না।হে ইবনে যিয়াদ! তুমি নিজ হাতে নিজের উপর যে কলঙ্ক লেপন করেছ তা অনন্তকাল পর্যন্ত থেকে যাবে
এতে দিশেহারা,অস্থির ও ক্ষিপ্ত হয়ে ইবনে যিয়াদ চিৎকার করে উঠলোঃআমাকে এ নারীর হাত থেকে মুক্তি দাও;ওদেরকে কারাগারে নিয়ে যাও
জ্ঞানের নগরীর অলংকার হযরত যয়নাব (সা আ)-ইয়াযিদের দরবারেঃ
হযরত যয়নাবসহ বন্দিদেরকে ইয়াযিদের দরবারে হাজির করার আগেই ইয়াযিদের সামনে হযরত ইমাম হোসাইনের(আঃ) কর্তিত মাথা পেশ করা হয়।বন্দিরা যখন দরবারে প্রবেশ করে তখন ইয়াযিদ ও তার পরিষদবরগ হাসি-ঠাট্টায় মশগুল ছিল।হযরত ইমামের শিরের প্রতি চোখ পড়তেই নিজের অজান্তেই ফরিয়াদ করে উঠেনঃ হায় আমার প্রিয়!হায় মক্কা তনয়ের অন্তরের ফসল!হায় মুস্তাফা-তনয়ার পুত্র!.............
হযরত যয়নাবের গগন বিদারী ফরিয়াদে মুহুর্তের মধ্যে ইয়াযিদী মজলিসের হাসি-আনন্দ নিভে যায়।ইয়াযিদ কুরানের অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়।অতপর হযরত যয়নাব ও ইয়াযিদের মধ্যে কিছুক্ষন বাকযুদ্ব চলে এবং এ বাকযুদ্বে হযরত যয়নাবের কথায় ইয়াযিদ চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়।ইয়াযিদের দরবারে হযরত যয়নাবের ভাষনের কিছুটা অংশ নিম্নরুপঃ
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা রাসুলিহি ওয়া আলিহি আজমাঈন।পরম প্রমুক্ত আল্লাহতায়ালা সত্য বলেছেন।যারা খারাপ কাজ করেছে তাদের পরিনতি এই হয়েছে যে,তারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করেছে এবং তা নিয়ে উপহাস করেছে।হে ইয়াযিদ! তুমি কি মনে করেছ যে,তুমি এমনভাবে আমাদের জন্য ভু-পৃষ্ঠের সকল জায়গাকে ও আকাশের দিগন্তসমুহকে রুদ্ব করে দিয়েছ যে, অতপর আমরা ক্রীতদাস-দাসীদের মতো অসহায় হয়ে পড়েছি এবং এজন্যই যেদিকে খুশী টেনে নিয়ে যাচ্ছ?তুমি কি মনে করেছ যে,আমরা আল্লাহর নিকট তুচ্ছ,আর তুমি সম্মানিত এবং আমাদের ওপরে তোমার বিজয়ের কারনে তুমি তাঁর নিকট মর্যাদার অধিকারী?এ কারনে কি তুমি তোমার নাসিকা উঁচু করেছ ও অহঙ্কার করেছ এবং আনন্দে আত্নগৌ্রব করছো যেন গোটা পৃথিবী তোমার ধনুকের আওতার মধ্যে এবং তোমার সকল কাজকর্মকে সুন্দর ও চমৎকার মনে করছো?আমাদের শাসন-কতৃ্ত্ব(তোমার হাতে গিয়ে)তোমাকে সুখে নিমজ্জিত করেছে;ধীরে ধীরে তুমি মহিমান্বিত মহাপ্রতাপশালী আল্লাহর সেই বানী ভুলে গিয়েছঃকাফেররা যেন মনে না করে যে,আমরা যে তাদেরকে অবকাশ দিয়েছি তা তাদের নিজেদের জন্য কল্যানকর।বরং আমরা তাদেরকে এজন্যই অবকাশ দিচ্ছি যাতে তাদের পাপসমুহ বৃ্দ্বি পায় এবং তাদের জন্য অপমানজনক শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়(সুরা আলে-ইমরানঃ১৭৮)।………..
মনে রেখ,জালেমদের ওপর আল্লাহর লানত।অতএব,সমস্ত প্রশংসা জগতসমুহের রব আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের অগ্রবর্তীদের জন্য সৌভাগ্য ও ক্ষমার পরিনতি দিয়েছেন এবং আমাদের মধ্যকার অনুবর্তীদেরকে শাহাদাত ও রহমতের পরিনতি দিয়েছেন। আমরা আল্লাহর নিকট দোয়া করি,তিনি তাদের শুভ প্রতিদান পুরন করে দিন এবং তাঁদেরকে(স্বীয় অনুগ্রহ) বৃ্দ্বি করে দিন এবং আমাদেরকে তাঁদের যোগ্য উত্তরাধিকারী করুন।অবশ্যই তিনি দয়াবান,প্রেমময়।আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম অভিভাবক তিনি……………

হযরত যয়নাবের(সাআঃ) এ ভাষন ইয়াযিদের পরিষদবর্গের অনেকের মধ্যেই ভাবান্তর সৃষ্টি করে।পরে এ ভাষন তাদের মাধ্যমে দামেশকের জনগনের মধ্যে এবং অচিরেই তৎকালীন মুসলিম জাহানের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ও বিশাল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।কারবালার ঘটনার ১০ বছরের মধ্যে হযরত ইমাম হোসাইনের(আঃ) হত্যার প্রতিশোধ গ্রহনের লক্ষ্যে উমাইয়া শাসনের বিরুদ্বে অভ্যুথানসহ বহু বিদ্রোহ ও অভ্যুথান সংঘটিত হয়।শুধু আরব উপদ্বীপেরই ৪ লক্ষ লোক ইমাম হোসাইনের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহনের জন্য অভ্যুথান করে।বস্তুত হযরত যয়নাব(সা আ) ভাষনই উমাইয়া শাসনের ভিত্তি ধ্বংশের পথ উন্মুখ করে।


source : tvshia.com
  3619
  0
  0
امتیاز شما به این مطلب ؟

latest article

      দাহউল আরদের ফজিলত ও আমল
      ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ
      ভাগ্যে বিশ্বাস
      ইতিহাসের পাতায় : সাতই মহররম
      আহকাম বা বিধিবিধান জানার পথ
      হাদীসের দৃষ্টিতে হযরত আলী (আ.) এর ইমামত
      মার্কিন নও মুসলিম শ্যান ক্রিস্টোফার ...
      মিরাজ
      ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবনী-৯ম পর্ব
      ইমাম জাফর সাদেক (আ) : জ্ঞান ও নীতির ...

 
user comment